সঠিক খাদ্যাভ্যাস থাকা সত্ত্বেও রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। আবার কোনো খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লেগে যায়। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণের সঠিক উপায় অনেকে খুঁজে ফিরছেন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ফাইবার একটি ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে কাজ করে। এটি হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি রোধ করে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়।
ফাইবার কেন চাবিকাঠি
ডায়েটারি ফাইবার হলো এমন এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা আমাদের শরীর পুরোপুরি হজম করতে পারে না। রিফাইন করা কার্বোহাইড্রেটের মতো এটি রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় না; বরং এটি রক্তপ্রবাহে গ্লুকোজ শোষণের গতি কমিয়ে দেয়। সলিউবল বা দ্রবণীয় এবং ইনসলিউবল বা অদ্রবণীয়—এই দুই ধরনের ফাইবার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ফাইবার গ্রহণ ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বা ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুব জরুরি।
শর্করা নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন সবজি
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ফাইবারসমৃদ্ধ অনেক সবজি থাকলেও কয়েকটি সবজি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
ব্রকলি: প্রতি এক কাপ ব্রকলিতে প্রায় ২ দশমিক ২ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিনে ভরপুর। ব্রকলিতে ক্যালরি খুব কম কিন্তু ফাইবার বেশি থাকায় এটি হজমপ্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থির রাখতে সহায়ক। ব্রকলির একটি বিশেষ গুণ হলো, এতে সালফোরাফেন নামক উপাদান রয়েছে, যা রক্তে শর্করা কমানোর ক্ষমতা রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, সালফোরাফেন সমৃদ্ধ ব্রকলির নির্যাস ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে অত্যন্ত কার্যকর। এই ভেষজ রাসায়নিক তখন উৎপন্ন হয়, যখন ব্রকলি কাটা কিংবা চিবানো হয়। এ ছাড়া রান্না করা ব্রকলির সঙ্গে সরিষার গুঁড়া যোগ করলে এর গুণাগুণ আরও বাড়ে।
মটরশুঁটি: এক কাপ রান্না করা মটরশুঁটিতে প্রায় ৮ দশমিক ৮ গ্রাম ফাইবার থাকে। এটি খুব ধীরগতিতে হজম হয়, ফলে খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়ে না। এটি খাবারের প্রাকৃতিক মিষ্টির স্বাদ যোগ করলেও গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে রাখে।
শিম: শিম ও ডালজাতীয় খাবার যেমন; মসুর ডাল ও ছোলায় ম্যাগনেশিয়াম, প্রোটিন এবং ফাইবারে ভরপুর। এগুলো বিশেষ করে সলিউবল ফাইবার এবং রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ সমৃদ্ধ, যা হজমপ্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয় এবং খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস

রমজান হলো আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। তবে খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এই সময়ে আমাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কিংবা ইমিউন সিস্টেম কিছুটা ভিন্নভাবে কাজ করে। একজন চিকিৎসক ও অণুজীববিজ্ঞানী হিসেবে মনে করি, সঠিক বৈজ্ঞানিক সচেতনতা থাকলে রোজার মাধ্যমেও শরীর রোগমুক্ত, দূষণমুক্ত...
২ দিন আগে
রমজান মাস আমাদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক উন্নতির সময় হলেও এই সময়ে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অংশের, বিশেষত চোখের যত্ন নেওয়া জরুরি। দীর্ঘ সময় সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত পানাহার এবং ঘুমের অভাব আমাদের চোখের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই রমজানে চোখের সঠিক যত্ন নেওয়া প্রয়োজন।
২ দিন আগে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতিকে বলা হয় হাইপোথাইরয়েডিজম। এটি হতে পারে অটো এমিনোর কারণে কিংবা থাইরয়েড গ্রন্থিতে কোনো সংক্রমণ বা আয়োডিনের ঘাটতি অথবা থাইরয়েডের কোনো অপারেশন বা থাইরয়েড গ্রন্থিতে রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেওয়ার পর।
২ দিন আগে
রমজান মাসে আমাদের স্বাভাবিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আসে। এ সময় খাওয়াদাওয়ার সময় ও ধরন বদলে যায়। আরও বদলে যায় ঘুমের সময়। এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় শরীরকে। এ জন্য নতুন করে অনেক অভ্যাস তৈরি করতে হয়।
২ দিন আগে