ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিশাপুর শহরের উপকণ্ঠে, বিনালুদ পর্বতমালার দক্ষিণ পাদদেশে এক উর্বর ও সবুজ সমভূমিতে অবস্থিত একটি গ্রাম—চুবিন। ফারসি শব্দ চুবিন অর্থ হলো কাঠের তৈরি। নামটির সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যায় গ্রামটিতে প্রবেশ করলেই; কারণ এখানকার প্রায় প্রতিটি স্থাপনা তৈরি হয়েছে কাঠ দিয়ে। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী আর এই অঞ্চলের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মিশেল ঘটেছে এখানে। এই গ্রামটিতে রয়েছে একটি অসাধারণ কাঠের মসজিদ। সঙ্গে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি, জাদুঘর, রেস্তোরাঁ এবং ঐতিহ্যবাহী রুটি তৈরির দোকান।
বিচিত্র আকৃতিতে নির্মিত মসজিদ
চুবিন গ্রামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এই নয়নাভিরাম মসজিদটি দূর থেকে দেখলে মনে হয় একটি বিশাল জাহাজ উল্টে রাখা হয়েছে। প্রায় ২০০ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই মসজিদের ছাদটি ঢালু আকৃতির। এর দুই পাশে রয়েছে ১৩ ফুট উচ্চতার দুটি মিনার, যার প্রতিটির ওজন প্রায় ৪ টন। এই মসজিদটি কেবল ইরানেই নয়, বরং পুরো বিশ্বেই অনন্য। এর নির্মাণশৈলী এমন যে এটি রিখটার স্কেলে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প অনায়াসেই সহ্য করতে পারে। প্রায় ৪০ টন কাঠ ব্যবহার করে দুই বছর সময় নিয়ে এই শৈল্পিক ইবাদতখানাটি নির্মাণ করা হয়েছে।
মাকড়সার জালের বুননশৈলী
মসজিদটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এর ভেতরে কোনো খুঁটি বা পিলারের ব্যবহার নেই। এর মিনারগুলো ছাদের সঙ্গে এমনভাবে যুক্ত করা হয়েছে যে পুরো স্থাপনার ওজন সমানভাবে দেয়াল হয়ে মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। স্থপতিরা একে ‘স্পাইডারি ওয়েব’ বা মাকড়সার জালের মতো বুননশৈলী বলে অভিহিত করেছেন।
মিনারগুলোর ভেতরে মই দিয়ে ওপরের অংশে যাওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে। মিনার ও ছাদের সংযোগস্থলে বিশেষ জানালা রাখা হয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে মসজিদের ভেতরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে। গ্রীষ্মকালে এটি ভেন্টিলেটর হিসেবে কাজ করে ভেতরের গরম ও দূষিত বাতাস বের করে দেয় এবং ছাদের বিশেষ ডাক্টের মাধ্যমে নির্মল বাতাস ভেতরে নিয়ে আসে।
যেহেতু পুরো স্থাপনাটি কাঠের এবং এলাকাটি উইপোকাপ্রবণ, তাই স্থপতিরা এখানে বিশেষ কারিগরি কৌশল অবলম্বন করেছেন। ভবনটির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং উইপোকার আক্রমণ থেকে বাঁচাতে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ করা কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি ২০ বছর পার হওয়ার পরও এই কমপ্লেক্সের ঘরবাড়িগুলো আজও অক্ষত রয়েছে। তুষারপাত ও বৃষ্টির হাত থেকে বাইরের দেয়ালকে রক্ষা করতেও বিশেষ স্তরের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে।
ভেতরের সৌন্দর্য ও কোরআনের কারুকাজ
মসজিদটির ভেতর ও বাইরের দেয়ালে আখরোট ও তুতগাছের কাঠে বাঁধানো মোট ১৩টি পবিত্র কোরআনের আয়াতের ক্যালিগ্রাফি খোদাই করা হয়েছে। মসজিদের কেবিনেট, দেয়াল, এমনকি রান্নাঘরের ট্রেগুলোও কাঠের তৈরি। এখানকার মেঝেতে পোড়া ইটের ব্যবহার প্রাচীন ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
মসজিদটি নির্মাণে পাইন, তুত, আখরোট, নাশপাতি, চেরি, পপলারসহ বিভিন্ন ফলদ ও বনজ গাছের কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে। রাতের বেলা যখন বিশেষ আলোকসজ্জা করা হয়, তখন কাঠের রঙের সঙ্গে আলোর সুনিপুণ মিতালি এক অপার্থিব পরিবেশ তৈরি করে।
সূত্র: তেহরান টাইমস

পবিত্র কোরআনে সুরা রাহমানে আল্লাহ তাআলা বারবার প্রশ্ন করেছেন, ‘অতএব, তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ জুমার দিনটি মূলত সেই নিয়ামত ও বরকতের এক বিশেষ ভান্ডার। দিনটির প্রতিটি ক্ষণে সাজানো রয়েছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের হাতছানি।
১৭ ঘণ্টা আগে
মানুষকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে। জ্ঞান, বিবেক ও নৈতিকতার মাধ্যমে মানুষ এই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেও তা টিকিয়ে রাখার একমাত্র শর্ত হলো বিনয়। অহংকার ও ক্ষমতার দম্ভ এমন এক মারাত্মক আত্মিক ব্যাধি, যা মানুষের ইমান, চরিত্র এবং মানবিকতাকে কুরে কুরে খায়।
১৮ ঘণ্টা আগে
মসজিদের মিম্বর, মিহরাব এবং দেশজুড়ে আয়োজিত ওয়াজ-মাহফিলগুলো মুসলমানদের দ্বীন, ইমান ও আমল সংশোধনের অন্যতম উৎস। এখান থেকেই প্রতিনিয়ত উচ্চারিত হয় তাওহিদের কালিমা। সমাজ গঠনে এবং মানুষের নৈতিক চরিত্র শুদ্ধিকরণে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।
১৮ ঘণ্টা আগে
হজে নারীদের ঋতুস্রাব বা হায়েজ শুরু হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়। এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়া বা নিজেকে ইবাদত থেকে বঞ্চিত মনে করার কোনো কারণ নেই। শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এ অবস্থায় করণীয় ও বিধানসমূহ নিচে সবিস্তারে আলোচনা...
১৯ ঘণ্টা আগে