Ajker Patrika

চীন ছেড়েই তাইওয়ানকে স্বাধীনতার ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ট্রাম্প

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৬ মে ২০২৬, ০৭: ৪৫
চীন ছেড়েই তাইওয়ানকে স্বাধীনতার ঘোষণার বিরুদ্ধে সতর্ক করলেন ট্রাম্প
চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দুই দিনের বৈঠক শেষে তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৫ মে) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি চাই না কেউ স্বাধীনতার পথে যাক।’

বেইজিং সফর শেষে ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পক্ষেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়।’ তবে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন একদিকে তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে, অন্যদিকে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কও বজায় রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান হলো—তারা তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাকে সমর্থন করে না এবং ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলে। তবে তাইওয়ানের অধিকাংশ মানুষ নিজেদের আলাদা জাতি হিসেবে মনে করলেও বর্তমান অবস্থা বজায় রাখার পক্ষেই বেশি সমর্থন রয়েছে। অর্থাৎ, তারা চীনের সঙ্গে একীভূতও হতে চায় না, আবার আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতাও ঘোষণা করতে চায় না।

ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ৯,৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করতে চাই না। আমি চাই উত্তেজনা কমুক, চীনও শান্ত থাকুক।’ ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ান নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষা করবে কি না—সেই বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, বৈঠকে সি চিন পিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, ‘তাইওয়ান প্রশ্নটি চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটি ভুলভাবে পরিচালিত হলে দুই দেশ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে।’

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান ঘিরে সামরিক মহড়া বাড়িয়েছে চীন। এতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল, যার মধ্যে উন্নত রকেট লঞ্চার ও বিভিন্ন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। চীন এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছিল।

এখন সেই অস্ত্র বিক্রি চূড়ান্ত হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি করতে পারি, আবার নাও করতে পারি।’ পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনোভাবেই তাইওয়ানকে স্বাধীনতা ঘোষণায় উৎসাহ দিতে চায় না।

অন্যদিকে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং বলেছেন, তাদের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-চীন বৈঠকের ওপর নজর রাখছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে, যাতে তাইওয়ান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক স্থিতিশীল থাকে ও তাইওয়ানের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত