Ajker Patrika

কোরবানির পশু নির্বাচন নিয়ে ইসলামের ৪ নির্দেশনা

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
আপডেট : ২৫ মে ২০২৬, ১১: ২৪
কোরবানির পশু নির্বাচন নিয়ে ইসলামের ৪ নির্দেশনা
কোরবানি উপযুক্ত পশু। ছবি: সংগৃহীত

কোরবানি আল্লাহর পছন্দনীয় আমল। এ জন্য যুগে যুগে পৃথিবীতে আগমনকারী সব উম্মতের ওপর কোরবানির বিধান দেওয়া হয়েছিল। কোরবানি যেহেতু আল্লাহর নামে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে পালন করতে হয়, এ জন্য পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে শরিয়ত কিছু সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে।

  • ১. কোরবানির পশু হতে হবে শরিয়ত অনুমোদিত। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনে ‘বাহিমাতুল আনআম’ বা গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা—এই ছয় শ্রেণির বাইরে হাঁস, মুরগি, হরিণ বা অন্যকোনো বন্য প্রাণী কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। (সুরা হজ: ৩৪)

  • ২. পশুর নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া জরুরি। ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার এক বছর পূর্ণ হতে হবে। তবে ছয় মাস বয়সী এমন ভেড়া বা দুম্বা, যা দেখতে এক বছরের মতো মনে হয়, তা দিয়ে কোরবানি করা যাবে। গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছর এবং উট পাঁচ বছর বয়সী হওয়া আবশ্যক। বয়স পূর্ণ না হলে পশু দেখতে যত ভালোই হোক, কোরবানি সহিহ্ হবে না। (কাজিখান: ৩/৩৪৮)
  • ৩. কোরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। এমন দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না; যে পশুর অধিকাংশ দাঁত পড়ে যাওয়ার কারণে ঘাস চিবিয়ে খেতে পারে না; যে পশুর শিং একদম গোড়া থেকে ভেঙে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; যে পশুর লেজ অথবা কান অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি কাটা; এসব দোষ-ত্রুটিযুক্ত পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে না। (জামে তিরমিজি: ১৪৯৭-১৪৯৮)
  • ৪. যৌথ কোরবানির ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হওয়া যায়। প্রত্যেক শরিকের কোরবানি হালাল সম্পদ থেকে হতে হবে। সবার নিয়ত ইবাদতের হতে হবে। কারও অংশ যদি শুধু গোশত খাওয়া কিংবা ইবাদত ছাড়া অন্য উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে অন্য শরিকদের কোরবানিও সহিহ্ হবে না। (হিন্দিয়া: ৫/৩০৪)

এ ছাড়া পশু নির্বাচনে সুস্থতা ও সৌন্দর্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া সুন্নতের অংশ। নবীজি (সা.) সুন্দর ও উত্তম পশু কোরবানি করতেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত