
গত বছরের ডিসেম্বরে মিসরের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে দেশের ঋণ-সংকট সামাল দিতে সহায়তা চায় সরকার। কিন্তু বাহিনী সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। অথচ সেনাবাহিনীর গোপন রিজার্ভে মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণের চেয়েও বেশি পরিমাণ অর্থ রয়েছে, এমন দাবি করেছেন দেশটির জ্যেষ্ঠ ব্যাংকিং ও সরকারি কর্মকর্তারা। তাঁরা এই তথ্য জানিয়েছেন মিডল ইস্ট আইকে।
এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মিসর তীব্র আর্থিক চাপে রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে, অভ্যন্তরীণ তারল্য সংকুচিত হচ্ছে, আর সরকার হিমশিম খাচ্ছে ঋণের কিস্তি পরিশোধে। এই প্রেক্ষাপটে মিসরের অর্থনীতিতে সেনাবাহিনীর অস্বচ্ছ ও প্রভাবশালী ভূমিকা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে (আইএমএফ) প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার কথা ছিল মিসরের। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় সরকার। শেষ পর্যন্ত ‘নীতিগতভাবে’ সিদ্ধান্ত হয়, আসন্ন আইএমএফ কিস্তি থেকে ওই অর্থ কেটে নেওয়া হবে এবং তার ওপর সুদ যোগ করা হবে।
তবে এই ব্যবস্থার শর্তাবলি কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। মিসর সরকার ও আইএমএফ—উভয় পক্ষই বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেনি। এক জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে সরকার তিন ট্রিলিয়ন মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৬৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার) ঋণ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু তারল্যসংকটের কথা বলে দেশীয় ব্যাংকগুলো তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।’
ওই জ্যেষ্ঠ ব্যাংক কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অন্য কোনো উৎস থেকে ঋণ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় সরকার শেষ পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর কাছে সাহায্য চায়।’ ওই কর্মকর্তা জানান, সামরিক বাহিনীর ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অথরিটির প্রধান সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কাছেও তোলা হলেও সিদ্ধান্ত বদলায়নি।
ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা মাদবুলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আবদেল-মেজিদ সাকারকে ফোন করে আইএমএফের সর্বশেষ কিস্তি পরিশোধে সহায়তার অনুরোধ জানান। কিন্তু সেই আবেদনও দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে মিডল ইস্ট আইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওই কর্মকর্তা।
কেন প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির কাছে একই অনুরোধ করেননি, তা স্পষ্ট নয়। সিসি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং ধারণা করা হয়, এসব রিজার্ভের ওপর তাঁর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায় দাঁড়ায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, মিসরের সেনাবাহিনীর কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা বেসামরিক সরকারের নাগালের বাইরে। তাঁর দেওয়া হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ মিসরের মোট বৈদেশিক ঋণ—১৬১ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যদিও মিডল ইস্ট আই এই অঙ্ক স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি, তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ উল্লেখ করছে না।
সরকারি হিসাবের ওপর সরাসরি নজরদারি থাকা ওই কর্মকর্তা বলেন, এই সামরিক তহবিল ‘বাস্তব এবং আক্ষরিক অর্থেই বিদ্যমান’ এবং তা দেশের দুই প্রধান রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক অব ইজিপ্ট ও বান্ক মিসরে রাখা আছে। তবে এই অর্থ পুরোপুরি বেসামরিক কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তিনি বলেন, ‘এই অর্থ মিসরের ব্যাংকেই আছে, কিন্তু তা ব্যবহার করা বা ঋণ পরিশোধে লাগানো একেবারেই অসম্ভব।’
ওই কর্মকর্তা যুক্তি দেন, তাত্ত্বিকভাবে সেনাবাহিনী চাইলে মিসরের সব বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিশোধ করতে পারে এবং ডলার-সংকটের সমাধান করতে পারে। কিন্তু তারা অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে চায় না। তাঁর ভাষায়, সামরিক প্রকল্পের প্রকৃত পরিমাণ ও তহবিলের বিস্তারিত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন। এসব বিষয়ে কোনো ধরনের নজরদারি নেই। শুধু প্রেসিডেন্ট সিসি ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারাই এসব জানেন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের একটি সূত্রও একই ধরনের অঙ্কের কথা উল্লেখ করেছে এবং দুই ব্যাংকে সেনাবাহিনীর আমানতের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে, তবে বিস্তারিত জানায়নি। এই গুরুতর অভিযোগ মিসরের সেনাবাহিনীর আর্থিক শক্তির অস্বচ্ছ দিকটি সামনে এনেছে। মিসরের ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের তথ্য গণমাধ্যমকে দেয় না। সেনাবাহিনীও তাদের আর্থিক হিসাব প্রকাশ করে না, যা পুরোপুরি বেসামরিক নজরদারির বাইরে।
নভেম্বরে স্থানীয় ব্যাংকগুলো সরকারকে দেড় লাখ কোটি মিসরীয় পাউন্ড ঋণ দেয়, যাতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ কিস্তি পরিশোধ করা যায়। এর ফলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ডিসেম্বরের শেষ দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মাদবুলি বলেন, বছরের শেষ নাগাদ সরকার ‘অভূতপূর্বভাবে ঋণ কমাবে।’
রাষ্ট্রক্ষমতার ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমগুলো তখন প্রচার করে, ঋণ কমানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়েক দিনের মধ্যেই ‘চমকপ্রদ’ ও ‘বিস্ফোরক’ ঘোষণা দেবেন। কিন্তু বছরের শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে বড় কোনো ঘোষণা আসেনি।
ওই ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, ২০২২ সালে তীব্র ডলার-সংকটের সময় সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। তখন আমদানিকারকরা প্রয়োজনীয় ডলার না পাওয়ায় বন্দরে পণ্য আটকে যায়। তিনি বলেন, ‘সে সময় সেনাবাহিনী ১০ বিলিয়ন ডলার সরবরাহ করে সংকট সামাল দেয়। প্রধানমন্ত্রী তখন এটিকে জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উপস্থাপন করেন, যদিও তিনি সরাসরি সেনাবাহিনীর কথা বলেননি।’
তিনি বলেন, ‘পরে সেনাবাহিনীকে মিসরের বৈদেশিক ঋণের পুরোটা বা অন্তত একটি অংশ পরিশোধে অবদান রাখার প্রস্তাব বারবার দেওয়া হয়। কিন্তু প্রতিবারই তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানানো হয়, এ বিষয়ে আর কথা তোলা যাবে না।’ এই অবস্থান এখনো বহাল, যদিও মিসরের বড় অংশের ঋণ অস্ত্র কেনা বা এমন বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত, যেখান থেকে সেনাবাহিনী আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে।
এমনকি সেনাবাহিনীর নিজের নামে নেওয়া ঋণ পরিশোধের প্রস্তাবও নাকচ করে দেওয়া হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত এক ব্যাংকের আরেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেনাবাহিনী বারবার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে—এমনকি নিজের নামে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেও রাজি হয়নি।’
মিসরের অর্থনীতিতে সেনাবাহিনীর আধিপত্যের সূচনা ১৯৫২ সালের জুলাই বিপ্লবের পর। ২০১১ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর, হোসনি মোবারকের পতনের সময় সুপ্রিম কাউন্সিল অব দ্য আর্মড ফোর্সেস (এসসিএএফ) ক্ষমতা নেওয়ার পর এই ভূমিকা আরও বাড়ে। ২০১৪ সালে প্রেসিডেন্ট সিসির ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়। নির্মাণ, কৃষি ও বিভিন্ন বেসামরিক খাতে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হয়। সরকার একে জাতীয় প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অজুহাতে বৈধতা দেয়।
সেনাবাহিনীর আয় আসে অসংখ্য কোম্পানি ও বিনিয়োগ থেকে, যা প্রায় সব খাতে বিস্তৃত। আমদানি-রপ্তানির বড় অংশ সামরিক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে, যা বিপুল মুনাফা এনে দেয়। এ ছাড়া জমি বিক্রি, আবাসন প্রকল্প, মহাসড়কের টোল প্লাজা থেকেও কোটি কোটি পাউন্ড আয় হয়, যা সরাসরি সামরিক হিসাবেই জমা হয়। ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘এখন দেশের প্রায় সব অর্থনৈতিক খাত সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।’
তিনি জানান, সেনাবাহিনী কৌশলগত ও প্রয়োজনীয় পণ্য বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আমদানি করে এবং লাভে সরকারকে সরবরাহ করে। সেই অর্থ সরাসরি সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যাংক হিসাবে যায়। সরকার যখন তীব্র অর্থসংকটে থাকে, তখনো সরকারি ঋণ ও সামরিক তহবিল পুরোপুরি আলাদা থাকে। চালসহ কিছু পণ্য রপ্তানির একচেটিয়া অনুমতি সেনাবাহিনীর রয়েছে, যদিও সরকারের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আছে। কর্মকর্তার মতে, মিসরের স্বর্ণ খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ২০১৪ সালের এক আইনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে খনিজ সম্পদ আহরণ অনুমোদনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। অধিকাংশ খনি সামরিক নিয়ন্ত্রিত এলাকায়। এই খাতগুলো থেকে প্রতি মাসে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হয়, যা সরাসরি সামরিক হিসাবে জমা হয়।
একটি সূত্র বলেছে, ‘স্বর্ণখনি থেকে উৎপাদনের ৫০ শতাংশ সেনাবাহিনী পায়। এতে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় হয়। এর বাইরে কাঁচা সোনা আমদানি, পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ ও পুনঃরপ্তানি থেকে বছরে বিলিয়ন ডলার আয় হয়।’
জুলাইয়ে আইএমএফ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানায়, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক মডেল মিসরের বেসরকারি খাতকে ধ্বংস করছে, বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে এবং দেশকে ঋণের চক্রে আটকে রাখছে। ২৩ ডিসেম্বর আইএমএফ জানায়, তারা মিসরের সঙ্গে স্টাফ-লেভেল চুক্তিতে পৌঁছেছে। এতে আড়াই বিলিয়ন ডলার নতুন অর্থ ছাড় হতে পারে, সঙ্গে আরও ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার—সব মিলিয়ে আইএমএফ বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে।
এই ঋণ কর্মসূচি মার্চ ২০২৪-এ সম্প্রসারিত ৮ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির অংশ, যার লক্ষ্য উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ডলার-সংকটে জর্জরিত অর্থনীতি স্থিতিশীল করা। আইএমএফ বলেছে, কিছু অগ্রগতি হলেও রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি এবং অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের ভূমিকা কমানোর মতো কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি ও মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের অন্তত ১৩১টি শহরে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন ইরানি নিহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এবং লন্ডন থেকে প্রকাশিত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক...
১ ঘণ্টা আগে
কুয়েতে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আজ জাজিরা কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দেশে ‘বেশ কয়েকটি’ মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে, তবে সব ক্রু বেঁচে গেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আজ সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হিসেবে তিনিই প্রথম এই পরিষদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাতেই যাবে না। এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি। তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তুরস্কের রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
৩ ঘণ্টা আগে