Ajker Patrika

ইয়েমেনে আরব আমিরাতের কিলিং মিশন—মাসে ১৫ লাখ ডলার পেতেন সাবেক মার্কিন সেনা

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ইয়েমেনে আরব আমিরাতের কিলিং মিশন—মাসে ১৫ লাখ ডলার পেতেন সাবেক মার্কিন সেনা
স্পিয়া অপারেশনস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আব্রাহাম গোলান ও আইজ্যাক গিলমোর। ছবি: এক্স

সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) হয়ে ইয়েমেনে ভাড়ায় গুপ্তহত্যা চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক এক মার্কিন সেনাসদস্য। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালনার বিনিময়ে তিনি মাসে ১৫ লাখ ডলার আয় করতেন।

ইয়েমেনের সংসদ সদস্য আনসাফ আলী মায়োর অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে তাঁকে হত্যার জন্য আব্রাহাম গোলান নামের ওই ভাড়াটে সেনাকে নিয়োগ দিয়েছিল ইউএই। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার জন্য আমিরাত যে বৃহত্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছিল, এটি তারই অংশ ছিল।

আদালতের নথি অনুযায়ী, আব্রাহাম গোলান সান ডিয়েগোতে ‘স্পিয়ার অপারেশনস গ্রুপ’ নামে একটি বেসরকারি সামরিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সাবেক নেভি সিল সদস্য আইজ্যাক গিলমোর। এই প্রতিষ্ঠানের অনেক কর্মচারীই ছিলেন মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক সদস্য।

মামলার তথ্যমতে, ইউএইর সঙ্গে তাঁদের ‘লক্ষ্যভেদী গুপ্তহত্যা’ চালানোর চুক্তি ছিল। এর বিনিময়ে তাঁরা প্রতি মাসে ১৫ লাখ ডলার পারিশ্রমিক এবং প্রতিটি সফল হত্যাকাণ্ডের জন্য আলাদা বোনাস পেতেন।

আব্রাহাম গোলান, আইজ্যাক গিলমোর ও সাবেক মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্য ডেল কমস্টক ইয়েমেনে গুপ্তহত্যা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন। ২০১৮ সালে জনপ্রিয় মার্কিন অনলাইন মিডিয়া বাজফিডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গোলান বলেছিলেন, ‘ইয়েমেনে একটি টার্গেটেড অ্যাসাসিনেশন প্রোগ্রাম ছিল। আমি সেটি পরিচালনা করতাম। আমরা এটি করেছি এবং জোটের মধ্যে এটি ইউএই কর্তৃক অনুমোদিত ছিল।’

এদিকে, ইয়েমেনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযানের কথা স্বীকার করেছে আমিরাত। তবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি তারা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

মায়ো যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা না হলেও ‘অ্যালিয়েন টর্ট স্ট্যাটিউট’ আইনের আওতায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে এই মামলা করেছেন। এই আইন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হলে বিদেশিরাও মার্কিন আদালতে বিচার চাইতে পারেন। সেন্টার ফর জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটির আইনি পরিচালক ড্যানিয়েল ম্যাকলাফলিন বলেন, সাবেক সামরিক সদস্যদের এ ধরনের অবৈধ কাজের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

২০১৫ সালে ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে ইউএই মার্কিন-সমর্থিত আঞ্চলিক জোটে যোগ দেয়। ভাড়াটে সেনারা দাবি করেছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল ‘আল-ইসলাহ’ নামের একটি ইসলামপন্থী দলের নেতা আলী মায়ো। তবে ইউএই দলটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বললেও বিশেষজ্ঞরা একে একটি বৈধ রাজনৈতিক দল হিসেবে দেখেন, যারা ইয়েমেনে আমিরাতের অ্যাজেন্ডার কড়া সমালোচক।

এডেন শহরে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর মায়োর কার্যালয়ে বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের মাত্র কয়েক মিনিট আগে ভবন থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় মায়ো অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত