Ajker Patrika

হরমুজ প্রণালির কাছে বাংকার বাস্টার বোমা হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১১: ৫৬
হরমুজ প্রণালির কাছে বাংকার বাস্টার বোমা হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ওপর শক্তিশালী ‘বাংকার বাস্টার’ বোমা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই দাবি করেছে। তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ এবং সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে এই হামলা পরিচালনা করেছে।

এক্স হ্যান্ডলে দেওয়া এক পোস্টে সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, মার্কিন বাহিনী সফলভাবে একাধিক ৫ হাজার পাউন্ডের ‘ডিপ পেনিট্রেটর’ বা ভূস্তরের গভীরে প্রবেশে সক্ষম যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এই বোমাগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ বা শক্তিশালী কংক্রিটের আস্তরণ ভেদ করে ভেতরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। গত বছর ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রে ব্যবহৃত ৩০ হাজার পাউন্ডের বোমার চেয়ে এগুলো ওজনে কম হলেও উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ধ্বংস করতে এগুলো অত্যন্ত কার্যকর বলে জানানো হয়েছে। একেকটি ‘বাংকার বাস্টার’ বোমার আনুমানিক দাম প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার মার্কিন ডলার।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, এই ঘাঁটিগুলোতে থাকা ইরানের অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাংকারগুলোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত কয়েক সপ্তাহে ইরান এই পথে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির এই অস্থিরতা ও হামলার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সরবরাহ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ইতিমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি আরও প্রকট হবে।

এদিকে গতকাল ইরানের প্রভাবশালী নেতা জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। এ নিয়ে ইসরায়েল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরও ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে একধরনের রহস্যময় নীরবতা লক্ষ করা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্রদেশগুলোর সমালোচনা করলেও এই হামলার সুনির্দিষ্ট ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, লারিজানির মতো প্রভাবশালী নেতাদের মৃত্যুর পর ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় আমেরিকা এখন সামরিক শক্তির মাধ্যমেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। একদিকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে আমেরিকার এই বিধ্বংসী হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত