Ajker Patrika

ভয়াবহ হামলা সত্ত্বেও পতনের ঝুঁকিতে নেই ইরান সরকার—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
ভয়াবহ হামলা সত্ত্বেও পতনের ঝুঁকিতে নেই ইরান সরকার—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: রয়টার্সের সৌজন্যে

টানা দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব এখনো অনেকটা অক্ষত রয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা সরকার পতনের কোনো ঝুঁকি নেই। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একাধিক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে পরিচিত একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, অসংখ্য গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে জানা গেছে , ‘ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী কোনো বিপদে নেই এবং তারা দেশটির জনগণের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে।’ গত কয়েক দিনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের প্রথম দিনেই সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়া সত্ত্বেও ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের সংহতি বজায় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও অভ্যন্তরীণ আলোচনায় স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের ধর্মীয় সরকারের পতন ঘটবেই—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই সামরিক অভিযান ‘শিগগিরই’ শেষ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, যদি ইরানের কট্টরপন্থী নেতারা ক্ষমতায় শক্তভাবে টিকে থাকেন, তবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা ওয়াশিংটনের জন্য কঠিন হবে।

যুদ্ধের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা এবং শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। হামলায় খামেনি ছাড়াও ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও উচ্চপদস্থ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। তা সত্ত্বেও আইআরজিসি এবং খামেনির মৃত্যুর পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন নেতারা দেশের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। ইতিমধ্যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ খামেনির ছেলে মোজতবাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরাকে অবস্থানরত ইরানি কুর্দি মিলিশিয়ারা ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ইরানি কুর্দি দলগুলোর জোটের প্রধান আবদুল্লাহ মোহতাদি এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তাঁদের হাজার হাজার তরুণ অস্ত্র হাতে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় আইআরজিসি ইউনিটগুলো মার্কিন হামলার ভয়ে ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে, যা তাদের দুর্বলতার লক্ষণ।

তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কুর্দিদের এই সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইরানি বাহিনীর বিরুদ্ধে টিকে থাকার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্রশক্তি ও জনবল কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর নেই। কুর্দিরা ওয়াশিংটনের কাছে অস্ত্র ও সাঁজোয়া যান চাইলেও গত শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কুর্দিদের ইরানে প্রবেশের পরিকল্পনা নাকচ করে দিয়েছেন।

ইসরায়েলি একটি সূত্রের মতে, তারা ইরানের বর্তমান সরকারের কোনো অংশই অবশিষ্ট রাখতে চায় না। তবে বর্তমান সামরিক অভিযানের মাধ্যমে কীভাবে এই সরকারের পতন ঘটানো সম্ভব, তা এখনো অস্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের পতন ঘটাতে হলে হয়তো একটি স্থল অভিযানের প্রয়োজন হতে পারে, যাতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার সাহস পায়। ট্রাম্প প্রশাসনও এখন পর্যন্ত ইরানে স্থল সৈন্য পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়নি।

এই গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিষয়ে রয়টার্স হোয়াইট হাউস, সিআইএ এবং ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত