
ইরানে স্থল অভিযান চালালে মার্কিন সেনারা শুধু ছদ্মবেশী জঙ্গি বা লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদেরই মুখোমুখি হবে না; তাদের সামনে দাঁড়াবে একটি সুসংগঠিত ও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধার বাহিনী, যারা মাতৃভূমি রক্ষাকে সর্বোচ্চ লক্ষ্য হিসেবে দেখে। গত চার দশকে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রতিরক্ষার এই কাঠামো গড়ে তুলেছে তেহরান।
এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে নেওয়ার নির্দেশ দেন, তবে তা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক সামরিক অভিযান। এই পরিকল্পনায় মার্কিন বাহিনীকে ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে, যা সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত জটিল।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন অ্যাডমিরাল জেমস স্ট্যাভরিডিস এই ধরনের অভিযানে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশেষ বাহিনীর অপারেশন’ প্রয়োজন হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। কারণ, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছে, যা মার্কিন বাহিনীর জন্য পৌঁছানো ও নিয়ন্ত্রণ নেওয়া কঠিন।
প্রথমত, এই স্থাপনাগুলো পারস্য উপসাগরের মার্কিন ঘাঁটি বা বিমানবাহী জাহাজ থেকে প্রায় ৬০০ মাইল দূরে অবস্থিত, যা সরবরাহ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বড় বাধা। দ্বিতীয়ত, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান নিজেই একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পশ্চিম ইরানজুড়ে বিস্তৃত জাগ্রোস পর্বতমালা প্রাকৃতিক প্রাচীরের মতো কাজ করে, যা উপকূল থেকে দেশটির ভেতরে প্রবেশকে কঠিন করে তোলে।
ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল মূলত বহু স্তরভিত্তিক। দূরপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুর বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র দূর থেকে শনাক্ত ও ধ্বংস করার চেষ্টা করে। মাঝারি স্তরে রয়েছে মোবাইল প্রতিরক্ষা ইউনিট, যা যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল মোকাবিলা করে। পাশাপাশি, সৈন্যদের হাতে থাকা পোর্টেবল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাও হেলিকপ্টার ও নিম্ন-উচ্চতার বিমান প্রতিহত করতে সক্ষম।
এই প্রতিরক্ষার মূল দায়িত্বে রয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের কৌশল তৈরি করে আসছে। এই কৌশলের ভিত্তি তৈরি হয়েছে ইরাকের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে।
ইরান দাবি করেছে, তাদের প্রতিরক্ষায় প্রায় ১০ লাখ যোদ্ধা প্রস্তুত রয়েছে, যার মধ্যে আইআরজিসি, বাসিজ মিলিশিয়া ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অন্তর্ভুক্ত। এই বাহিনীর কার্যকারিতা পুরোপুরি অজানা হলেও সংখ্যার দিক থেকে এটি যে কোনো দখলদার বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসহাক জাহাঙ্গিরি সতর্ক করে বলেছেন, স্থলপথে ইরানে প্রবেশ করা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ভুল হবে। তাঁর ভাষায়, ইরানের এক ইঞ্চি জমি দখল করতে হলেও ‘রক্তের সাগর’ পাড়ি দিতে হবে।
অভিযানের আরেকটি জটিল দিক হলো ইউরেনিয়াম অপসারণ। প্রায় ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদে সংগ্রহ ও পরিবহন করতে বিশেষ সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। তা ছাড়া, এই উপাদান বিভিন্ন স্থানে ও ভিন্ন আকারে ছড়িয়ে রয়েছে। এগুলোর কিছু গ্যাসীয়, কিছু ধাতব বা পাউডার আকারে, এমনকি বোমাবর্ষণের পর ধ্বংসস্তূপের নিচেও রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।
এদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থল অভিযান চালালে তা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি, উপসাগরীয় অবকাঠামো এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাসে এর কাছাকাছি উদাহরণ হিসেবে ১৯৮০ সালের একটি ব্যর্থ মার্কিন উদ্ধার অভিযানের কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে অল্পসংখ্যক সেনা নিয়ে তেহরানে জিম্মিদের উদ্ধার করতে গিয়ে বিপর্যয় ঘটেছিল। সেই তুলনায় বর্তমান পরিকল্পনা অনেক বড় ও জটিল।
সব মিলিয়ে, সম্ভাব্য এই সংঘাত এমন এক পরীক্ষা, যার মুখোমুখি এর আগে কখনো হয়নি কোনো পক্ষই। তবে সামরিক ও ভৌগোলিক বাস্তবতায়, এই লড়াইয়ে ইরানই আপাতত অধিক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

ইরানে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে বিশ্বের প্রধান ৮০টি থিংকট্যাংক বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ’ গত এক মাসে প্রকাশিত এসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ...
৩ ঘণ্টা আগে
হরমুজ প্রণালি সচল করতে সামরিক অভিযানের বৈধতা চেয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে আমিরাত। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জন্যও তারা লবিং করছে বলে জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ন্যাটো সামরিক জোট গঠিত হয়। এই জোটের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষা। স্নায়ুযুদ্ধের পুরোটা সময় ন্যাটো জোট কাজ করেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সম্প্রসারণবাদ ও প্রভাব মোকাবিলায়।
৫ ঘণ্টা আগে
চলমান সংঘাত নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরআইবির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
৬ ঘণ্টা আগে