Ajker Patrika

ইরান যুদ্ধে আরও ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ২০: ৩২
ইরান যুদ্ধে আরও ৩০০০ সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ফাইল ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ৩ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। মূলত সেনাবাহিনীর বিশেষ শাখা ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর এই বিশাল সেনাবহরকে রণক্ষেত্রে মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেন্টাগনের এ পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল, যখন পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা ইতিমধ্যে ইরানের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযানের লক্ষ্যে অগ্রসর হচ্ছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা এখনই স্থলপথে ইরানে ঢোকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেননি। তবে এই সেনা সমাবেশকে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের এক ভয়াবহ উসকানি এবং সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা অভিযানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) থেকে গত মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের অভ্যন্তরে ৯ হাজারের বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলায় মূলত ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষাশিল্প অবকাঠামোগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় ইরানের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের কয়েক ডজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বর্তমানে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং নতুন করে সেনা পাঠানোর এ সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত শক্তি প্রয়োগ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।

যুদ্ধের এক মাস পার হতে চললেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। ইরান বিশ্ববাজারের প্রধান তেলের পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়ায় এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ পথ দিয়েই সরবরাহ করা হয়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করছে, তারা সামরিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান মঙ্গলবারও ইসরায়েল ও পাশের দেশগুলোর ওপর ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রেখেছে।

মজার বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সোমবার ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়ে দাবি করেছিলেন, শান্তিচুক্তির লক্ষ্যে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। কিন্তু তেহরান সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি আলোচনা হচ্ছে না। এদিকে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে জনমত প্রবল হচ্ছে।

গত মঙ্গলবার প্রকাশিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৫ শতাংশ আমেরিকান এই সামরিক হামলাকে সমর্থন করছেন, যা গত সপ্তাহের তুলনায় আরও কমেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬১ শতাংশ মানুষই এই যুদ্ধের বিপক্ষে তাঁদের অনীহা প্রকাশ করেছেন।

পেন্টাগনের এই ৩০০০ সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যখন ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স মাত্র ১৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে পৌঁছানোর ক্ষমতা রাখে। ফলে আগামী কয়েক দিন এই অঞ্চলের ভূরাজনীতি অত্যন্ত সংকটময় হতে চলেছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবি: বেঁচে ফিরলেন খোকসার খাইরুল, ছিনিয়ে নিয়েছে মোবাইল ফোন

সোনার দাম দীর্ঘমেয়াদি পতনে যাচ্ছে

‘ডিপ স্টেট’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছিল: আসিফ মাহমুদ

হরমুজ দিয়ে চলবে বাংলাদেশসহ ৬ বন্ধু দেশের জাহাজ

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে জামায়াত এমপির ‘বারণ’, শোনেননি ইউএনও

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত