
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ভূতের ভয়ে’ ভুগছেন এবং এ কারণে যত্রতত্র হামলা করে বেড়াচ্ছেন। আর সবকিছু জানার পরও মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদেশের প্রধানমন্ত্রীর লাগাম টানতে ব্যর্থ যুক্তরাষ্ট্র। সর্বশেষ সিরিয়ায় হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনে নেতানিয়াহু ওরফে বিবির বিরুদ্ধে অসন্তোষ বেড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েল বারবার সিরিয়ার ভেতরে হামলা চালিয়ে দেশটিকে অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তির সম্ভাবনাকে দুর্বল করছে বলে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র। অ্যাক্সিওসকে এসব কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাঁদের একজন নেতানিয়াহুর ডাকনাম উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা বিবিকে বোঝানোর চেষ্টা করছি যে তাঁকে এটা থামাতে হবে। এটা যদি চলতেই থাকে, তবে সে নিজেই নিজের ক্ষতি ডেকে আনবে।’
সিরিয়াকে স্থিতিশীল করতে প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করা এবং তাঁকে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য কৌশলের মূল লক্ষ্যগুলোর একটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দল বারবার সিরিয়ার সরকারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন, বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো বিরোধ দেখা দিলে। মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের অবস্থান শুধু সিরিয়ার ক্ষেত্রেই দেখা গেছে।
গত রোববার ট্রাম্প নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে আল-শারার প্রতি সমর্থন জানিয়ে লেখেন, ‘সিরিয়ার সঙ্গে দৃঢ় ও সত্যি কথনভিত্তিক আলোচনায় থাকা এবং সিরিয়ার সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে উত্তরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এমন কিছু না করা থেকে বিরত থাকা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানান, তাঁদের মতে নেতানিয়াহু অত্যন্ত ক্ষতিকর হস্তক্ষেপ করছেন। তিনি সীমান্তের ওপারে সিরিয়ার ভেতর বহুবার সামরিক অভিযান চালিয়েছেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও। গত শুক্রবার সিরিয়ার ভেতরে প্রায় ১০ মাইল ঢুকে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। সন্দেহভাজন কয়েকজন যোদ্ধাকে আটক করার পর অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে ছয় ইসরায়েলি সেনা আহত হয়।
সেখানে থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধার করতে গিয়ে আইডিএফ যে বিমান হামলা চালায়, তাতে ১৩ জন সিরিয়ান নিহত হয়, তাদের বেশির ভাগই ছিল বেসামরিক। এই অভিযান ও বিমান হামলা সিরিয়ার সেই অংশে হয়েছে, যা আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে ইসরায়েল দখলে রেখেছে তার বাইরেও। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সিরিয়ার সরকার, দেশজুড়ে প্রতিশোধ নেওয়ার দাবিও ওঠে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিরিয়ানরা ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। নিজেদের নাগরিক নিহত হওয়ায় জনগোষ্ঠীই প্রতিশোধ চাইছিল।’ মার্কিন কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওসকে বলেন, হোয়াইট হাউসকে আগে থেকে জানানো হয়নি এই অভিযানের ব্যাপারে। আগের মতো সিরিয়াকেও ইসরায়েলি সামরিক চ্যানেল দিয়ে সতর্ক করা হয়নি।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেন, আটক সন্দেহভাজনরা হামাস ও হিজবুল্লাহ সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীর সদস্য এবং তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছিল। ইসরায়েল নাকি গোয়েন্দা চ্যানেলের মাধ্যমে সিরিয়াকে জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে কাজ করা মার্কিন কর্মকর্তারা বহু মাস ধরেই নেতানিয়াহুর ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ নীতির প্রতি ক্ষুব্ধ।
এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘সিরিয়া ইসরায়েলের সঙ্গে ঝামেলা চায় না। এটা লেবানন নয়।’ তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সিরিয়া ও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পার্থক্য তুলে ধরে বলেন, ‘কিন্তু বিবি যেন সর্বত্র ভূত দেখছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিবিকে বলছি তাকে এটা থামাতে হবে। এটা চললে সে নিজেদের বিশাল কূটনৈতিক সুযোগ হারাবে এবং নতুন সিরিয়ান সরকারকে শত্রুতে পরিণত করবে।’
এ প্রথম নয় যে এমন অসন্তোষ প্রকাশিত হলো। গত জুনে দামেস্কে ইসরায়েলের দুঃসাহসী হামলার পর হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘বিবি পাগল হয়ে যেতেন। তিনি সব সময়ই, সর্বত্র, সবকিছুতে বোমা মারেন। এতে ট্রাম্প যা করতে চাইছেন সব নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার আল-শারাকে ট্রাম্পের উষ্ণ আমন্ত্রণ ইসরায়েলকে উদ্বিগ্ন করেছে। গত মে মাসে সৌদি আরবে ট্রাম্প যখন আল-শারার সঙ্গে প্রথম দেখা করেন, তখনই ইসরায়েল এতে হতবাক হয়। চলতি মাসে ঐতিহাসিক ওভাল অফিস বৈঠকে তাঁদের মধ্যে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতাও ইসরায়েলকে অস্বস্তিতে ফেলে।
এ ছাড়া সিরিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ট্রাম্পের সিদ্ধান্তেও আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েল-সিরিয়া নিরাপত্তা চুক্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিলেও তা খুবই সতর্কভাবে এবং সর্বোচ্চ দাবি তুলে ধরে করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এখন এই চুক্তির কাজে আংশিক বিঘ্ন ঘটেছে। ওয়াশিংটনের আশা ছিল, এ চুক্তিই পরে সিরিয়ার আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের প্রথম ধাপ হবে।
শুক্রবারের ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়াবিষয়ক দূত টম বারাক এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা তাঁদের ইসরায়েলি সমকক্ষদের সঙ্গে এ নিয়ে টানটান আলোচনা চালাচ্ছেন। ঝামেলা আরও বাড়তে না দেওয়ার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সিরিয়ানদের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনা করেছেন। রোববার বারাক দামেস্কে আল-শারার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, রন ডারমার পদত্যাগের পর ইসরায়েল সরকারের মধ্যে এখন সিরিয়া ইস্যুটি কার হাতে তা পরিষ্কার নয়। রোববার ট্রাম্প আবারও প্রকাশ্যে কথা বলেন। তিনি ট্রুথ সোশ্যালে আল-শারার প্রশংসা করেন এবং ইসরায়েলকে সতর্ক করেন। এই পোস্টের পরই ট্রাম্প নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলেন। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে শুধু বলা হয়, ট্রাম্প তাঁকে ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সিরিয়া নিয়ে কোনো কথা উল্লেখ করা হয়নি।

স্টারমার বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই আক্রমণাত্মক হামলায় যোগ দিচ্ছি না। আমাদের সিদ্ধান্ত কেবল দীর্ঘদিনের বন্ধু ও মিত্রদের সম্মিলিত আত্মরক্ষা এবং ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছে।’
১৮ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালালেও ‘সবচেয়ে বড় ঢেউ’ এখনো আসেনি। স্থানীয় সময় সোমবার (২ মার্চ) সকালে সিএনএনকে দেওয়া প্রায় ৯ মিনিটের এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে ‘ভালোভাবেই আঘা
৩৭ মিনিট আগে
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর দেশ কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ওয়ারহেডের সংখ্যা বাড়াবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধের মধ্যে তিনি এমন ঘোষণা দিলেন।
১ ঘণ্টা আগে
ফার্স নিউজ প্রকাশিত ফুটেজে দেখা যায়, একটি বিশাল আন্ডারগ্রাউন্ড টানেলে সারি সারি ড্রোন রকেট লঞ্চারের ওপর বসানো রয়েছে। বাংকারের দেয়ালগুলো ইরানের জাতীয় পতাকা এবং সম্প্রতি প্রয়াত দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবিতে সাজানো। ভিডিওতে ড্রোনের এই বিশাল সম্ভারকে ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম
১ ঘণ্টা আগে