আজ মদিনার হাটবার। সবাই ব্যস্ত কেনাকাটায়। বাজারে মানুষ আর মানুষ। বিক্রেতারা বসেছেন সারি বেঁধে। ক্রেতা হাঁটছেন, দেখছেন, পছন্দ হলে কিনছেন। পছন্দ না হলে চলে যাচ্ছেন। এ সবের মাঝে এক খাদ্য বিক্রেতা তাঁর পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন। তাঁর সামনে সাজানো শস্যের স্তূপ—ওপরের অংশ মসৃণ আর ঝকঝকে। দেখলে যেকোনো ক্রেতারই আগ্রহ জন্মাবে। সেই আগ্রহ থেকে অনেকে কিনেও নিচ্ছেন তার কাছ থেকে। চলছে বেচাকেনা।
বাজারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। দেখছিলেন মানুষের ব্যস্ত জীবন। হঠাৎ তাঁর চোখ আটকে যায় সেই খাদ্যশস্য বিক্রেতার কাছে। তাঁর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি পড়ে শস্যের স্তূপের ওপর—মসৃণ আর ঝকঝকে শস্য। তবুও কিছু একটা ধরা পড়ল তার নজরে। তিনি এগিয়ে গেলেন। বিক্রেতাকে কিছু না বলে আলতো করে শস্যের স্তূপের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিলেন। নবী করিম (সা.) তো অবাক! রাগে তাঁর চোখ লাল হয়ে গেল। তিনি দেখলেন, ওপরের শস্যগুলো ভালো হলেও ভেতরেরগুলো ভেজা, সস্তা আর নিম্নমানের।
বিক্রেতা স্বপ্নেও ভাবেনি সে নবী করিম (সা.)-এর কাছে ধরা পড়বে। সে মনে করেছিল, ক্রেতাদের বোকা বানিয়ে এসব বিক্রি করে সন্ধ্যায় পকেট ভারী করে বাড়ি ফিরবে। কিন্তু কথায় তো আছে—সেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই রাত হয়। অসাধু বিক্রেতা ভয়ে গুটিয়ে গেল। দৌড়ে কোন দিক দিয়ে পালাবে—তা ভাবতে ভাবতে সে অস্থির। সে জানে, নবী করিম (সা.) কখনোই অসৎ কাজ পছন্দ করেন না।
নবীজির চোখে এক গভীর বিরক্তি। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বিক্রেতাকে জিজ্ঞেস করলেন—‘এসব কী?’
লোকটি মাথা নিচু করে বলল, ‘ইয়া রাসুলাল্লাহ, বৃষ্টিতে ভিজে গিয়েছিল।’
নবীজি (সা.) বললেন, ‘তবে তুমি ভেতরের ভেজা অংশটুকু ওপরে রাখলে না কেন, যাতে লোকেরা তা দেখতে পায়? তুমি কেন ধোঁকার আশ্রয় নিলে? জেনে রেখো—যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।’
নবী করিম (সা.)-এর এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ল পুরো বাজারে। সব বিক্রেতারা সাবধান হয়ে গেল। তারা বুঝতে পারল—ইসলামে ধোঁকাবাজির কোনো স্থান নেই।
তথ্যসূত্র: সহিহ্ মুসলিম: ১০২

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদের প্রতি রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের আগের লোকদের প্রতি ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)। মুত্তাকি হওয়ার এই মহৎ যাত্রায় সিয়াম ও কিয়ামের পাশাপাশি মানবসেবা একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
১৫ ঘণ্টা আগে
ইসলামি জ্ঞানের মহাসমুদ্রে যারা চিরভাস্বর নক্ষত্রের মতো দিক-নির্দেশনা দিয়ে গেছেন, মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) তাঁদের মধ্যে অন্যতম। বিংশ শতাব্দীতে উপমহাদেশের মুসলিম সমাজ যখন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটে নিমজ্জিত, তখন তিনি জ্ঞানের আলো নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একাধারে বিশ্ববিখ্যাত তাফসির...
১৬ ঘণ্টা আগে
রমজানের রোজা রাখা প্রতিটি সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। কোনো শরয়ি কারণ ছাড়া রোজা ভঙ্গ করা কবিরা গুনাহ। তবে ইসলাম একটি সহজ ও মানবিক জীবনবিধান। তাই বিশেষ কিছু অবস্থায় শরীয়ত রোজা না রাখার বা ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছে।
১৭ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১ দিন আগে