Ajker Patrika

তায়াম্মুম করার সঠিক নিয়ম ও বিধান

মুফতি শাব্বীর আহমদ
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮: ০৫
তায়াম্মুম করার সঠিক নিয়ম ও বিধান
প্রতীকী ছবি

ইসলামে দৈহিক পবিত্রতা অর্জনের মূল পদ্ধতি অজু ও গোসল। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে পানির বিকল্প হিসেবে পবিত্র মাটি বা মাটিজাত উপাদান দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের বিধানকে তায়াম্মুম বলা হয়।

তায়াম্মুম কখন জায়েজ?

অজু বা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। নিচের পরিস্থিতিগুলোতে পানি ব্যবহারে অক্ষম হলে তায়াম্মুম করা জায়েজ: ১. পানির দূরত্ব: পানি ১ মাইল বা তার বেশি দূরে থাকলে। ২. অসুস্থতা: পানি ব্যবহার করলে প্রাণহানি, অঙ্গহানি বা মারাত্মক রোগ বাড়ার আশঙ্কা থাকলে। ৩. পানির সংকট: অজু-গোসল করলে পান করার পানির অভাব হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে। ৪. ব্যবস্থার অভাব: কূয়া বা উৎস থেকে পানি তোলার কোনো সরঞ্জাম না থাকলে। ৫. নিরাপত্তা: পানির উৎসে যাওয়ার পথে শত্রু বা হিংস্র পশুর আক্রমণের ভয় থাকলে। ৬. জানাজা বা ঈদ: অজু করতে গেলে জানাজা বা ঈদের নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে।

তায়াম্মুম শুদ্ধ হওয়ার শর্ত ও ফরজ

তায়াম্মুমের ৩টি শর্ত: ১. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা। ২. পবিত্র মাটি বা মাটিজাত দ্রব্য (বালু, পাথর, ধুলা) ব্যবহার করা। ৩. মাসেহ করার অঙ্গে মোম বা প্রসাধনীর মতো কোনো প্রতিবন্ধকতা না থাকা।

তায়াম্মুমের ফরজ ২টি: ১. একবার পুরো মুখমণ্ডল মাসেহ করা। ২. উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করা।

তায়াম্মুম করার নিয়ম

হাতের কাপড় কনুইয়ের ওপর পর্যন্ত উঠিয়ে নিন। মনে মনে পবিত্রতার নিয়ত করে ‘বিসমিল্লাহ’ পড়ুন। দুই হাতের আঙুল ফাঁকা রেখে পবিত্র মাটির ওপর তালু রাখুন এবং সামান্য ঘষুন। হাত উঠিয়ে সামান্য ঝেড়ে নিয়ে পুরো মুখমণ্ডল একবার মাসেহ করুন। পুনরায় একইভাবে মাটির ওপর হাত রেখে সামান্য ঘষুন। বাম হাত দিয়ে ডান হাতের আঙুল থেকে কনুই পর্যন্ত এবং ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কনুই পর্যন্ত মাসেহ করুন।

তায়াম্মুম ভেঙে যাওয়ার কারণ

যেসব কারণে অজু ভেঙে যায়, সেসব কারণে তায়াম্মুমও নষ্ট হয়। এ ছাড়া পানি ব্যবহারে সক্ষম হলে বা যে সমস্যার কারণে তায়াম্মুম করা হয়েছিল, তা দূর হয়ে গেলে তায়াম্মুম ভেঙে যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত