
গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরান যুদ্ধ, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়ে একাধিক কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আবারও অস্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণে তিনি দাবি করেন, এই যুদ্ধ শেষ হতে আরও ‘দুই থেকে তিন সপ্তাহ’ সময় লাগতে পারে।
ট্রাম্পের ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক নিচে তুলে ধরা হলো—
ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা ও অনিশ্চয়তা
যুদ্ধটি ষষ্ঠ সপ্তাহে পদার্পণ করলেও এর সমাপ্তি নিয়ে ট্রাম্প ও অন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বরাবরই পরস্পরবিরোধী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। এক মাস আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। গত ৯ মার্চ তিনি দাবি করেছিলেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। অন্যদিকে প্রতিরক্ষাসচিব পিট হেগসেথ কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেছিলেন, এটি চার, ছয় এমনকি আট সপ্তাহও স্থায়ী হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা
জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরিকারী হরমুজ প্রণালি সচল করার দায়ভার অন্য দেশগুলোর ওপর চাপিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যেসব দেশ এই জলপথ দিয়ে তেল সংগ্রহ করে, এটি সচল রাখার দায়িত্ব তাদেরও। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ দশমিক ১৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে সোনা ও রুপার দামে বড় পতন দেখা গেছে।
যুদ্ধের যৌক্তিকতা ও ইতিহাস টেনে আনা
ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে ট্রাম্প মার্কিন ভোটারদের মনে করিয়ে দেন, দুই বিশ্বযুদ্ধসহ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধ বর্তমান ইরান যুদ্ধের চেয়ে অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী ছিল। ৩২ দিন ধরে চলা এই অভিযানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘অত্যন্ত শক্তিশালী ও অসাধারণ’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ইরান এখন আর কোনো হুমকি নয়। ট্রাম্প দাবি করেন, এক বছর আগের ‘পঙ্গু ও মৃতপ্রায়’ অবস্থা থেকে তিনি একাই আমেরিকাকে উদ্ধার করেছেন।
ভাষণের আগে ট্রাম্প রয়টার্স ও টেলিগ্রাফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ বলে উপহাস করলেও মূল ভাষণে তিনি ন্যাটো ছাড়ার বিষয়ে কোনো উচ্চবাচ্য করেননি। একইভাবে কয়েক দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা পরিকল্পনা বা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবরের বিষয়েও তিনি কোনো তথ্য দেননি। যদিও কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট যুদ্ধবিরতি চেয়েছেন। কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই তেহরান ট্রাম্পের বক্তব্য ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দেয়।
ট্রাম্পের ভাষণ থেকে স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষের সময়সীমা নির্ধারণে এখনো দ্বিধায় রয়েছে, একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব অন্যদের ওপর চাপাতে চাইছে। তবে কূটনৈতিক সমাধান বা আলোচনার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বার্তা না থাকায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের দুই সদস্যকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন বাহিনী যখন নিখোঁজ দুই সদস্যকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, তখন ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যদি কেউ জীবিত মার্কিন পাইলটকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেন...
৪ ঘণ্টা আগে
ইরানের ভূখণ্ডে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর দক্ষিণ ইরানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
৫ ঘণ্টা আগে
এই যুদ্ধবিমানের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর দুই আসনবিশিষ্ট ককপিট। সামনের আসনে পাইলট বসে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ করেন। পেছনের আসনে বসেন একজন ক্রু। তাঁর সামনে চারটি স্ক্রিন থাকে ও তাঁর প্রধান কাজ হলো লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন করা এবং প্রতিটি হামলার জন্য অস্ত্রগুলোকে সঠিকভাবে প্রোগ্রাম করা।
৬ ঘণ্টা আগে
ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমানের একজন ক্রু সদস্যকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
৬ ঘণ্টা আগে