Ajker Patrika

‘ট্রাম্পের মেয়াদ আর তিন বছর’—ইউরোপকে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের বার্তা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২: ৪৯
‘ট্রাম্পের মেয়াদ আর তিন বছর’—ইউরোপকে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের বার্তা
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। ছবি: বিবিসি

জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত ‘মিউনিখ সিকিউরিটি সামিট’-এ এবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। ইউরোপীয় নেতারা উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন—তিনি ঝগড়ার সুরে কথা বলবেন, নাকি সম্পর্ক মেরামতের বার্তা দেবেন? শেষ পর্যন্ত তাঁর বক্তব্য সব শঙ্কা পুরোপুরি দূর করতে না পারলেও, এটিকে মিত্রদের জন্য আশ্বাসবাণী হিসেবেই দেখা হয়েছে। রুবিওর বার্তাটি ছিল পরিষ্কার—ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময়ে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হলেও তা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে না।

তবে ওই সম্মেলনে রুবিও একমাত্র মার্কিন কণ্ঠ ছিলেন না। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বহু ডেমোক্র্যাট গভর্নর ও আইনপ্রণেতা আরও স্পষ্ট ভাষায় ইউরোপকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক। তিন বছরের মধ্যেই তিনি আর থাকবেন না।’ তাঁর এই মন্তব্যকে অনেকেই ২০২৮ সালের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।

ডেমোক্র্যাট সিনেটর জিন শাহিন বলেন, ইউরোপীয় মিত্রদের গুরুত্ব বোঝাতেই সম্মেলনে তাঁদের উপস্থিত হওয়া। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিল্লিসও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ‘কোনো গৃহযুদ্ধে’ জড়ায়নি। আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাগ্‌যুদ্ধে মিত্রদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তবে বাস্তবতা জটিল। ট্রাম্প প্রশাসন বিভিন্ন দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করেছে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ ইউরোপকে বিস্মিত ও উদ্বিগ্ন করেছে।

সম্মেলনে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও উদ্বেগ দেখান। ভার্জিনিয়ার সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার সতর্ক করে বলেন, নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের চেষ্টা হলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। অন্যদিকে, কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্ডার ওকাসিও-কর্তেজ অর্থনৈতিক বৈষম্য ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের উত্থানের মধ্যে সম্পর্ক টেনে বলেন, ‘গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে শ্রমজীবী মানুষের জন্য বাস্তব সাফল্য দেখাতে হবে।’

সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির বিপরীতে ডেমোক্র্যাটরা ইউরোপে একটি বিকল্প বার্তা তুলে ধরেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও মিত্রতার ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তাঁরা আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন। তাঁদের কথা হলো—বর্তমান রাজনৈতিক ঝড় কেটে যাবে, কিন্তু আটলান্টিকের দুই পাড়ে অংশীদারত্ব টিকে থাকবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত