Ajker Patrika

‘রাস্তার বিড়ালগুলোও প্রাণভয়ে ছুটছিল’—লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
‘রাস্তার বিড়ালগুলোও প্রাণভয়ে ছুটছিল’—লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা
গতকাল বুধবার থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি

‘রাস্তার বিড়ালগুলোও প্রাণভয়ে ছুটছিল’—এভাবেই বৈরুতের ওপর চালানো ইসরায়েলের স্মরণকালের ভয়াবহতম ও প্রাণঘাতী বিমান হামলার বর্ণনা দিচ্ছিলেন মধ্য বৈরুতের এক পোশাক ব্যবসায়ী এম ওয়ালিদ। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় লেবাননজুড়ে এই তাণ্ডব চালায় ইসরায়েলি বাহিনী।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, লেবাননে ইসরায়েলের এই সমন্বিত হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত ও ১ হাজার ১৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী বৈরুত ও এর আশপাশের কিছু শহর, দক্ষিণ লেবানন এবং পূর্বের বেকা উপত্যকায় কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে এই হামলা চালানো হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধারের কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর শতাধিক সদর দপ্তর ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে অধিকাংশ হামলা চালানো হয়েছে কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়াই জনবহুল আবাসিক এলাকায়। মাত্র ১০ মিনিটের কম সময়ে কয়েক ডজন হামলা চালানো হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত কি না, তা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পাকিস্তান ও ইরান দাবি করেছে, লেবানন এই চুক্তির অংশ। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননের সংঘাতকে একটি ‘আলাদা সংঘর্ষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—এই যুদ্ধবিরতিতে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি হুমকি দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ যেখানে আছে, সেখানেই হামলা চালাবেন।

নিউ লাইনস ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসির বিশ্লেষক দানিয়া আরাইসি আল জাজিরাকে বলেন, নেতানিয়াহু এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে লেবাননে সর্বোচ্চ সামরিক সাফল্য অর্জন করতে চাইছেন। কারণ, তিনি জানেন, পরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলে তাঁর অভিযান পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।

২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন লেবাননে হামলা চালিয়েছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ প্রথম এর পাল্টা জবাব দেয়। এর পর থেকে ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযানে লেবাননে এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

রক্তক্ষয়ী এই হামলার পর হাসপাতালগুলোয় আহত ব্যক্তিদের ভিড় উপচে পড়ছে। বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারে রক্তের জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। সেখানে রক্ত দিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি অসংখ্য বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি। একসঙ্গে এত বেশি হামলা আগে কখনো দেখিনি।’

বৈরুতের মানারা এলাকায় সমুদ্রের কাছে একটি জনপ্রিয় বার্গার শপের মালিক নাজিব মেরহে জানান, তাঁর রেস্তোরাঁর ওপরের তলার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ইসরায়েলি হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। সৌভাগ্যবশত তাঁর ছেলে অক্ষত আছেন। মেরহে বলেন, মানুষ চরম আতঙ্কে আছে। এই পরিস্থিতি সহ্য করার ক্ষমতা কারও নেই। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক কর্মী জানান, তিনি চারদিকে শুধু আগুনের গোলা আর ধ্বংসলীলা দেখেছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত