হাম (মিজলস) শুধু একটি সাধারণ জ্বর বা ত্বকের র্যাশ নয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সাময়িকভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে জটিলতা সৃষ্টি করে। হামের ভয়াবহ প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি হলো চোখের ক্ষতি। সঠিক সময়ে ব্যবস্থা না নিলে এ রোগে যে কেউ চিরতরে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
হাম কীভাবে চোখের ক্ষতি করে
হাম ভাইরাস সরাসরি চোখের টিস্যু আক্রমণ করতে পারে অথবা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দিয়ে অন্যান্য সংক্রমণের পথ খুলে দিতে পারে। মূলত তিনটি উপায়ে হাম চোখের ক্ষতি করে—
ভিটামিন ‘এ’র অভাব: হাম হলে শরীরে সঞ্চিত ভিটামিন ‘এ’ দ্রুত শেষ হয়ে যায়। চোখের কর্নিয়ার সুস্থতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এর অভাবে কর্নিয়া শুকিয়ে যায় এবং অন্ধত্ব দেখা দেয়।
সরাসরি ভাইরাল আক্রমণ: হামের ভাইরাস সরাসরি চোখের সামনের স্বচ্ছ অংশ বা কর্নিয়া এবং কনজাংটিভায় প্রদাহ সৃষ্টি করে।
সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন: হামের কারণে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার কারণে চোখ সহজে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়, যা চোখের গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে।
হামের ফলে চোখের সম্ভাব্য জটিলতা
হাম হওয়ার কারণে চোখে সাধারণ অস্বস্তি থেকে শুরু করে স্থায়ী অন্ধত্ব পর্যন্ত হতে পারে। হামের প্রধান জটিলতাগুলো হলো—
কনজাংটিভাইটিস
হামের শুরুর দিকে প্রায় সব রোগীরই চোখ লাল হয়ে যায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং আলোতে তাকালে অস্বস্তি হয়। একে সাধারণত ‘চোখ ওঠা’ বলা হয়।
কর্নিয়াল আলসার বা ক্ষত
হামের সময় চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া না হলে কর্নিয়ায় ঘা কিংবা আলসার হতে পারে। এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং সময়মতো চিকিৎসা না করালে কর্নিয়া ফুটো হয়ে যেতে পারে।
জেরোপথালমিয়া
ভিটামিন ‘এ’র তীব্র অভাবে চোখ শুকিয়ে যায়। সে কারণে এই অবস্থাকে জেরোপথালমিয়া বলে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হলো রাতকানা রোগ। পরবর্তী সময়ে এটি চোখের কর্নিয়াকে গলিয়ে ফেলে এবং চোখ স্থায়ীভাবে অন্ধ করে দিতে পারে।
অন্ধত্ব
হামের পর কর্নিয়ায় যে দাগ পড়ে, তা যদি চোখের মণির ঠিক মাঝখানে হয়, তবে দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমে যায় কিংবা পুরোপুরি হারিয়ে যায়।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়া
হাম শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল রোগীকে খাওয়াতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত শিশুদের দুই দিনে দুটি ডোজ দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটি কর্নিয়ার ক্ষতি রোধে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।
চোখ পরিষ্কার রাখা
পরিষ্কার তুলা অথবা নরম সুতি কাপড় কুসুম গরম পানিতে ভিজিয়ে আলতো করে চোখের কোণ এবং পুঁজ পরিষ্কার করতে হবে। তবে একই তুলা কিংবা কাপড় দিয়ে বারবার দুই চোখ মোছা যাবে না। এ ছাড়া প্রতিবার পরিষ্কার অংশ ব্যবহার করতে হবে।
পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা
বুকের দুধ পান করা শিশুদের পর্যাপ্ত বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। গাজর, মিষ্টিকুমড়া, ছোট মাছ, পালংশাকের মতো ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। এ ছাড়াপানিসহ প্রচুর তরল খাবার দিতে হবে।
আলোর তীব্রতা কমানো
হামে আক্রান্ত হওয়ার সময় চোখ আলোর প্রতি সংবেদনশীল থাকে। তাই রোগীকে অন্ধকার কিংবা মৃদু আলোময় ঘরে রাখা ভালো। এতে চোখের ওপর চাপ কম পড়ে।
চিকিৎসকের পরামর্শে আই ড্রপ
চোখে সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। সে অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক আই ড্রপ কিংবা অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে নিজের ইচ্ছেমতো কোনো ধরনের স্টেরয়েড জাতীয় ড্রপ ব্যবহার করা যাবে না। এর ফলে চোখের ক্ষতি আরও বাড়তে পারে এবং দৃষ্টিশক্তির ভীষণ সমস্যা হতে পারে।
যা করা যাবে না
চোখ রগড়ানো: চোখ চুলকালে কিংবা অস্বস্তি হলে হাত দিয়ে কোনোভাবেই রগড়ানো যাবে না। এতে কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অপরিষ্কার হাত ব্যবহার: অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ স্পর্শ করা যাবে না।
কবিরাজি চিকিৎসা: চোখে গোলাপজল, দুধ, মধু কিংবা কোনো ধরনের গাছপালার রস দেওয়া যাবে না। এসব রস সংক্রমণের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
মনে রাখা জরুরি, হামের কারণে হওয়া অন্ধত্ব সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং টিকা গ্রহণের মাধ্যমে শিশুদের এই ভয়াবহ বিপদ থেকে রক্ষা করা সম্ভব। যদি হামে আক্রান্ত রোগীর চোখে অতিরিক্ত লাল ভাব, অস্বস্তি কিংবা দেখতে সমস্যা হয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ চক্ষুবিশেষজ্ঞ অথবা হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: ডা. মো. আরমান হোসেন রনি, কনসালট্যান্ট (চক্ষু) দীন মোহাম্মদ আই হসপিটাল, সোবহানবাগ, ঢাকা

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামীকাল রোববার থেকে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ শনিবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
১৪ মিনিট আগে
আসছে বৈশাখ। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় গরম পড়া শুরু হয়ে গেছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, এবার বেশ ভালোই গরম পড়তে চলেছে। গরমের মাসগুলোতে বাতাসে পরাগরেণু এবং অন্যান্য অ্যালার্জেনের আধিক্য বেড়ে যায়, যা অনেকের জন্য সাইনাসের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৬ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালে চীনের মানুষের গড় আয়ু বেড়ে ৭৯ বছর ৩ মাসে দাঁড়িয়েছে, ২০২০ সালের তুলনায় যা ১ দশমিক ৩২ বছর বেশি। সম্প্রতি চীনের বার্ষিক আইনসভা অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান লেই হাইছাও এই তথ্য জানান।
৬ ঘণ্টা আগে
মানুষের মস্তিষ্ক ২০ শতাংশ শক্তি কিংবা ক্যালরি ব্যবহার করে। এই শক্তি মূলত আসে খাদ্য থেকে পাওয়া গ্লুকোজ এবং পুষ্টি উপাদান থেকে। মস্তিষ্ক শরীরে একটি জটিল অঙ্গ, যা সঠিক পুষ্টি ছাড়া কোনোভাবে সর্বোচ্চ দক্ষতায় কাজ করতে পারে না।
৭ ঘণ্টা আগে