
অসুস্থ হলে যেসব দোয়া পড়বেনঃ ইসলামে এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। এই ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রক্তের নয়, বরং ইমানের। সেই ভ্রাতৃত্বের খাতিরেই একজন মুসলমান অসুস্থ হলে অপর মুসলমানের ওপর কিছু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও কর্তব্য বর্তায়। এই দায়িত্ব পালন করা একদিকে যেমন সামাজিক সম্পর্ককে মজবুত করে, তেমনি এটি আমাদের জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতার দোয়া ও জান্নাতে বাগান লাভের পথ খুলে দেয়।
অসুস্থ ব্যক্তির প্রতি মুমিনের দায়িত্ব
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এক মুসলিমের প্রতি অপর মুসলিমের হক পাঁচটি—১. সালামের জবাব দেওয়া, ২. অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজখবর নেওয়া (দেখতে যাওয়া), ৩. জানাজার অনুগমন করা, ৪. দাওয়াত কবুল করা, ৫. হাঁচির জবাব দেওয়া।’ (সহিহ বুখারি: ১২৪০)
রোগী দেখতে যাওয়া শুধু দায়িত্বই নয়, এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। পবিত্র হাদিস থেকে জানা যায়, কেউ সকালে বা বিকেলে অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন এবং জান্নাতে তার জন্য একটি বাগান তৈরি করা হয়।
রোগীকে সান্ত্বনা দেওয়া ও ইমানি বার্তা
রোগীকে দেখতে গেলে তাকে সান্ত্বনা দেওয়া এবং হতাশ না করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নাহ। এ সময় রোগীকে ভয় না দেখিয়ে তার গুনাহ মাফের ইমানি বার্তা দেওয়া উচিত।
হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, অসুস্থ ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে রাসুল (সা.) এই দোয়াটি পড়তেন—‘লা বা-সা তাহুরুন ইনশা আল্লাহ।’ অর্থ: ‘তোমার চিন্তার কোনো কারণ নেই। ইনশা আল্লাহ তুমি সুস্থ হয়ে যাবে।’ (সহিহ বুখারি: ৭৪৭০)
মনে রাখতে হবে, মুমিন ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হলে আল্লাহ তাকে গুনাহ থেকে এমনভাবে পরিচ্ছন্ন করেন, যেমন হাপর লোহাকে পরিচ্ছন্ন করে। রোগ-ব্যাধি মুমিনের গুনাহের কাফফারা হয়, এমনকি একটি কাঁটা বিঁধলেও।
নিকটাত্মীয় ও অসুস্থ প্রিয়জনের জন্য পাঠ করার দোয়া
অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে গেলে রাসুলুল্লাহ (সা.) একাধিক দোয়া পাঠ করতেন, যা রোগীর আরোগ্য লাভের জন্য আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা।
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন, তখন তিনি তার সুস্থতার জন্য এই দোয়া পড়তেন—‘আজহিবিল বাসা রাব্বান-নাস, ইশফি ওয়া আনতাশ-শাফি, লা শিফাআ ইল্লা শিফাউকা, শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাকামা।’
অর্থ: ‘কষ্ট দূর করে দিন হে মানুষের রব, শেফা দান করুন। আপনিই একমাত্র শেফা দানকারী। আপনার শেফা ছাড়া অন্য কোনো শেফা নেই। এমন শেফা দান করুন, যা সামান্য রোগকেও অবশিষ্ট রাখবে না।’ (সহিহ বুখারি)
ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, অসুস্থ ব্যক্তির সামনে সাতবার এই দোয়াটি পড়লে আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে মুক্তি দান করেন, যদি না তার জীবনের শেষ সময় উপস্থিত হয়—‘আস্আলুল্লাহাল আজিম, রব্বাল আরশিল আজিম, আই ইয়াশ্ফিয়াকা।’ অর্থ: ‘আমি মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি—যিনি মহান আরশের রব, তিনি যেন আপনাকে আরোগ্য দান করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)
সুস্থতা-অসুস্থতা দুটোই আল্লাহর নিয়ামত। অসুস্থতার মাধ্যমে মুমিনের গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী, বন্ধুবান্ধব অসুস্থ হলে তাদের খোঁজখবর নেওয়া, তাদের সান্ত্বনা দেওয়া এবং ওপরে উল্লিখিত দোয়াগুলো পাঠ করা আমাদের নৈতিক ও ইমানি কর্তব্য।

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ছোট-বড় অনেক গুনাহ হতে পারে। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তওবাকারী বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আপনি যদি আপনার পাপ মোচন করতে চান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করতে পারেন।
৩০ মিনিট আগে
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি (রহ.) এক কিংবদন্তি পুরুষ। একটি শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সত্যের সন্ধানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
১ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো।
১ ঘণ্টা আগে