
আবু লাহাব ছিল ইসলামের ঘোর বিরোধী, প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম প্রধান শত্রু এবং মক্কার বিখ্যাত কাফিরদের মধ্যে একজন। ইসলাম প্রচারে বাধা দেওয়া, জুলুম করা, অত্যাচার ও নিপীড়ন চালানোর কারণে বিশ্বের মুসলিমেরা তাকে ঘৃণার চোখে দেখে। কোরআনুল কারিমে তার ধ্বংস ও পরিণতির কথা উল্লেখ করে সুরা লাহাব নাজিল হয়।
নবী (সা.) যখন মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতেন, আবু লাহাব তখন তাঁকে জাদুকর বলে অপবাদ দিত এবং মানুষদের দূরে সরিয়ে রাখত। প্রিয় নবী (সা.) ইসলামের পথে আনার জন্য অনেক চেষ্টা করলেও সে শত্রুতা ও বিরোধিতা চালিয়ে যেত। একবার তিনি (সা.) যখন বাজারে মানুষকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার মাধ্যমে সফলতা অর্জনের আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তখন আবু লাহাব পেছন থেকে পাথর নিক্ষেপ করে তাঁর শরীর মোবারক রক্তাক্ত করে দেয় এবং মানুষকে তাঁকে অনুসরণ করতে বারণ করে।
আবু লাহাবের নির্মম পরিণতি
আবু লাহাব ছিল মক্কার চারজন সম্পদশালী লোকের মধ্যে একজন, কিন্তু সে ছিল অত্যন্ত কৃপণ। ধনসম্পদ জমা করত, কিন্তু কোনো দান-খয়রাত করত না। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় এবং কাফিরদের পরাজয়ের পর সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং বসন্ত রোগে (একধরনের মারাত্মক সংক্রামক রোগ) আক্রান্ত হয়। তার আপন স্ত্রী-সন্তানেরা সংক্রমণের ভয়ে তাকে ঘরে একা ফেলে চলে যায়।
ঘরের মধ্যে তীব্র যন্ত্রণায় কাতরানোর একপর্যায়ে আবু লাহাব মারা যায়। তার মৃতদেহ একা ঘরের মধ্যে পড়ে থাকায় চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা অতিষ্ঠ হয়ে তার এক ছেলের কাছে অভিযোগ করলে, সে কিছু লোক ভাড়া করে। তারা একটি গর্ত খনন করে লাঠি দিয়ে লাশটি সেখানে ফেলে মাটি চাপা দেয় এবং গর্তের মুখ পাথর দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও। তার ধনসম্পদ ও তার উপার্জন তার কোনো উপকারে আসবে না।’ (সুরা লাহাব: ১-২)
আবু লাহাবের স্ত্রীর পরিণতি
আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিলও স্বামীর মতোই খারাপ স্বভাবের এবং নবীজির দুশমন ছিল। সে রাতের আঁধারে নবীজির ঘরের সামনে কাঁটা বিছিয়ে কষ্ট দিত। এ ছাড়া সে মহিলাদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে এবং অন্যের বিরুদ্ধে খেপিয়ে তুলত। একদিন সে কাঠের বোঝা বহন করার পর ক্লান্ত হয়ে পাথরের ওপর বসে বিশ্রাম নিচ্ছিল। সেই সময় একজন ফেরেশতা পেছন থেকে রশি টেনে ধরলে সে পড়ে যায় এবং সে অবস্থাতেই তার মৃত্যু হয়।
আল্লাহ বলেন, ‘অচিরেই সে শিখাবিশিষ্ট জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে এবং তার স্ত্রীও—যে ইন্ধন বহন করে। তার গলদেশে খেজুর বাকলের রজ্জু রয়েছে।’ (সুরা লাহাব: ৩-৫)
নবী (সা.)-কে কষ্ট দেওয়ার কারণে আবু লাহাব ও তার স্ত্রী চিরস্থায়ী জাহান্নামি হয়েছে। তারা জাহান্নামের তলদেশে লেলিহান শিখাযুক্ত আগুনে জ্বলবে।
লেখক: মাওলানা সাইফুল ইসলাম সালেহী, ইসলামবিষয়ক গবেষক

মানুষ হিসেবে আমাদের জীবনে ছোট-বড় অনেক গুনাহ হতে পারে। তবে পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা তওবাকারী বান্দাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। গুনাহমুক্ত জীবন আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত। আপনি যদি আপনার পাপ মোচন করতে চান এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান, তবে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত এই দোয়াগুলো নিয়মিত পাঠ করতে পারেন।
২৯ মিনিট আগে
ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামের ইতিহাসে মাওলানা উবায়দুল্লাহ সিন্ধি (রহ.) এক কিংবদন্তি পুরুষ। একটি শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও সত্যের সন্ধানে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত কাঁপিয়ে দেন।
১ ঘণ্টা আগে
পবিত্র রমজানে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও কামাচার থেকে বিরত থাকা ফরজ। তবে অনেক সময় আমরা ধূমপান বা কয়েল-আগরবাতির ধোঁয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে সংশয়ে থাকি। ইসলামি শরিয়তের আলোকে ধূমপান এবং রোজা ভঙ্গের বিভিন্ন কারণ নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১ ঘণ্টা আগে
খন্দকের ময়দানে তখন চলছে এক মহাকাব্যিক ব্যাকরণ। মুসলমানেরা দিনরাত পরিখা খনন করছেন। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) তাঁর কোদাল নিয়ে গভীর পরিখা খুঁড়ছেন। কিন্তু আজ তাঁর মনটা ভারী। কারণ তিনি দেখলেন, প্রিয় নবীজি (সা.) ক্ষুধার্ত অবস্থায় পেটে পাথর বেঁধে কাজ করছেন। জাবির (রা.)-এর হৃদয় কেঁপে উঠলো।
১ ঘণ্টা আগে