Ajker Patrika

ইরানের ওপর খেপেছে আজারবাইজান

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ২২: ৩৫
ইরানের ওপর খেপেছে আজারবাইজান
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার ছড়িয়ে পড়েছে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলেও। সীমান্তে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াল এবার আজারবাইজান। দেশটির সরকার জানিয়েছে, নিরাপত্তার কারণে তারা ইরান থেকে নিজেদের কূটনৈতিক কর্মীদের ফেরত নিয়েছে।

আজারবাইজানের অভিযোগ, ইরান থেকে উড়ে আসা চারটি ড্রোন তাদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল নাখচিভানে প্রবেশ করে। এই অঞ্চলটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এবং ইরান, তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় সংঘাতের সময় বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

ড্রোনগুলোর একটি নাখচিভানের বিমানবন্দর টার্মিনালে আঘাত হানে। আরেকটি একটি স্কুলের কাছাকাছি বিস্ফোরিত হয়ে বেসামরিক নাগরিকদের আহত করেছে। তৃতীয় আরেকটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে আজারবাইজানের নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনার পর আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এটিকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং তেহরানের কাছে এর ব্যাখ্যা ও ক্ষমা দাবি করেছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ মার্চ) ইলহাম আলিয়েভ আরও এক ধাপ এগিয়ে তেহরানে অবস্থিত আজারবাইজান দূতাবাস এবং তাবরিজ শহরে অবস্থিত কনস্যুলেট থেকে নিজেদের কূটনৈতিক কর্মীদের ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, একই সঙ্গে দেশটির সেনাবাহিনীকে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রাখা হয়েছে।

তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তেহরানের দাবি, হামলাটি সম্ভবত একটি ‘ভুয়া অভিযান’, যা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ঘটানো হয়েছে।

এ ঘটনার মধ্যেই আলিয়েভ ইরানে বসবাসকারী বিপুলসংখ্যক জাতিগত আজারির বিষয়টিও সামনে এনেছেন। এটি ইরানের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু। ধারণা করা হয়, ইরানে প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি জাতিগত আজারি বসবাস করেন। মূলত ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আজারবাইজান সীমান্তবর্তী এলাকায় তাঁদের বসবাস।

আলিয়েভ বলেন, ‘স্বাধীন আজারবাইজান ইরানে বসবাসকারী আজারিদের জন্য আশার জায়গা।’ বিশ্লেষকদের মতে, এত সরাসরি ভাষায় আগে খুব কমই এই প্রসঙ্গ তুলেছেন আলিয়েভ।

ঐতিহাসিকভাবেও ইরানে আজারি জনগোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। বর্তমান ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান নিজেও জাতিগতভাবে আজারি। এমনকি সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও আজারি বংশোদ্ভূত বলে অনেকে দাবি করেন।

তবে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের সঙ্গে আজারবাইজানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২০ ও ২০২৩ সালে আর্মেনিয়ার সঙ্গে কারাবাখ যুদ্ধে আজারবাইজানের সামরিক সাফল্যের পর এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ওই যুদ্ধে তুরস্ক ও ইসরায়েলের অস্ত্র ব্যবহার করেছিল আজারবাইজান।

ইরান বরাবরই ইসরায়েলের সঙ্গে আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতাকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। তেহরানের অভিযোগ, আজারবাইজান ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের ইরানের উত্তর সীমান্তে কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করে—যদিও বাকু এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

এদিকে আজারবাইজান বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী। দেশটির তেল কাস্পিয়ান সাগর থেকে জর্জিয়া হয়ে তুরস্কের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে পৌঁছানো একটি দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে যায়। এই পাইপলাইন প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করে এবং রাশিয়া ও ইরানকে এড়িয়ে এটি ইউরোপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হিসেবে বিবেচিত।

দুই দেশই সংঘাত বাড়াতে চায় না দাবি করলেও সীমান্তে ড্রোন হামলার অভিযোগ এবং ইরানের আজারিদের প্রসঙ্গ সামনে আনার ফলে পরিস্থিতি নতুন ও অনিশ্চিত মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ইরান যুদ্ধে পালানটিরের ‘মেভেন’ যেন ১২ ঘণ্টায় ৯০০ আজরাইল

বিশ্ব অর্থনীতিতে অশনিসংকেত: দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ জ্বালানি তেলের দাম

ব্রিটেনের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বোমারু বিমান, হামলা কি রাতেই

ইরানকে গোপনে মার্কিন সামরিক গতিবিধির তথ্য দিচ্ছে রাশিয়া

অতিথির রণতরি ডুবল মার্কিন হামলায়, প্রশ্নের মুখে ‘মহাসাগরের রক্ষক’ মোদি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত