
হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘তালারা’ নামের ট্যাংকারটি মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী এবং এটি সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে সিঙ্গাপুরের দিকে যাচ্ছিল।
আইআরজিসি জানায়, জাহাজটি অননুমোদিত পণ্য বহন করে আইন লঙ্ঘন করছিল। এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটিতে উচ্চ সালফারযুক্ত গ্যাস অয়েল বহন করা হচ্ছিল।
মেরিটাইম নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানায়, ট্যাংকারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিল। এ সময় তিনটি ছোট নৌকা জাহাজটির কাছে আসে। এরপরই জাহাজটি হঠাৎ দিক পরিবর্তন করে।
ট্যাংকারটির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান কলম্বিয়া শিপ ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের খোর ফাক্কানের প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা সংস্থা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং জাহাজমালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছে।
জাহাজটির মালিক সাইপ্রাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পাশা ফাইন্যান্স।
এই অঞ্চলে দায়িত্বপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহর জানায়, তারা ঘটনাটি পর্যবেক্ষণ করছে। এক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাচলের অধিকার আছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক মাসে ইরান এমন কোনো অভিযান না চালানোর কারণে এই ঘটনা কিছুটা ‘অপ্রত্যাশিত’।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স সেন্টার জানায়, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে নৌপথ অতিক্রম করতে পরামর্শ দিয়েছে।
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটে বাণিজ্যিক জাহাজ আটকের ঘটনা ইরানের জন্য নতুন নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি বিভিন্ন সময়ে জাহাজ আটক করে ‘চোরাচালান’, ‘আইন লঙ্ঘন’ কিংবা ‘অবৈধ পণ্য আমদানি’র অভিযোগ তোলে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ পথকে বিশ্বের সবচেয়ে সংবেদনশীল সামুদ্রিক রুট হিসেবে ধরা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন রাতে হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। এর জবাবে পরদিন থেকে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। এ সময় তারা হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দেয়। এই সংঘাতের ১০ দিনের মাথায়, অর্থাৎ গত ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরান-ইসরায়েলে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এরপর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত শনিবার ইরানে যৌথভাবে আক্রমণ চালায়। সেই আক্রমণে ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে অন্তত দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ছাড়া, বিনা উসকানিতে ইরানে আক্রমণ চালানো হয়েছে।
৩ মিনিট আগে
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। সব পক্ষই বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা শুরু করেছে। ইরানে বিপুল প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে গতকাল রোববার প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে কমপক্ষে ৯ জন বেসামরিক ব্যক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৩ জন সেনা নিহতের খবর এসেছে।
৮ মিনিট আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর দেশ যে আগ্রাসন চালাচ্ছে, তাতে আরও মার্কিন সেনার মৃত্যু হওয়ার ‘আশঙ্কা’ আছে। স্থানীয় সময় গতকাল রোববার ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দিতে গিয়ে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম....
১৭ মিনিট আগে
১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে, হিজবুল্লাহ একটি কার্যত একতরফা যুদ্ধবিরতি পালন করে আসছে। প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা কোনও প্রতিক্রিয়া দেখায়নি।
৪৪ মিনিট আগে