
পরিবারের শিশুটির জন্য খাবার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাজা ফল, সবজি, মাছসহ স্বাস্থ্যকর খাবার বাছাই করা হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী পরিবারের শিশু সদস্যটি কী ধরনের পানীয় গ্রহণ করছে, সেদিকে খেয়াল রাখছেন তো? অনেকেই শিশু-কিশোরদের পানীয় গ্রহণের পরিমাণ বা কী ধরনের পানীয় গ্রহণ করা ক্ষতিকর, সে বিষয়ে খেয়াল রাখেন না। তবে চারটি মার্কিন শীর্ষস্থানীয় জাতীয় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংস্থা এক গবেষণায় সুপারিশ করেছে, শিশুরা কী পানীয় গ্রহণ করছে এবং কতটুকু পরিমাণে, সেটিও বিবেচনায় রাখা উচিত।
গবেষণায় স্কুলবয়সী শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বাস্থ্যকর পানীয় গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। বয়স অনুযায়ী পানির চাহিদা, পানীয়ের ধরন, সীমিত পরিমাণে গ্রহণযোগ্য পানীয় এবং যেসব পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, সে কথা বলা আছে।
শিশুদের কতটুকু দুধ পান করা উচিত, জুস বা জুসজাতীয় পানীয় কি সুপারিশযোগ্য এবং স্পোর্টস ড্রিংক শিশুদের জন্য স্বাস্থ্যকর কি না—এসব বিষয় অভিভাবকদের ভাবনায় রাখা উচিত।
এসব বিষয়ে সিএনএন জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির অ্যাডজাংক্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. লিয়ানা ওয়েনের সঙ্গে কথা বলেছে। দুই সন্তানের জননী লিয়ানা বাল্টিমোরের স্বাস্থ্য কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
লিয়ানা ওয়েন বলেন, বাবা-মায়েরা যেভাবে তাদের সন্তানের খাবার নিয়ে সচেতন, ঠিক সেভাবেই তাদের পানীয়ের ব্যাপারেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন প্রায় ৪০ আউন্স (প্রায় ৫ কাপ) তরল পান করা উচিত। ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের জন্য এই পরিমাণ ৫৪ থেকে ৬১ আউন্স (প্রায় ৭ থেকে ৭.৫ কাপ) এবং ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য এটি ৬১ থেকে ৮৮ আউন্স (প্রায় ৭.৫ থেকে ১১ কাপ) হওয়া উচিত।
লিয়ানা বলেন, শিশুর মোট জলীয় চাহিদা তার শারীরিক গঠন, দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপের মাত্রা এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে। শিশুদের পানির চাহিদার বেশির ভাগই পানি থেকেই পূরণ করা সম্ভব।
সিএনএনের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, শিশুরা যে দুধ ও জুস খেতে পছন্দ করে, সেগুলোর বেলায় কী হবে? লিয়ানা বলেন, বিশেষজ্ঞরা সাধারণত পাস্তুরিত দুধ পান করার পরামর্শ দেন—৫ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২০ আউন্স এবং বয়স্ক শিশুদের জন্য সর্বোচ্চ ২৪ আউন্স। তবে মিষ্টি-স্বাদযুক্ত দুধ (যেমন চকোলেট দুধ, স্ট্রবেরি দুধ ইত্যাদি) সুপারিশ করা হয় না, কারণ এতে প্রতি পরিবেশনে উচ্চমাত্রায় সংযোজিত চিনি থাকে।
জুসের পরিমাণ এর চেয়ে কম হওয়া উচিত বলে মনে করেন লিয়ানা। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে শিশুদের জুস পান করার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং তাদের দৈনিক ফলের চাহিদা পুরো ফল খেয়ে পূরণ করাই সবচেয়ে ভালো।
যারা স্কুলের পর বা অবসর সময়ে খেলাধুলায় অংশ নেয়, তারা কীভাবে জলীয় চাহিদা পূরণ করবে—এই প্রশ্নের জবাবে ড. লিয়ানা বলেন, শিশুদের স্পোর্টস ড্রিংক না দেওয়াই ভালো। অনেক স্পোর্টস ড্রিংকে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে, যা অস্বাস্থ্যকর। সাধারণত এগুলোর প্রয়োজন হয় না। শরীরের জলীয় চাহিদা শুধু পানির মাধ্যমেই পূরণ করা সম্ভব।
লিয়ানা আরও বলেন, কিছু স্পোর্টস ড্রিংক এনার্জি ড্রিংক হিসেবে বাজারজাত করা হয়, যাতে ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদান থাকতে পারে। ক্যাফেইন ও অন্যান্য উত্তেজক উপাদানযুক্ত পানীয় শিশু ও কিশোরদের কখনোই দেওয়া যাবে না।
শিশুদের তরল গ্রহণের জন্য মিষ্টি পানীয়র ওপর নির্ভর না করে সাধারণ পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলেন ড. লিয়ানা। তিনি আরও বলেন, পাস্তুরিত দুধও একটি ভালো বিকল্প। ১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ জুস অল্প পরিমাণে গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে ফ্লেভারযুক্ত দুধ ও জুসজাতীয় পানীয়সহ অন্যান্য পানীয় দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হওয়া উচিত নয়।
ড. লিয়ানা বলেন, ‘আমার পরিবারও সাধারণত এভাবেই চলে। আমরা পানীয় হিসেবে প্রধানত পানি ও দুধের ওপর গুরুত্ব দিই। জুসকে বিশেষ উপলক্ষের খাবার হিসেবে ধরা হয়, প্রতিদিন দেওয়া হয় না। যদি আমার সন্তানেরা কোনো পার্টিতে যায় এবং সেখানে জুসজাতীয় পানীয় থাকে, আমরা তাদের সেটি পান করতে দিই। তবে ব্যাখ্যা করি যে, এটি বিশেষ উপলক্ষের পানীয়। আমরা সোডা, স্পোর্টস ড্রিংক বা এনার্জি ড্রিংক দিই না।’

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে