Ajker Patrika

চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানির কারখানায় অগ্নিসংযোগ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানির কারখানায় অগ্নিসংযোগ
এলবিট সিস্টেমসের সদর দপ্তর। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের দেশ চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের বৃহত্তম অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’-এর একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ‘আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামক একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসন ও দখলদারিত্বের প্রতিবাদে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আর্থকোয়েক ফ্যাকশন এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ২০ মার্চ তারা চেক প্রজাতন্ত্রের পারদুবিস শহরে এলবিট সিস্টেমস-এর নবনির্মিত ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’-এ হামলা চালিয়েছে। চেক প্রজাতন্ত্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানি এলপিপি-এর সহযোগিতায় নির্মিত এই কারখানাটি মূলত ইসরায়েলি অস্ত্র শিল্পের বিশ্বব্যাপী প্রসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছিল। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা কারখানার ভেতরে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে এবং পুরো কারখানায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তবে এই হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে তারা নিশ্চিত করেছে।

নিজেদের ‘আন্তর্জাতিক আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্ক’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া এই গোষ্ঠীটি তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছে। তারা বলেছে, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিন ও পশ্চিম এশিয়ায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে মানুষের রক্ত ঝরবে, ততক্ষণ এই দখলদারিত্বের স্পনসর বা পৃষ্ঠপোষকদের পায়ের নিচের মাটি কাঁপতেই থাকবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এলবিট সিস্টেমস প্রতিটি অস্ত্র প্রথমে ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘পরীক্ষা’ করে এবং পরে তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে বিক্রি করে। ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে গড়া এই রক্তাক্ত ব্যবসার বিরুদ্ধে তারা বিশ্বজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

আর্থকোয়েক ফ্যাকশন স্পষ্ট করেছে, তারা এই ঘটনার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বা সরকারগুলোর কাছে আর কোনো আবেদন জানাবে না। তাদের ভাষ্যমতে, ‘আন্তর্জাতিক সরকারগুলোর কাছে ভিক্ষা চাওয়ার সময় শেষ। সুন্দরভাবে অনুরোধ করে আমরা আমাদের নিশ্বাস নষ্ট করতে চাই না। পরিবর্তে, তাদের হত্যার হাতিয়ারগুলো ধ্বংস করতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

চেক প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ এই অগ্নিকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ইউরোপের মাটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় এমন হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনপন্থী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর এমন সরাসরি অ্যাকশন মধ্যপ্রাচ্য সংকটের আঁচ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত