
শেষ রাতে আরামদায়ক বিছানার প্রতি বাড়ে প্রবল আকর্ষণ। এই সময়ে ঘুমের ঘোর ভেঙে জেগে ওঠা যে কারও জন্যই কষ্টসাধ্য। ঠিক এই মুহূর্তে ফজরের নামাজ একজন মুমিনের ইমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শীতের ভোরে অজু-গোসলের কষ্ট আর বিছানার মোহ ত্যাগ করা, সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন-
শীতের কষ্ট উপেক্ষা করে যে ব্যক্তি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে, সে-ই প্রকৃত অর্থে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। হাদিসে কুদসিতে এসেছে, ‘আল্লাহ তাআলা সেই বান্দার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও বিস্মিত হন, যে শীতের রাতে আরামদায়ক বিছানা ছেড়ে শুধু নামাজের জন্য উঠে দাঁড়ায়।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২৩৮০২)। তাই শীতের সকালে ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য যে ব্যক্তি কনকনে ঠান্ডায় অজু করে আল্লাহর সান্নিধ্যে দাঁড়ায়, আল্লাহ তার জীবনকে বরকত ও শান্তিতে ভরে দেন।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘...আর ফজরের নামাজ; নিশ্চয়ই ফজরের নামাজ পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ৭৮)।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কাছে রাতে একদল ফেরেশতা এবং দিনে একদল ফেরেশতা (পালাক্রমে) যাতায়াত করেন। তাঁরা ফজরের নামাজ এবং আসরের নামাজের সময় একত্র হন। যদিও তিনি বান্দাদের সম্পর্কে তাঁদের চেয়েও ভালো জানেন, তবু তোমাদের কাছে রাত যাপনকারী ফেরেশতারা যখন আল্লাহর দরবারে ফিরে যান, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, ‘তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এলে?’ ফেরেশতারা তখন উত্তরে বলেন, ‘আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখন তারা নামাজরত ছিল, আবার যখন তাদের ছেড়ে এলাম তখনো তারা নামাজরত ছিল।’
হাদিসে এসেছে, ‘ফজরের দুই রাকাত (সুন্নত) নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম: ৭২৫)। শুধু সুন্নতের মর্যাদা যদি এত বেশি হয়, তবে ফরজ নামাজের গুরুত্ব ও সওয়াব যে কত মহান, তা সহজেই অনুমেয়।

একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৪ ঘণ্টা আগে
জীবন চলায় বিপদ বা সমস্যা কখনো বলে আসে না। যেকোনো মুহূর্তে মানুষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে। অনেক সময় আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি, ধৈর্য হারিয়ে ফেলি। কিন্তু ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে—কীভাবে বিপদে ধৈর্য ধরে আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে হয়।
১ দিন আগে
ব্রিটিশ ভারতের প্রখ্যাত হানাফি আলেম, হাদিস বিশারদ ও আধ্যাত্মিক সাধক মাওলানা খলিল আহমাদ সাহারানপুরি (রহ.) ছিলেন দেওবন্দি আন্দোলনের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম প্রাণপুরুষ। তাঁর জ্ঞান ও পাণ্ডিত্যের সুবাস আজও সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ছড়িয়ে আছে।
১ দিন আগে
শুকনো বালির রাজ্যে দিগন্তরেখা পর্যন্ত কেবল ধু-ধু প্রান্তর। ধূসর পাহাড় আর রুক্ষ পাথুরে মাটির বুক চিরে এঁকেবেঁকে চলে গেছে পথ। সেই পথে হেঁটে চলেছে একদল মুসাফির। তাঁরা প্রিয় নবী (সা.)-এর শহর মদিনার উদ্দেশ্যে হিজরত করছে। তাঁদের গোত্রের নাম আশআরি। তাঁদের নেতৃত্বে আছেন হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.)।
১ দিন আগে