Ajker Patrika

ন্যাটো ‘কাগুজে বাঘ’, ব্রিটেনের বিমানবাহী রণতরিগুলো ঠিকমতো কাজই করে না: ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ২০: ০২
ন্যাটো ‘কাগুজে বাঘ’, ব্রিটেনের বিমানবাহী রণতরিগুলো ঠিকমতো কাজই করে না: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তুমুল সমালোচিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত সামরিক সহায়তা না পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো ছেড়ে যাওয়ার কথা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ন্যাটোকে একটি ‘কাগুজে বাঘ’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ইরান যুদ্ধের পর ন্যাটোর সদস্যপদ পুনর্বিবেচনা করবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওহ হ্যাঁ, আমি বলব, এটি পুনর্বিবেচনারও ঊর্ধ্বে। আমি কখনোই ন্যাটোর ওপর ভরসা করিনি। আমি সব সময় জানতাম, তারা একটি কাগুজে বাঘ এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তা খুব ভালো করেই জানেন।’ মূলত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধ ভাঙতে ন্যাটো সদস্যরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে বা সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় ট্রাম্প এই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপরও ব্যক্তিগতভাবে চড়াও হন। ব্রিটেনকে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে রাজি করাতে না পেরে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের নৌবাহিনীকে সেকেলে ও অকেজো দাবি করে বলেন, ‘আপনাদের তো কোনো কার্যকর নৌবাহিনীই নেই। আপনাদের জাহাজগুলো অনেক পুরোনো এবং আপনাদের বিমানবাহী রণতরিগুলো ঠিকমতো কাজই করে না।’

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ন্যাটোকে ‘বিশ্বের দেখা সবচেয়ে কার্যকর সামরিক জোট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আজ বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ন্যাটো গত কয়েক দশক ধরে ব্রিটেনসহ মিত্র দেশগুলোকে নিরাপদ রেখেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অন্য কারও চাপে পড়ে তিনি ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না।

স্টারমার আরও যোগ করেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না। প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য আমাদের ইউরোপের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক প্রয়োজন।’ ট্রাম্পের কড়া সমালোচনার মুখেও স্টারমার ন্যাটোর গুরুত্ব এবং ব্রিটেনের সার্বভৌম অবস্থানকে জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ন্যাটো থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়, তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তাকাঠামো পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। ট্রাম্পের এই হুমকি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নয়, বরং ইউরোপ ও এশিয়ার ভূরাজনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

প্রাথমিকেও চালু হচ্ছে সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস

বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে আমরা কষ্ট পেয়েছি: ইরানি রাষ্ট্রদূত

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা কবে, যা জানা গেল

কিশোরগঞ্জে যুবদল নেতার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

‘ওকে লাথি মেরে বের করে দিন’—নেতানিয়াহুর ছেলেকে যুদ্ধে পাঠাতে বললেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত