
পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির সিনেটর ডেভ ম্যাককরমিক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইরানকে ‘ঠিক’ করতে পারবে না। গতকাল রোববার ট্রাম্পের দলের এই সিনেটর দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের একটি অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে এই কথা বলেন।
ডেভ ম্যাককরমিক বলেন, ‘আমরা ইরানকে ঠিক করতে পারব না। ইরানের জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান শাসনব্যবস্থার ভেতরের কেউ হয়তো সামনে এসে ইরানের জন্য নতুন দিনের ছবি আঁকতে পারে। আবার সম্পূর্ণ নতুন কোনো শাসনব্যবস্থাও আসতে পারে। আমরা তা জানি না। ভবিষ্যৎ এখনো অজানা। তবে আমাদের উচিত তাদের এমন অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া, যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি।’ এই অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানিদের রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। হামলার সময় পোস্ট করা এক ভিডিওতে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘অবশেষে, ইরানের মহান ও গর্বিত জনগণের উদ্দেশে আমি বলছি, আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন শেষ করব, তোমরা তোমাদের সরকার দখল করে নেবে। সেটি তোমাদের নেওয়ার জন্যই থাকবে। সম্ভবত প্রজন্মের পর প্রজন্মে এটাই হবে তোমাদের একমাত্র সুযোগ।’
খামেনি ৩৬ বছর ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে ছিলেন। এ সময় একাধিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে বড় ধরনের এক গণ-অভ্যুত্থানও দেখা যায়। রোববার ম্যাককরমিক তাঁর নেতৃত্বকে ‘বিষাক্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পক্ষে অবস্থান নেন।
মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলা ছিল এক প্রজন্মের মধ্যে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির সবচেয়ে বড় সমাবেশ। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রসহ আরও নানা স্থাপনা। এর মধ্যে একটি স্কুল ভবনে বোমা হামলায় ১৪৮ জন নিহত হয়েছেন বলে বিবিসি জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শ্যানন ব্রিমকে ম্যাককরমিক বলেন, ‘এই প্রেসিডেন্ট ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি ইরানের নেতৃত্ব, আয়াতুল্লাহদের প্রতি সরে যাওয়ার সব সুযোগ দিয়েছেন। দুঃখজনকভাবে তারা তা নেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের এই মুহূর্তকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের আক্রমণাত্মক অবস্থানে থাকতে হবে এবং আমেরিকানদের, ইসরায়েলিদের ও আমাদের মিত্রদের হত্যার সক্ষমতাকে নির্মূল করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং ইসরায়েলের পাল্টা আঘাতের জবাবে ইরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও কাতারে হামলা চালায়। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ে। তেহরানের নেতারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। রোববার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আপনারা আমাদের লাল সীমা অতিক্রম করেছেন। এর মূল্য আপনাদের দিতেই হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন ধ্বংসাত্মক আঘাত হানব যে, আপনারাই শেষে অনুনয়-বিনয় করতে বাধ্য হবেন।’

জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
১৯ মিনিট আগে
কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ–১৬ বলেও ধারণা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনাই ছিল না ইরানের। তেহরান আগে যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল—গোয়েন্দা তথ্যে এমন কোনো লক্ষণই ছিল না। মার্কিন কংগ্রেসকে এমনটিই জানিয়েছে পেন্টাগন।
২ ঘণ্টা আগে