
আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরান অভিমুখে মার্কিন সামরিক অভিযান বন্ধ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন নেই, বরং ইরানকে সামরিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানকে কোনো চুক্তি করতে হবে না। আমরা শিগগিরই সেখান থেকে চলে আসব...হয়তো দুই সপ্তাহ, বড়জোর তিন সপ্তাহ।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘যখন আমরা মনে করব যে তাদের দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হবে না, তখনই আমরা বিদায় নেব।’
ইরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে এলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল পাঁচ সপ্তাহ ধরে দেশটিতে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরাঘচির বক্তব্য ও কূটনৈতিক অচলাবস্থা
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিপরীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চললেও বর্তমানে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা সমঝোতা চলছে না। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন ইরান আলোচনার জন্য ‘আকুতি-মিনতি’ করছে, তবে মঙ্গলবারের বক্তব্যে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
জ্বালানি সংকট ও মিত্রদের ওপর ক্ষোভ
ইরানের হামলার কারণে পারস্য উপসাগরের তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের গড় দাম প্রতি গ্যালনে চার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও এলএনজি সরবরাহ করা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্প মিত্রদের ওপর চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো ইরানকে “হীনবল করার” এই লড়াইয়ে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে। তোমাদের নিজেদের লড়াই নিজেদেরই শিখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র আর সাহায্য করতে আসবে না। নিজেদের তেল এখন থেকে নিজেরাই জোগাড় করো!’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষাপ্রধান পিট হেগসেথও ব্রিটিশ নৌবাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। এর জবাবে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি কাতারে অবস্থানকালে বলেন, যুক্তরাজ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।
ফ্রান্সের সঙ্গে তিক্ততা
ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি দাবি করেছেন, ফ্রান্স ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দিয়ে ‘অত্যন্ত অসহযোগিতামূলক’ আচরণ করছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা এই টুইটে বিস্মিত। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট—আমরা আমাদের ঘাঁটি ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেব না।’
বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ
কুইন্সি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি ট্রাম্পের এই সময়সীমাকে একটি ‘বিভ্রান্তিকর আখ্যান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছিল যুদ্ধ চার দিনে শেষ হবে। তিন সপ্তাহ আগে বলা হয়েছিল আরও তিন সপ্তাহ লাগবে। এখন আবার বলা হচ্ছে দুই-তিন সপ্তাহ। আসলে এই যুদ্ধ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’
পারসি মনে করেন, ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগে পাঠানো’র হুমকি মূলত ইসরায়েলি রণকৌশলেরই একটি সংস্করণ, যাকে ‘সবকিছু ধূলিসাৎ’ করে দেওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশীকে স্থায়ীভাবে দুর্বল রাখা যাতে তারা কখনো শক্তিশালী হতে না পারে।
এদিকে, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে তাদের মিশন অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দিতে রাজি হননি।

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ...
১ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক অভিযানের বৈধতা চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে আমিরাত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্যও তারা লবিং করছে বলে জানা গেছে।
২ ঘণ্টা আগে
ইরানে স্থল অভিযান চালালে মার্কিন সেনারা শুধু ছদ্মবেশী জঙ্গি বা লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদেরই মুখোমুখি হবে না; তাদের সামনে দাঁড়াবে একটি সুসংগঠিত ও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার বাহিনী, যারা মাতৃভূমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে দেখে। গত চার দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রতিরক্ষার এই কাঠামো গড়ে তুলেছে তেহরান।
৩ ঘণ্টা আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো সামরিক জোট গঠিত হয়। এই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা। স্নায়ুযুদ্ধের পুরোটা সময় ন্যাটো জোট কাজ করেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণবাদ ও প্রভাব মোকাবিলায়।
৪ ঘণ্টা আগে