Ajker Patrika

ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা আগেভাগে জানাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৬, ২০: ২৪
ইরানে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা আগেভাগে জানাতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র
পেন্টাগনে আজ মঙ্গলবার যৌথ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। ছবি: সিএনএন

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সাম্প্রতিক এক ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেছেন, ইরানে স্থল সেনা মোতায়েনের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ‘অনিশ্চিত’ অবস্থান বজায় রাখতে চায়, যাতে প্রতিপক্ষ কখনোই নিশ্চিতভাবে বুঝতে না পারে যুক্তরাষ্ট্র কী করতে যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, যুদ্ধে জিততে হলে নিজের পরিকল্পনা আগে থেকে জানিয়ে দেওয়া বোকামি। তাঁর ভাষায়, ‘আপনি যদি প্রতিপক্ষকে বলে দেন আপনি কী করবেন বা করবেন না, তাহলে আপনি কার্যত যুদ্ধের সক্ষমতাই হারিয়ে ফেলেন।’

হেগসেথ দাবি করেন, বর্তমানে ইরান মনে করছে, স্থল অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্তত ১৫টি ভিন্ন উপায় রয়েছে এবং বাস্তবেও এমন বহু বিকল্প প্রস্তুত আছে।

হেগসেথ জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র এসব সামরিক বিকল্প কার্যকর করতে সক্ষম। তবে একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাও খোলা রাখেন। তিনি বলেন, ‘হয়তো আমাদের এসব ব্যবহার করতে হবে না। হয়তো আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হবে কিংবা অন্য কোনো পথ বের হবে। মূল বিষয় হলো—আমরা কী করব বা করব না, তা কাউকে জানানো যাবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, মার্কিন বাহিনীর হাতে বিস্তৃত সামরিক বিকল্প রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন শুধু স্থল অভিযানের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল হিসেবেও কাজ করে। তাঁর মতে, ইরানের উচিত এই সামরিক উপস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখনো একটি সমঝোতায় পৌঁছানো। হেগসেথ স্পষ্ট করে বলেন, ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করা যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্রধান লক্ষ্য’। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র চায় এমন একটি সমাধান, যা বর্তমান উত্তেজনার অবসান ঘটাবে। তবে যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে বিকল্প পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।

হেগসেথ আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরান-সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কখন পূর্ণ হয়েছে এবং কখন চুক্তি করা হবে, সে সিদ্ধান্ত একমাত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর নির্ভর করবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত