
যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক ভার্চুয়াল সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে একটি ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে চায় এবং সেই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়াতে চায়। এটি ছিল পেজেশকিয়ানের প্রথম আন্তর্জাতিক সাক্ষাৎকার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘নেতানিয়াহুর নিজস্ব রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের অন্তহীন যুদ্ধে টেনে নিতে চান, যা গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াবে।’
সোমবার ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান তাঁর বক্তব্যে নিজেকে একজন ‘পরিমিতিবাদী’ হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
সম্প্রতি ইরানের দুই শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার ফতোয়া দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর জবাবে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমার জানা মতে, কারও বিরুদ্ধে, এমনকি ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও কোনো ফতোয়া জারি করা হয়নি। ফতোয়াগুলো মূলত ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে নীতিগত অবস্থান প্রকাশ করেছে, ব্যক্তিগত হত্যার নির্দেশ নয়।’
তবে ইরানের কট্টরপন্থী কয়েকজন আলেম, যেমন আলিরেজা পানাহিয়ান ও নাজমুদ্দিন তাবাসি, সম্প্রতি এমন মন্তব্য করেছেন; যা ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে হত্যার ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে পেজেশকিয়ান জোর দিয়ে বলেন, ‘সরকার বা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে এসব বক্তব্যের সম্পর্ক নেই।’
পারমাণবিক ইস্যুতে পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা কখনো পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করিনি, করছি না, করবও না। কারণ, এটা আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা সব সময় আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছিল, কিন্তু ইসরায়েলের হামলা সবকিছু পণ্ড করে দেয়। আমরা আলোচনায় ফিরতে ইচ্ছুক। কিন্তু কীভাবে নিশ্চিত হব যে আলোচনার মাঝপথে আবার হামলা হবে না?’
এদিকে অ্যাক্সিওসের সূত্রমতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আগামী সপ্তাহে অসলোতে বৈঠকে বসতে পারেন। এটি হবে গত মাসে ট্রাম্প কর্তৃক ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর দুই দেশের প্রথম প্রত্যক্ষ সংলাপ।
পেজেশকিয়ান দাবি করেন, ইসরায়েল তাঁকেও হত্যার চেষ্টা করেছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানান, যেন তারা ইসরায়েলের যুদ্ধনীতির ফাঁদে পা না দেয়।
সবশেষে পেজেশকিয়ান জানান, সর্বোচ্চ নেতা খামেনি কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বিনিয়োগে বাধা দেননি; বরং ইরানে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানানো হয়। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ নয়, শান্তি আর স্থিতিশীলতাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপকারী।’

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, বিনা উসকানিতে ইরানে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
৩ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। সব পক্ষই বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে। ইরানে বিপুল প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে কমপক্ষে ৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩ জন সেনা নিহতের খবর এসেছে।
৭ মিনিট আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর দেশ যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হওয়ার ‘আশঙ্কা’ আছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম....
১৭ মিনিট আগে
১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে, হিজবুল্লাহ একটি কার্যত একতরফা যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছে। প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
৪৪ মিনিট আগে