Ajker Patrika

‘শান্তি মিশন’ নিয়ে চীন যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ২৮
‘শান্তি মিশন’ নিয়ে চীন যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী
কুয়োমিনতাংয়ের (কেএমটি) চেয়ারম্যান চেং লি–উন। ছবি: এএফপি

চীন সফরে যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী চেং লি-উন। আগামীকাল তাইওয়ানের বিরোধীদলীয় নেত্রী ‘শান্তি মিশন’ নিয়ে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তাইওয়ানের বৃহত্তম বিরোধী দল কুয়োমিনতাংয়ের (কেএমটি) চেয়ারম্যান চেং বলছেন, তাঁর বেইজিং সফর একটি ‘শান্তি মিশন’। ঠিক এমন একসময়ে এই সফর হচ্ছে, যখন বেইজিং নতুন করে তাইওয়ানের জনগণকে ‘পুনরেকত্রীকরণ’ প্রক্রিয়া সমর্থনে রাজি করাতে তৎপর হয়েছে।

এই সফর এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক চাপ বেড়েছে। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দেখে। একই সঙ্গে, তাইওয়ানের বিরোধী দল পার্লামেন্টে ৪০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা ব্যয়ের একটি সরকারি পরিকল্পনা আটকে রেখেছে।

এই সফরকে ঘিরে কেএমটি ও তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরবিরোধী বার্তা ছড়িয়েছে। সেখানে যুদ্ধ ও শান্তির প্রতীকী চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। গতকাল রোববার কেএমটি এক ভিডিও প্রকাশ করে জানায়, ‘সমৃদ্ধির একমাত্র ভিত্তি হলো শান্তি, আর সেটিই তাইওয়ানের ভবিষ্যতের আশা।’ ভিডিওটিতে দেখা যায়, তরুণ-তরুণীরা মাটিতে ও সুইমিং পুলে আরাম করছে এবং হাসিমুখে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে আছে।

জবাবে ডিপিপি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে অভিযোগ করে, কেএমটি ‘তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করার জন্য চীনা কমিউনিস্টদের পরিকল্পনার সঙ্গে সহযোগিতা করছে’। তারা প্রতিরক্ষা ব্যয় অনুমোদনে বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ করে। এই বিলটিতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সমর্থন দিয়েছে।

গত মাসে বিদেশি সাংবাদিকদের চেং বলেন, ‘শুধু প্রতিরক্ষা সক্ষমতার মাধ্যমে শান্তি অর্জন সম্ভব নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক প্রচেষ্টাও সমানভাবে অপরিহার্য। সাংবাদিকেরা ‘পুনরেকত্রীকরণ’ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানতে চাইলে চেং বলেন, এই আলোচনা শুরু করার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হলো কীভাবে দুই পাড়ের সম্পর্ককে শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল করা যায়, তা নিশ্চিত করা।’

চেংয়ের এই সফরটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিংয়ে সি’র সঙ্গে নির্ধারিত শীর্ষ বৈঠকের এক মাস আগে। গত ফেব্রুয়ারিতে এক ফোনালাপে সি ট্রাম্পকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের কাছে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে।’

এটি এক দশকের মধ্যে কোনো কেএমটি নেতার প্রথম চীন সফর। তবে চীন এখনো নিশ্চিত করেনি, সি চেংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কি না। চেং আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বেইজিংয়ে অবস্থান করবেন। গত সপ্তাহে তাইওয়ানের চীননীতি নির্ধারণকারী সংস্থা মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, চেংয়ের উচিত বেইজিংকে সামরিক হুমকি বন্ধ করতে বলা এবং তাইওয়ানের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করার আহ্বান জানানো।

চীন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তাদের দাবি, তিনি একজন ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী।’

চীন কখনোই তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি। তবে তারা বলে, তাদের পছন্দের পথ হলো ‘শান্তিপূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ’। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে চীন তাইওয়ানিদের এই প্রক্রিয়ার সুবিধা বোঝাতে প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তার মতো বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে, যদিও তাইওয়ান সরকার এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

শুক্রবার চীনা সশস্ত্র বাহিনীর ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড—যারা তাইওয়ানের ওপর সম্ভাব্য হামলার নেতৃত্ব দিতে পারে—একটি কার্টুন ছবি প্রকাশ করে। সেখানে দেখানো হয়, যদি চীন ও তাইওয়ান একীভূত হতো, তাহলে ঐতিহ্যবাহী ‘সমাধি পরিষ্কার দিবস’ উপলক্ষে ‘তাইওয়ান প্রদেশ’ কেমন দেখাত।

ছবিতে দেখা যায়, মানুষ ‘মাতৃভূমির পূর্ণ পুনরেকত্রীকরণ স্মৃতিস্তম্ভে’ ফুল দিচ্ছে। পাশে আরেকটি সাইনবোর্ডে স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাইপেইয়ের মাচাংডিং মেমোরিয়াল পার্ক—যেখানে ১৯৫০ সালে কেএমটি সরকার অভিযুক্ত কমিউনিস্ট গুপ্তচর উ শিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১৯৪৯ সালে মাও সে-তুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে পরাজয়ের পর কেএমটি বাহিনী তাইওয়ানে পালিয়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত