Ajker Patrika

এপস্টেইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন বিলিয়নিয়ার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
এপস্টেইনের মাধ্যমে নারীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করতেন বিলিয়নিয়ার
মার্কিন বিলিয়নিয়ার লিওন ব্ল্যাক (বায়ে) ও জেফরি এপস্টেইন। ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন বিলিয়নিয়ার লিওন ব্ল্যাকের নারীসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতেন। এভাবে ছয় বছরে এপস্টেইনকে প্রায় ১৭ কোটি ডলার পরিশোধ করেছেন ব্ল্যাক। এই লেনদেনকে তিনি ‘আর্থিক পরামর্শ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

তদন্তে পর্যালোচিত ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, একাধিক নারীর কাছে ব্ল্যাকের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে এপস্টেইন সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।

নথি অনুযায়ী, ব্ল্যাক বিভিন্ন নারীর কাছে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। তবে এসব অর্থ কীভাবে পরিশোধ করা হবে তার কাঠামো তৈরি করতে সহায়তা করেন এপস্টেইন। এসব কাঠামোর মধ্যে ট্রাস্টের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ব্যবস্থাও ছিল। কিছু ক্ষেত্রে এই অর্থ উপহার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যেন কর সুবিধা পাওয়া যায়।

নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এপস্টেইন কর কমানো এবং এসব লেনদেনের তথ্য গোপন রাখার উপায়ও প্রস্তাব করেছিলেন।

অন্যদিকে ব্ল্যাকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, নথিগুলোই স্পষ্ট ধারণা দেয়, ব্ল্যাক সম্পর্কে এপস্টেইন অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন। তাঁরা আরও বলেন, ব্ল্যাক এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং সব অর্থ পরিশোধ পেশাদার উপদেষ্টাদের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল।

নথিতে ব্ল্যাকের এক সাবেক সঙ্গীর কথা উল্লেখ আছে। তাঁকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলায় এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার বিষয়ও উঠে এসেছে। ওই নারী ১০০ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছিলেন এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার হুমকি দেন। এপস্টেইন তাঁর হয়ে বার্তা খসড়া তৈরি, নজরদারির পরামর্শ এবং অভিযোগ মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ১৮ মিলিয়ন ডলারে ভুক্তভোগীর সঙ্গে সমঝোতা হয় এবং একটি গোপনীয়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

ব্ল্যাক অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, তিনি কখনো কোনো নারী বা মেয়েকে নির্যাতন, হামলা বা ধর্ষণ করেননি।

ব্ল্যাক ও এপস্টেইনের পরিচয় ১৯৯০-এর দশকে হলেও পরবর্তীতে তাঁদের সম্পর্ক ব্যবসায়িক লেনদেনে রূপ নেয়। ২০১৫ সালে ব্ল্যাক এপস্টেইনকে ২০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেন, যার একটি অংশ ফি এবং অন্য অংশ এপস্টেইনের দাতব্য প্রতিষ্ঠানে অনুদান হিসেবে দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট ইমেইলগুলোতে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অর্থ লেনদেনের এই কাঠামো আংশিকভাবে সর্বোচ্চ কর সুবিধা পাওয়া এবং ব্ল্যাকের নাম প্রকাশ সীমিত রাখার উদ্দেশে তৈরি করা হয়েছিল।

২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে এপস্টেইন গ্রেপ্তার হন। তবে বিচার শুরুর আগেই তিনি কারাগারে আত্মহত্যা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

তেহরানে প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে ওয়াশিংটন, পর্যালোচনা করছে ইরান

এক-এগারোর আলোচিত সাবেক জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার

ঈদ শেষে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

বগুড়ায় আত্মগোপনে থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়িতে আগুন

ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে স্পিকার গালিবাফকে বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত