Ajker Patrika

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী, সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৪৫
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী, সম্ভাব্য ফলাফল কী হতে পারে
আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তাঁর একটু আগে পৌঁছান তাঁর দলের দুই সঙ্গী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বন্ধু ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে পৌঁছে গেছেন ইরানি প্রতিনিধিদলও। এতে আছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যরা।

আলোচনা নিয়ে মিশ্র অবস্থান তৈরি হয়েছে সবার মধ্যে। কারণ, একদিকে আছে প্রত্যাশার চাপ এবং অন্যদিকে আছে কঠোর বাস্তবতা। স্বল্প মেয়াদে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। দুই পক্ষের মধ্যকার গভীর অবিশ্বাসই এর প্রধান কারণ।

ইসলামাবাদে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমিরি মোগাদ্দাম তাঁর মুছে ফেলা এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন, তেহরান মনে করছে ইসরায়েলের চলমান হামলা আসলে আলোচনাকে ভন্ডুল করার চেষ্টা। এই প্রেক্ষাপটে লেবানন এখন প্রধান সংঘাতের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

চীনে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাসুদ খালিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে লেবাননের প্রসঙ্গটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, যা থেকে বোঝা যায়, এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আগেই আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেন। আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও পরে লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতার বাইরে রাখেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অন্যদিকে ইরান লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধে অনড়। এ ক্ষেত্রে ফ্রান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দেশের সমর্থনও তাদের রয়েছে। মূল চাবিকাঠি এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতে।’

ওয়াশিংটনভিত্তিক স্বাধীন ভূরাজনীতি বিশ্লেষক এবং ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের অনাবাসিক ফেলো সাহার খান লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্ভাব্য ‘ব্রেকিং পয়েন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘টেকসই সমঝোতা তখনই সম্ভব, যখন ইসরায়েল হামলা বন্ধ করবে। আলোচনার প্রতিটি ধাপেই দেখা গেছে, ইসরায়েলই ইরানের ওপর হামলা চালিয়ে সেই প্রক্রিয়া ভেঙে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে: তারা কি যুদ্ধবিরতি ছেড়ে ইরানে হামলা চালাবে, নাকি ইসরায়েলকে বাধ্য করবে যুদ্ধবিরতি মানতে?’

গালফ ইন্টারন্যাশনাল ফোরামের নির্বাহী পরিচালক দানিয়া থাফার বলেন, আলোচনায় ইসরায়েলের অনুপস্থিতি একটি কাঠামোগত সমস্যা। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েল এই যুদ্ধে একটি পক্ষ এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাদেরই সবচেয়ে বেশি স্বার্থ জড়িত। তাই তাদের আলোচনার অংশ হওয়া এবং চূড়ান্ত সমঝোতায় যুক্ত থাকা জরুরি। না হলে তারা যে কোনো সময় বলতে পারে, তারা এই চুক্তির শর্তে সম্মত নয়।’

খালিদ মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কঠোর অবস্থান কিছুটা নরম হতে পারে। তিনি বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সীমিত সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে বহুপক্ষীয় বোঝাপড়া সম্ভব। কারণ, দুই পক্ষই এখন ক্লান্ত এবং সংঘাত থেকে কিছুটা বিরতি চায়।’

শান্তিচুক্তির গ্যারান্টর কে হবে—এই প্রশ্নে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের পক্ষে গ্যারান্টর হতে কোনো একক দেশ রাজি হবে না। চীনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আচরণের দায় নেওয়ার ঝুঁকি নেবে না।’ তিনি আরও বলেন, যেকোনো চুক্তির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যরা এবং একটি বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের সমর্থন লাগবে।

সাহার খান মনে করেন, গ্যারান্টরের প্রশ্নটি এখনই তোলা অকাল। তিনি বলেন, ‘এই পর্যায়ে চীনের উপস্থিতি অপরিহার্য নয়। যুদ্ধবিরতি ধাপে ধাপে গড়ে ওঠে, প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত আস্থা তৈরি করা। যদি যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে এনে লেবাননে হামলা বন্ধ করাতে পারে, সেটাই বড় অর্জন হবে এবং ট্রাম্প সেটাকে নিজের সাফল্য হিসেবে দেখাতে পারবেন।’

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এই আলোচনা একেবারেই নজিরবিহীন, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এই মুহূর্তে দুই পক্ষই পরিস্থিতির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি জটিল পথে এগোচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি এবং বিভিন্ন জটিল সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারে। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, হামলা বন্ধ না হলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে।

তবুও অনেক জট এখনো খুলে যায়নি। এর মধ্যে রয়েছে লেবাননে যুদ্ধবিরতি, পারমাণবিক ইস্যু, ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, তেহরানের চাওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালি এবং আরও কিছু বিতর্কিত বিষয়। তেহরানের অবস্থান নিয়ে অবিশ্বাস এখনো কাটেনি। একই সঙ্গে নতুন করে সংঘাতের প্রস্তুতির কথাও শোনা যাচ্ছে।

তারপরও সতর্ক আশাবাদ আছে যেকোনো ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। জেডি ভ্যান্সের অংশগ্রহণ আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওমানের মাসকাটে অনুষ্ঠিত আগের দফার আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। তাঁর উপস্থিতিতে এবার আলোচনায় গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আলোচনাকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চীন, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, তুরস্কসহ কয়েকটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের সহায়তায় পাকিস্তান এই দুই পক্ষকে আলোচনায় বসাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শরীরে এইচআইভি জীবাণু পুশ, তরুণীর আত্মহত্যা

ঘণ্টায় ২৫০০০ মাইল বেগ, ৫০০০ ডিগ্রি তাপ সহ্য করে যেভাবে নিরাপদে অবতরণ নভোচারীদের

উত্তরায় হঠাৎ সিটিটিসি, সোয়াট, ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযান

লিভার সুস্থ রাখতে এসব অভ্যাস বাদ দিন

আরব সাগরে বাংলাদেশিসহ ১৮ নাবিককে উদ্ধার করল পাকিস্তান নৌবাহিনী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত