
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পৃথকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি আলোচনার কোথাও ইসরায়েলের অংশগ্রহণ ছিল না বলে অভিযোগ করে ইসরায়েল সরকারের ওপর খেপেছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা পোস্টে তিনে বলেছেন, ইসরায়েলের ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর কখনোই ঘটেনি। কারণ, ‘জাতীয় নিরাপত্তার মূল প্রশ্নগুলো নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরায়েল সেই আলোচনার টেবিলেই ছিল না’—বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
ইয়াইর লাপিদ বলেন, ‘আমাদের সমগ্র ইতিহাসে এমন রাজনৈতিক বিপর্যয় আর কখনো ঘটেনি। জাতীয় নিরাপত্তার মূল প্রশ্নগুলো নিয়ে যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছিল, তখন ইসরায়েল সেই আলোচনার টেবিলেই ছিল না।’
ইয়াইর লাপিদ আরও বলেন, ইসরায়েলের ‘সামরিক বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত প্রতিটি দায়িত্বই পালন করেছে। সাধারণ মানুষও অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু (প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন) নেতানিয়াহু রাজনৈতিকভাবে ব্যর্থ হয়েছেন, কৌশলগতভাবেও ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি নিজে যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার একটিও পূরণ করতে পারেননি।’
লাপিদ অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের ‘অহংকার, অবহেলা এবং সুস্পষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনার অভাবে নেতানিয়াহু যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত ক্ষতি ডেকে এনেছেন, তা কাটিয়ে উঠতে আমাদের বহু বছর লাগবে।’
এর আগে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার চার ঘণ্টা পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতি দিয়ে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায়। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের ভিন্ন দাবির বিপরীতে এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে, যার মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই শর্তে যে ইরান অবিলম্বে প্রণালিগুলো খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিরুদ্ধে সব ধরনের হামলা বন্ধ করবে।’
উল্লেখ্য, বিবৃতিটি শুধু ইংরেজিতেই প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রচেষ্টাকেও সমর্থন করে, যার লক্ষ্য হলো নিশ্চিত করা—ইরান যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরানের আরব প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বিশ্বের জন্য কোনো পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র বা সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না ওঠে।’
এতে আরও বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনায় তারা এই লক্ষ্যগুলো অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্যগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলের আঞ্চলিক মিত্রদের অভিন্ন লক্ষ্য।’ নেতানিয়াহুর কার্যালয় আরও বলেছে, ‘দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না।’

আমেরিকা ও ইসরায়েলের সঙ্গে দুই সপ্তাহের ‘যুদ্ধবিরতি’র প্রথম দিনেই ইরানের রাজধানী তেহরান ও পার্শ্ববর্তী আলবোর্জ প্রদেশে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। ড্রোন ঠেকাতে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে এই ঘটনা ঘটে।
৬ মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি ইরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। মাত্র কয়েক দিন আগেও রাজধানী তেহরানের ব্যস্ত এক মোড়ে বিশাল ব্যানারে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল—‘হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে’।
২৪ মিনিট আগে
অথচ গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে জানাচ্ছি, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে লেবাননসহ সব স্থানে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে।’
২ ঘণ্টা আগে
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের বেশ কিছু স্থানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের খবর পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই পরিস্থিতিতে শান্তিপ্রক্রিয়া বজায় রাখতে সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
২ ঘণ্টা আগে