রাজধানী তেহরানে প্রতিরক্ষামূলক টানেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করছে ইরান। তেহরানের সিটি কাউন্সিলের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে। মূলত, ইসরায়েলি আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতেই এই টানেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
তেহরানে টানেল নেটওয়ার্ক নির্মাণের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যার মাসেরও কম সময় আগে ইসরায়েল শহরটিতে হামলা চালিয়েছিল। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বদের সুরক্ষার জন্যই এই টানেল নেটওয়ার্ক নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তেহরানের সিটি কাউন্সিলের পরিবহন বিষয়ক বিভাগের প্রধান।
তাসনিম নিউজকে তেহরান সিটি কাউন্সিলের পরিবহন শাখার প্রধান বলেছেন, ‘দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, তেহরানে প্রতিরক্ষামূলক সুবিধাসহ একটি টানেল (নেটওয়ার্ক) তৈরি করা হচ্ছে।’ তিনি জানিয়েছেন, এই টানেলের একপ্রান্ত থাকবে সিটি সেন্টারের মেট্রো স্টেশনের কাছে এবং অপর প্রান্ত যুক্ত থাকবে ইমাম খোমেনি হাসপাতালে।
এর আগে, গত ২৬ অক্টোবর সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী (আইডিএফ) এই হামলা চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ বলে, ইসরায়েলে ‘ইরানের কয়েক মাসের ক্রমাগত হামলার প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে সিরিয়ায় ইরানের দূতাবাসে ইসরায়েলি হামলায় দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়। জবাবে তেহরান ইসরায়েলে ৩ শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এরপর, ইসরায়েলও জবাবে ইরানে হামলা চালায়। তবে ইরান দাবি করেছিল, তারা সেই হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছিল।
সর্বশেষ, গত ১ অক্টোবর ইরান ইসরায়েলে আবারও হামলা চালায়। এবার দেশটি ১৮০ টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে। সেই হামলায় ইসরায়েলের বেশ কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি ও বিমান ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর পর থেকেই ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর কথা বলে আসছিল। অবশেষে ইসরায়েল সেই হামলা চালাল আজ শনিবার।
আইডিএফ ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলে, ‘ইরান ও এর আঞ্চলিক দোসররা গত বছরের অক্টোবরের ৭ তারিখ থেকে ভিন্ন সাতটি ফ্রন্ট থেকে ইসরায়েলের ওপর নিরলস আক্রমণ চালাচ্ছে। এমনকি ইরানের মাটি থেকেও সরাসরি আক্রমণও করা হয়েছিল ইসরায়েলে। বিশ্বের অন্যান্য সার্বভৌম দেশের মতো ইসরায়েল রাষ্ট্রেরও নিজেকে এবং নিজ জনগণকে রক্ষার অধিকার এবং দায়িত্ব আছে।’
বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হ্যাগারি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিরক্ষামূলক এবং আক্রমণাত্মক সক্ষমতা সম্পূর্ণরূপে সক্রিয়। ইসরায়েল রাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জনগণকে রক্ষা করতে যা কিছু প্রয়োজন, আমরা তা করব।’
ইরানে হামলা সম্পন্ন হয়েছে জানিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ঘোষণা দিয়েছে যে, আইডিএফ ইরানের ভূখণ্ডের কৌশলগত স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এই অপারেশন শেষ হয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আইডিএফ সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালিয়েছে। আমাদের (যুদ্ধ) বিমান নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ইসরায়েল রাষ্ট্র ও এর নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই পাল্টা হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। পাল্টা হামলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং মিশন সফল।’
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইডিএফ জানিয়েছে—ইসরায়েলি বিমানবাহিনী গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির স্থাপনায় আঘাত করেছে। এসব স্থাপনায় তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েই ইরান ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল। এসব ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের নাগরিকদের জন্য সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করেছিল। ইসরায়েলি বাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি এবং অতিরিক্ত ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায়ও আঘাত হেনেছে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই যাবে না। এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৬ মিনিট আগে
জীবিত আছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ। এমনটাই দাবি করেছেন তাঁর এক ঘনিষ্ঠ উপদেষ্ট। গতকাল রোববার ইসরায়েলি ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
২৮ মিনিট আগে
কুয়েতে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধবিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিষয়ে একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিমানটিকে এফ–১৬ বলেও ধারণা করছেন।
১ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত শনিবার ইরানে বিনা উসকানিতে হামলা চালায়। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এমনকি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকেও অ্যান্টিশিপ ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছিল।
২ ঘণ্টা আগে