
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এক রাতেই পুরো ইরান দেশটিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। তিনি আরও বলেছেন, আর সেই রাতটি হতে পারে আজ মঙ্গলবার (মার্কিন পূর্বাঞ্চলীয় মান সময়) দিবাগত রাত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘এক রাতেই পুরো দেশটিকে (ইরান) মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব। এটা আগামীকাল রাতেই হতে পারে।’ এর আগে ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায়, গালিগালাজপূর্ণ বার্তায় হুমকি দিয়েছিলেন যে, তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয় অথবা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে না দেয়, তবে তিনি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোতে হামলা চালাবেন।
এই হুমকি দিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেন, ‘মঙ্গলবার হবে ইরানে পাওয়ার প্ল্যান্ট (বিদ্যুৎ কেন্দ্র) দিবস এবং ব্রিজ (সেতু) দিবস, সব একসঙ্গেই হবে। এমনটা আগে কখনো হয়নি!!! ওই প্রণালিটা খুলে দাও, উন্মাদ শয়তানের দল, নাহলে তোমরা নরকে বাস করবে—শুধু দেখে যাও! সকল প্রশংসা আল্লাহর।’
এরপর আরেক পোস্টে ট্রাম্প তাঁর দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা, পূর্বাঞ্চলীয় সময়!’
নিজের বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানে তথাকথিত সাহসী উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত বিবরণও দেন। ট্রাম্প জানান, তিনি মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, তাঁকে (মার্কিন বৈমানিক) বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে যা যা প্রয়োজন সব করতে হবে। তিনি যোগ করেন, ‘আমরা কোনো মার্কিনিকে পেছনে ফেলে আসি না।’
এর আগে গতকাল সোমবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার আগের হুমকির চেয়েও আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিকল্প তাঁর হাতে রয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের কোনো সেতু থাকবে না, কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র থাকবে না, তাদের কিছুই থাকবে না। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু বলব না কারণ ওই দুটির চেয়েও ভয়াবহ আরও কিছু বিষয় (বিকল্প) আছে।’
এদিকে, যুদ্ধ বন্ধে কাজ করা দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের কথা ট্রাম্প স্বীকার করেছেন। তিনি একে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও তা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারা একটি প্রস্তাব দিয়েছে এবং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব। এটি একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। তবে এটি যথেষ্ট নয়, যদিও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।’
ট্রাম্প বলেন, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি যুদ্ধবিরতি হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারেন। ইরান ইতিমধ্যে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের দশ-দফার জবাবে ‘ইরানের বিবেচনা অনুযায়ী’ যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির আহ্বান জানানো হয়েছে। ইরান বলেছে, অস্থায়ী বিরতি কেবল শত্রুপক্ষকে পরবর্তী সংঘাতের জন্য প্রস্তুতির সুযোগ করে দেবে।
আলাপকালে ট্রাম্প আবারও ইরানের তেল দখল করার ইচ্ছার কথা জানান, তবে যোগ করেন—মার্কিন নাগরিকরা তা চায় কি না সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তিনি বলেন, ‘যদি আমার ইচ্ছামাফিক চলত...আমি কেবল তেলটা নিয়ে নিতে চাইতাম। কিন্তু আমি জানি না মার্কিন জনগণ তা চায় কি না। তারা চায় আমরা ভেতরে যাই, যা করার করি এবং বেরিয়ে আসি।’
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের জনগণকে সুযোগ দেওয়া হলে তারা তাদের সরকারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ তখনই পাল্টা লড়াই করবে যখন তারা জানবে যে তাদের গুলি করা হবে না এবং যখন তারা অস্ত্র হাতে পাবে।’
তিনি যোগ করেন, তাঁর দৃষ্টিতে ইরানের জনগণ যদি সশস্ত্র হতো, তবে ‘ইরান দুই সেকেন্ডের মধ্যে হাল ছেড়ে দিত কারণ তারা তা সহ্য করতে পারত না।’ ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের জনগণ ‘বোমার শব্দ শুনতে চায় কারণ তারা মুক্ত হতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য লড়ছি। আমরা তাদের ভবিষ্যতের জন্য লড়ছি। আর আমি আপনাদের বলব, আমাকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, ইরানের মানুষ সবচেয়ে বেশি অখুশি তখনই হয়... যখন ওই বোমা পড়া বন্ধ হয়ে যায়।’

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর। মাদাগাস্কারে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে, শিল্প উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর চারপাশে ‘মানবঢাল’ গড়ে তুলছে সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন স্পষ্ট করেছে, এই দেশ দুটি ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রয়োজনে তারা তাদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের পাশে থাকবে।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক চূড়ান্ত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে ওয়াশিংটনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের গুঞ্জন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার (মার্কিন সময়) ডেডলাইন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা...
৬ ঘণ্টা আগে