Ajker Patrika

নেপালের নির্বাচন: জেন-জি আন্দোলনের নেতার হাত ধরে বাজিমাতের পথে ৪ বছর বয়সী দল

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১৭: ১৯
নেপালের নির্বাচন: জেন-জি আন্দোলনের নেতার হাত ধরে বাজিমাতের পথে ৪ বছর বয়সী দল
রক্তাক্ত জেন-জি বিক্ষোভের পর প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হলো নেপালে। ছবি: সংগৃহীত

গত বছর নেপালে জেন-জি আন্দোলনে সরকার পতনের পর প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলছে ভোট গণনা। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাঠমান্ডুতে একটি আসন ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। আরও কয়েকটি আসনে দলটি এগিয়ে আছে। কয়েক বছর আগেও যার অস্তিত্ব ছিল না, সেই রাজনৈতিক শক্তির জন্য এই মুহূর্ত যেন নাটকীয়। এই দলের অন্যতম মুখ জেন-জি আন্দোলনের নেতা ও কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র বালেন শাহ। তিনিও বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির থেকে।

সমর্থকেরা উচ্ছ্বসিত। সমালোচকেরা সতর্ক। আর পুরোনো রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি উদ্বেগ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন। কারণ, রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নেপালের আধুনিক রাজনীতির সবচেয়ে অদ্ভুত পরীক্ষাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিকভাবে দলটি নিজেদের মধ্যপন্থী হিসেবে তুলে ধরে। তাদের দাবি, তারা এমন এক নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছে যারা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং ধীর গতির শাসনব্যবস্থায় হতাশ।

তবে তাদের গল্প এতটা সরল নয়। দলটি দ্রুত উত্থান হয়েছে। দ্রুতই সরকারে প্রবেশ করেছে। আবার দ্রুতই কেলেঙ্কারির মুখেও পড়েছে। আর এখন, আরেকটি নির্বাচনের মাঝে দাঁড়িয়ে তারা আবারও পরীক্ষা দিচ্ছে—‘নতুন রাজনীতি’র প্রতিশ্রুতি কি বিতর্ক, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং তাদের সবচেয়ে পরিচিত নেতার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও টিকে থাকতে পারে?

কেন রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি এখনো সবার নজর কাড়ছে, তা বুঝতে হলে তাদের সংক্ষিপ্ত কিন্তু নাটকীয় ইতিহাসের দিকে তাকাতে হয়।

নেপালের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরেই অসন্তোষ জমছিল। বড় দলগুলো পার্লামেন্ট নিয়ন্ত্রণ করত। ঘন ঘন সরকার পরিবর্তিত হতো। দুর্নীতির অভিযোগ ছিল নিয়মিত। অনেক তরুণ নেপালি মনে করতেন, রাজনৈতিক শ্রেণি সাধারণ মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতেই সামনে আসেন রবি লামিচানে। ২০২২ সালের ১৬ জুন তিনি হঠাৎই গ্যালাক্সি ৪কে টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই চ্যানেলে কাজ করেই তিনি জনপ্রিয় টিভি ব্যক্তিত্ব হিসেবে শক্তিশালী পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। এর পাঁচ দিন পর, ২১ জুন তিনি আরও বড় ঘোষণা দেন—নতুন রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠা। সেই দলই রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি।

ঘোষণার সময় ২১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়। পাশাপাশি দেওয়া হয় একটি সাহসী প্রতিশ্রুতি—রাজনীতি এবার হবে ভিন্ন। ২০২২ সালের ১ জুলাই নেপালের নির্বাচন কমিশনে দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে। দলের নির্বাচনী প্রতীক ছিল সহজ কিন্তু স্মরণীয়—একটি বৃত্তের ভেতরে একটি ঘণ্টা। অনেক সমর্থকের কাছে এই প্রতীক ছিল একটি বার্তা: নেপালের রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে জাগিয়ে তোলার ঘণ্টাধ্বনি।

রবি লামিচানে প্রচলিত অর্থে রাজনীতিক ছিলেন না। ১৯৭৫ সালে কাঠমান্ডুতে জন্ম নেওয়া লামিচানে তাঁর কর্মজীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন সাংবাদিকতা ও টেলিভিশনে। তিনি সাংবাদিকতায় রাজনৈতিক বিষয় তুলে ধরতেন। অনেক দর্শকের কাছে মনে হতো, তিনি যেন অবশেষে সেই কথাগুলো বলছেন—যা সাধারণ নাগরিকেরা বহুদিন ধরে ভাবছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক বছর কাটানোর পর তিনি ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি নেপালে ফিরে আসেন। পরে গ্যালাক্সি টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। কিন্তু সাংবাদিকতা তাঁর কাছে শেষ কথা ছিল না। ২০২২ সালে এসে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন। সে বছরের সাধারণ নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি বড় প্রভাব ফেলবে—এমনটা খুব কম রাজনৈতিক বিশ্লেষকই ভেবেছিলেন।

দলটি ছিল নতুন। সংগঠন দুর্বল। পুরোনো দলগুলোর মতো দীর্ঘদিনের নেটওয়ার্কও ছিল না। কিন্তু ফলাফল সবাইকে অবাক করে। প্রতিনিধি পরিষদ নির্বাচনে দলটি ১৩১টি আসনে প্রার্থী দেয়। প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নেয়নি। কারণ, তারা জাতীয় পর্যায়েই মনোযোগ দিতে চেয়েছিল। ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, দলটি সরাসরি নির্বাচনে সাতটি আসন এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে ১৩টি আসন পেয়েছে। দলীয় তালিকার ভোটে তারা মোট ভোটের ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ পায়—প্রায় ১১ লাখ ভোট। এই ফলাফলের মাধ্যমে দলটি নেপালের চতুর্থ বৃহত্তম জাতীয় দলে পরিণত হয়।

নির্বাচনের পর পুষ্প কমল দাহলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে যোগ দেয় দলটি। দলটি সেখানে ছোট অংশীদার হিসেবে থাকেনি। লামিচানে নিজে উপপ্রধানমন্ত্রী হন। একই সঙ্গে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পান—যা মন্ত্রিসভার অন্যতম শক্তিশালী পদ। আরেক আরএসপি নেতা ইন্দিরা রানা মাগার প্রতিনিধি পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

সমর্থকদের কাছে মনে হয়েছিল, প্রজন্মগত পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি যেন বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে। কিন্তু উদ্‌যাপন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নেপালি সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দেন। আদালত জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট ত্যাগ করার পর লামিচানে যথাযথভাবে নেপালি নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করেননি। এই আইনি ত্রুটির কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এবং মন্ত্রিত্ব—দুটিই অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

ফলে তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়। সরকারে প্রবেশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই ঘটনাটি তাঁর জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। রায়ের প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি মন্ত্রিসভা থেকে সরে আসে, যদিও বাইরে থেকে সরকারকে সমর্থন দিতে থাকে।

এই সময় দলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন দল প্রাসাদ আরিয়াল। পরে লামিচানে আবারও নেপালি নাগরিকত্ব গ্রহণ করে রাজনীতিতে ফিরে আসেন। কিন্তু এই বিতর্ক দীর্ঘদিন তাঁর সঙ্গে লেগে থাকে। দলটি শিগগির নিজেদের প্রথম অভ্যন্তরীণ কেলেঙ্কারির মুখে পড়ে। দলের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব তালিকার একজন এমপি ঢাকা কুমার শ্রেষ্ঠার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দল দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। তাঁকে এমপি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলটি দেখাতে চেয়েছিল, তারা নিজেদের ভেতরে দুর্নীতি সহ্য করবে না।

বিতর্ক থাকলেও লামিচানে অনেক ভোটারের কাছে জনপ্রিয়ই ছিলেন। ২০২৩ সালের উপনির্বাচনে তিনি চিতওয়ান-২ আসন থেকে আবার নির্বাচন করেন এবং আগের চেয়েও বেশি ভোটে জয়ী হন। একই সময়ে দলটি তানাহুন-১ আসনও জিতে নেয়। আইনি বিরোধ ও সমালোচনা সত্ত্বেও দলের সমর্থনভিত্তি শক্তই থাকে। ২০২৪ সালের মার্চে আবারও পুষ্প কমল দাহলের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে যোগ দেয় রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি। এবার দলটি চারটি মন্ত্রিপদ পায়। কিন্তু এই জোটও বেশি দিন টেকেনি। ২০২৪ সালের ১২ জুলাই রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে জোট ভেঙে যায় এবং মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হয়। ফলে দ্বিতীয়বারের মতো সরকারের অংশ হওয়াও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

দলের ভেতরেও নেতৃত্ব নিয়ে অস্থিরতা দেখা যায়। একটি ঘটনায় দলের সাধারণ সম্পাদক মুকুল ধাকাল দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কৃত হন। নেতৃত্বে রদবদল চলতে থাকে। ২০২৫ সালের জুনে কবিন্দ্র বোরলাকুটি নতুন সাধারণ সম্পাদক হন। আর মনীষ ঝা হন দলের মুখপাত্র। এই পরিবর্তনগুলো ইঙ্গিত দেয়, দলটি এখনো নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। সমবায় জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন লামিচানে। এই অভিযোগ নেপালের রাজনীতিতে বড় ঝড় তোলে। তদন্ত চলাকালে তাঁকে ভৈরহাওয়ায় বিচারিক হেফাজতে রাখা হয়। আবারও দল প্রাসাদ আরিয়াল ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেন। সমালোচকদের কাছে এই গ্রেপ্তার তাঁর ভাবমূর্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সমর্থকদের মতে, এটি একজন দ্রুত উত্থানশীল নেতাকে ধ্বংস করার রাজনৈতিক চেষ্টা। এই আইনি মামলা এখনো দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখছে।

নেপালি গণমাধ্যমের সঙ্গেও রবি লামিচানের সম্পর্ক বিতর্কিত হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালের শুরুতে মন্ত্রিত্ব হারানোর পর তিনি একটি সংবাদ সম্মেলন করেন, যেখানে সাংবাদিকদের কঠোর সমালোচনা করেন। সেখানে তিনি কয়েকজন সম্পাদকের নামে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ তোলেন এবং তাঁদের ‘১২ ভাই’ নামে উল্লেখ করেন—অর্থাৎ এমন এক গোষ্ঠী যারা নাকি তাঁর সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে।

তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণও করেন এবং ইঙ্গিত দেন যে সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত জীবন ফাঁস করে দিতে পারেন। এই মন্তব্য তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সাংবাদিক সংগঠনগুলো তাঁকে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলার অভিযোগ তোলে। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো সতর্ক করে, এমন বক্তব্য সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হয়রানি উসকে দিতে পারে।

পরে লামিচানে ক্ষমা চান এবং বলেন, আবেগের বশে তিনি এমন কথা বলেছেন। তবে ‘১২ ভাই’ শব্দবন্ধটি দ্রুতই গণমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের প্রতীক হয়ে ওঠে। জনতুষ্টিবাদী রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির সংঘাত এখন আরএসপির পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি গড়ে উঠেছিল পুরোনো দলগুলোর বিরুদ্ধে জন-অসন্তোষের ওপর ভর করে। তাদের মূল প্রতিশ্রুতি ছিল সহজ—রাজনীতি হবে স্বচ্ছ, তরুণ এবং জবাবদিহিমূলক। কিন্তু অনেক পর্যবেক্ষক এখানে একটি দ্বন্দ্ব দেখেন। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে লামিচানের তীব্র আক্রমণ সমালোচকদের মনে করিয়ে দেয়, পুরোনো রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও প্রায়ই এমন অসহিষ্ণুতা দেখা যায়। একই সঙ্গে সমবায় জালিয়াতির অভিযোগ তাঁর দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করেছে।

ফলে একটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন সামনে আসে। পুরোনো রাজনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া কোনো আন্দোলন কি টিকে থাকতে পারে, যদি তাঁর নেতারাও ধীরে ধীরে সেই পুরোনো রাজনীতিবিদদের মতো আচরণ করতে শুরু করেন? এই প্রশ্নের উত্তর এখনো পরিষ্কার নয়। আরএসপি কি সত্যিই নতুন বিকল্প? সেটিও এখনো অনিশ্চিত।

এরপর, ২০২৫ সালে নেপালে তরুণদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া জেন-জি আন্দোলনও রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টিকে প্রভাবিত করে। রাজনৈতিক ব্যবস্থায় হতাশ তরুণদের এই আন্দোলন দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনার ধারা বদলে দেয়। এই সময় দল থেকে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা বেরিয়ে যান। এসব প্রস্থান দলের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে একই সময়ে দলটি সম্প্রসারণও ঘটায়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিবেকশিল সাঝা পার্টি আরএসপির সঙ্গে একীভূত হয়। শহরভিত্তিক সংস্কারমুখী রাজনীতির পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা এই দলটির সঙ্গে একীভবন নেপালের সংস্কারপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সম্ভাব্য ঐক্যের ইঙ্গিত দেয়।

আরও একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাও আলোচনায় আসে। আরএসপি একটি চুক্তি করে উজ্জ্বালো নেপাল পার্টির সঙ্গে একীভূত হওয়ার এবং কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন শাহকে দলে আনার। এই পরিকল্পনা জাতীয় পর্যায়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আংশিক বাস্তবায়িক হয়।

শুরু থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি নিজেকে অন্যভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিল। তাদের সবচেয়ে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে। দলটি ঘোষণা করে, তারা ছাত্রসংগঠন বা যুবসংগঠনের মতো কোনো সহযোগী সংগঠন গঠন করবে না। বরং তারা বলেছিল, তাদের থাকবে সদস্য—ক্যাডার নয়। এই ভাষা ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল দক্ষিণ এশিয়ার অনেক রাজনৈতিক দলে দেখা যায় এমন কঠোর স্তরভিত্তিক কাঠামো থেকে নিজেদের দূরে রাখা।

দলটি আরেকটি বিরল প্রতিশ্রুতিও দেয়—প্রাইমারি নির্বাচন। ২০২২ সালের সাধারণ নির্বাচনের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয় দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রাইমারির মাধ্যমে, যেখানে সদস্যরা ভোট দিয়ে প্রার্থী নির্বাচন করেন।

এখন আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ইতিমধ্যে কাঠমান্ডুতে একটি আসন জিতে গেছে এবং আরও কয়েকটি আসনে এগিয়ে আছে। দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী বালেন শাহ ঝাপায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে পেছনে ফেলেছেন।

নেপালের গণতন্ত্র এখনো তুলনামূলকভাবে তরুণ। ২০০৮ সালে দেশটি প্রজাতন্ত্র হওয়ার পর থেকে রাজনীতি তরলই রয়ে গেছে। জোট বদলেছে, নতুন দল উঠে এসেছে। এই পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি সেসব প্রচেষ্টার একটি, যা নেপালের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুনভাবে গড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

তথ্যসূত্র: দ্য স্টেটসম্যান

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত