মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে চরমে পৌঁছেছে। ইসরায়েল ইরানের পরিবহন অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, আর এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া চূড়ান্ত সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার তারা ইরানের বিভিন্ন পরিবহন রুটে বড় পরিসরের হামলা চালিয়েছে। ইরানের তেল উৎপাদনকারী খারগ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন রেললাইন ও সড়ক অবকাঠামোতেও হামলা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। তাবরিজ-তেহরান মহাসড়কের কাছে একটি হামলায় দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া কাশানের ইয়াহিয়াবাদ রেলসেতু এবং কোম প্রদেশের কয়েকটি সেতুও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইরানের সাধারণ জনগণকে ট্রেন ব্যবহার না করার এবং রেললাইনের কাছাকাছি না যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলেছে, এসব এলাকায় অবস্থান জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে এক প্রতিক্রিয়ায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা আর সংযম দেখাবে না। পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘আজ রাতেই একটি সম্পূর্ণ সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’ তিনি তেহরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, শর্ত মানা না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। তিনি সতর্ক করেন, ‘ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।’
ইরান ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। সেখানে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটিতে রাতভর হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই শিশুও রয়েছে। তেহরানের একটি সিনাগগও ধ্বংস হয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এখন এক সংকটপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার হলেও, যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোর ওপর। মাদাগাস্কারে জ্বালানি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিং দেখা দিচ্ছে, শিল্প উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং জনজীবনে ভোগান্তি বাড়ছে।
২ ঘণ্টা আগে
মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অবকাঠামোর চারপাশে ‘মানবঢাল’ গড়ে তুলছে সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এসব স্থাপনায় হামলা চালায়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
৩ ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো প্রদানের মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন স্পষ্ট করেছে, এই দেশ দুটি ইরানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং প্রয়োজনে তারা তাদের বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে ইরানের পাশে থাকবে।
৫ ঘণ্টা আগে
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের এক চূড়ান্ত ও অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে ওয়াশিংটনে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের গুঞ্জন গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হোয়াইট হাউস অত্যন্ত কঠোর ভাষায় এই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আজ মঙ্গলবার রাত ৮টার (মার্কিন সময়) ডেডলাইন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা...
৬ ঘণ্টা আগে