Ajker Patrika

ইরানের মসনদে মোজাহেদিন-ই-খালককে বসাতে ছক কষছে ওয়াশিংটন

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইরানের মসনদে মোজাহেদিন-ই-খালককে বসাতে ছক কষছে ওয়াশিংটন
২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলাইমানির মৃত্যুর পর মুজাহেদিন-ই-খালকের সমর্থকেরা হোয়াইট হাউসের সামনে সমাবেশ করেন। ছবি: সংগৃহীত

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে, তখন কয়েক দশক ধরে পর্দার আড়ালে দাবার ঘুঁটি চালা একটি গোষ্ঠী এখন জুড়ে বসতে চাইছে। নির্বাসিত ইরানিদের সংগঠন মোজাহেদিন-ই-খালক (এমইকে) দীর্ঘদিন ধরে ইরানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের দাবি করে আসছে, তাঁরা এখন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের থেকে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের সুফল পেতে শুরু করেছেন।

ইরানের ক্ষমতাচ্যুত শাহের পুত্র রেজা পাহলভি যখন সাধারণ প্রবাসী ইরানিদের আবেগ নিয়ে কাজ করেছেন, এমইকে তখন ব্যস্ত ছিল ওয়াশিংটনের ভেতরের রাজনীতি নিয়ে। গোষ্ঠীটি মাইক পম্পেও, রুডি জিউলিয়ানি এবং নিউট গিংরিচের মতো প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিকদের নিজেদের পক্ষে টেনেছে। এক সময় স্টেট ডিপার্টমেন্টের ‘সন্ত্রাসবাদী’ তালিকায় থাকা এই গোষ্ঠীটি ২০১২ সালে সেই তকমা মুছতে সক্ষম হয়। রেকর্ড অনুযায়ী, তাঁরা সাবেক মার্কিন সিনেটর রবার্ট টরিসেলির লবিং ফার্মকে এ পর্যন্ত ২৭ লাখ ডলারের বেশি অর্থ প্রদান করেছে।

খামেনির মৃত্যুর পরপরই ফ্রান্সভিত্তিক এমইকে নেত্রী মারিয়াম রাজভি একটি ধর্মনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক বিবৃতিতে বলেন, ইরানের গণতান্ত্রিক বিরোধী দল নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে রুডি জিউলিয়ানি সরাসরি রেজা পাহলভির সমালোচনা করে তাকে ‘অস্থিতিশীলতার গোড়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এমইকের বার্ষিক ‘ফ্রি ইরান’ কনফারেন্সগুলোতে যোগ দিতে মার্কিন রাজনীতিকদের বিশাল অঙ্কের সম্মানী দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তথ্য অনুযায়ী, সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ২০২১ সালের পর এই গোষ্ঠীর বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি অর্থ পেয়েছেন। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জন বোল্টন ২০১৭ সালে এমইকের একটি সমাবেশ যোগ দিয়ে ৪০ হাজার ডলার পেয়েছিলেন। তবে নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র রুডি জিউলিয়ানি দাবি করেছেন, তিনি বর্তমানে কোনো অর্থ নিচ্ছেন না, বরং বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার থেকে একটি ‘মহৎ উদ্দেশ্য’ বাস্তবায়নে তাদের সমর্থন দিচ্ছেন।

গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক শাখা এনসিআরআই-এর প্রতিনিধি আলিরেজা জাফরজাদেহ জানিয়েছেন, তাঁরা আমেরিকার কাছে কোনো অর্থ, অস্ত্র বা সৈন্য চাইছেন না। তাদের একমাত্র দাবি, ইরানি জনগণের ‘বিপ্লবী ইউনিটগুলোকে’ স্বীকৃতি দেওয়া হোক, যাতে তারা আইআরজিসিকে মোকাবিলা করে বর্তমান শাসনব্যবস্থার চূড়ান্ত পতন ঘটাতে পারে।

বর্তমানে এমইকের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রেজা পাহলভি। ওয়াশিংটনের কাছে পাহলভি নিজেকে ইরানের একমাত্র ঐক্যবদ্ধ শক্তি হিসেবে প্রচার করছেন। তিনি নিয়মিত ফক্স নিউজ ও সিবিএসের মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমে উপস্থিত হয়ে ট্রাম্পের অভিযানের প্রশংসা করছেন।

রুডি জিউলিয়ানির মতে, পাহলভির সমর্থক এবং এমইকে— উভয় পক্ষই খামেনির পতনে খুশি। কিন্তু খামেনিহীন ইরানে কে শেষ হাসি হাসবেন, পাহলভির রাজতন্ত্র নাকি এমইকের প্রস্তাবিত ছায়া সরকার, তা এখন নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সমর্থনের ওপর। ৪৭ বছরের দুঃস্বপ্নের পর ইরানের নাটাই কার হাতে যাবে, তা নিয়ে ওয়াশিংটনের অন্দরে এখন চলছে এক ‘পাওয়ার গেম’।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত