
বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনকে নিয়ে একটি বহুল প্রচলিত গল্প হলো— তিনি নাকি ছোটবেলায় গণিতে দুর্বল ছিলেন, এমনকি অংকে ফেলও করেছিলেন। এই দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, যার ফলে অনেকেই এটিকে সত্য বলে ধরে নেন।
আইনস্টাইন নিজেও এই বিষয়টি শুনে বেশ মজা পেতেন। এই গল্পটি ১৯৩৫ সালের দিকেও প্রচলিত ছিল; তখন প্রিন্সটনের একজন রাব্বি (ইহুদি ধর্মগুরু) আইনস্টাইনকে এই দাবি সংবলিত একটি সংবাদপত্রের কাটিং দেখিয়েছিলেন। সেটি দেখে আইনস্টাইন হেসে উঠেছিলেন এবং বলেছিলেন, ‘পনেরো বছর হওয়ার আগেই আমি ডিফারেনশিয়াল এবং ইন্টিগ্রাল ক্যালকুলাসে দক্ষতা অর্জন করেছিলাম।’ । সাধারণত একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্তরে গিয়ে এই ক্যালকুলাস শেখে, আইনস্টাইন কিশোর বয়সেই আয়ত্ত করেছিলেন।
আইনস্টাইনের গণিত প্রতিভা ছিল জন্মগত। মাত্র ১২ বছর বয়সেই তিনি জ্যামিতি এবং বীজগণিতের জটিল সব নিয়ম নিজে নিজেই শিখে ফেলেন। তিনি একটি জ্যামিতির বইকে ‘পবিত্র জ্যামিতির ছোট বই’ বলে ডাকতেন এবং এক বছরের মধ্যে সেটির সমস্ত উপপাদ্য নিজে নিজে প্রমাণ করেছিলেন। ১৩ বছর বয়সে, যখন অন্য কিশোররা খেলাধুলায় ব্যস্ত থাকে, তখন তিনি বিখ্যাত দার্শনিক ইমানুয়েল কান্টের অত্যন্ত জটিল বই ‘Critique of Pure Reason’ পড়ে শেষ করেছিলেন। তাঁর এই অকালপক্ব মেধা কেবল গণিত নয়, গভীর দর্শনেও তাঁকে অন্যদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে দিয়েছিল।
তাহলে আইনস্টাইনের গণিতে দক্ষতা নিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াল কীভাবে?
আইনস্টাইনের শিক্ষাজীবন একেবারেই মসৃণ ছিল না। ছোটবেলা থেকেই খুব কম কথা বলতেন। শিক্ষকেরা মনে করতেন তিনি বোধহয় পিছিয়ে পড়া ছাত্র। আইনস্টাইন কেন ‘খারাপ ছাত্র’ হিসেবে বদনাম কুড়িয়েছিলেন, তার কারণ ছিল তাঁর বিদ্রোহী মানসিকতাও। তৎকালীন জার্মানির স্কুলগুলোতে কঠোর নিয়মকানুন এবং মুখস্থবিদ্যা চলত, এটা তিনি পছন্দ করতেন না। প্রায়ই শিক্ষকদের পড়ার ধরনে ভুল ধরতেন বা তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়াতেন। একবার গ্রিক ভাষার শিক্ষক বিরক্ত হয়ে তাঁকে বলেছিলেন, ‘তোমাকে দিয়ে জীবনে কিচ্ছু হবে না।’ শিক্ষকদের এই ব্যক্তিগত অপছন্দ এবং তাঁর তর্ক করার প্রবণতাকেই অনেকে পড়াশোনায় দুর্বলতা হিসেবে ভুল বুঝেছিলেন। প্রকৃতপক্ষে, তিনি স্কুলের গণ্ডিবদ্ধ নিয়মের চেয়ে সৃজনশীল চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন।
১৬ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের ETH Zurich বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে অসাধারণ ফল করলেও ভাষা ও ইতিহাসে কম নম্বর পাওয়ায় প্রথমবার সুযোগ পাননি। তবে তাঁর গণিতের দক্ষতায় মুগ্ধ হয়ে কর্তৃপক্ষ তাঁকে আবার সুযোগ দেয়। ফলে ‘ফেল’ করার ঘটনাটি থাকলেও তা গণিতে দুর্বলতার কারণে নয়।
পরবর্তীতে আইনস্টাইন যখন তাঁর বিখ্যাত ‘সাধারণ আপেক্ষিকতা তত্ত্ব’ নিয়ে কাজ করছিলেন, তখন এর জটিল গাণিতিক সমীকরণগুলো সমাধান করতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। তখন তিনি তাঁর বন্ধু গণিতবিদ মার্সেল গ্রসম্যানের সাহায্য নিয়েছিলেন। এটিকেও অনেকে ‘গণিতে দুর্বলতা’ হিসেবে দেখেন, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ওই স্তরের গণিত তৎকালীন খুব কম মানুষের আয়ত্তে ছিল বলে জানা যায়।
মূলত ১৮৯৬ সালে সুইজারল্যান্ডের আরাও স্কুলে পড়ার সময় আইনস্টাইনের ফলাফল নিয়ে বিভ্রান্তির সূত্রপাত হয়। তখন স্কুলটির গ্রেডিং সিস্টেম হঠাৎ পরিবর্তন করা হয়। আগে যেখানে ‘১’ ছিল সর্বোচ্চ নম্বর এবং ‘৬’ ছিল সর্বনিম্ন, নতুন নিয়মে সেটি উল্টে দেওয়া হয়—‘৬’ হয় সর্বোচ্চ এবং ‘১’ সর্বনিম্ন। আইনস্টাইন গণিতে ‘৬’ পেয়েছিলেন, অর্থাৎ সর্বোচ্চ নম্বর। কিন্তু পরবর্তীতে অনেক জীবনীকার এই পরিবর্তনের বিষয়টি না জেনে এই ফলাফল ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেন এবং ধরে নেন তিনি সর্বনিম্ন নম্বর পেয়েছিলেন। এখান থেকেই বিভ্রান্তির শুরু।

তথ্য উপাত্ত পর্যালোচনা দেখা যায়, আইনস্টাইনের শিক্ষাজীবন ও গণিতে দক্ষতা নিয়ে প্রচলিত ধারণার সঙ্গে বাস্তবতার বেশ পার্থক্য রয়েছে। মূলত আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন তাঁর সময়ের একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী গণিতবিদ। তাঁকে নিয়ে প্রচলিত ‘গণিতে ফেল’ করার গল্পটি নিছক একটি অনুপ্রেরণামূলক গল্প বা মিথ ছাড়া আর কিছুই নয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম দেশ হিসেবে কাতার তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
৮ ঘণ্টা আগে
‘ক্ষমা করে দিও আমাদের, আমরা অকৃতজ্ঞ জাতি। তোমার বাড়ির আঙিনায় তোমার উষ্ণ অনুভূতি আর বাঙালিরা পাবে না। বুকের ভিতর রাখা আছো তুমি, তুমি আমার অনুভূতি...
২ দিন আগে
‘যদি কেউ পুলিশ হত্যার জন্য জুলাই যোদ্ধাদের নামে মামলা করে, তাহলে রাজাকার হত্যার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের নামে আমি মামলা করব’—এনসিপি নেতা ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
‘গণভোটের রায় না মানলে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, বিএনপির উচিত হবে সময় থাকতে মেনে নেওয়া’—এই বক্তব্য আলোকচিত্রী ও সমাজকর্মী শহিদুল আলমের দাবিতে একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডে তাঁর ছবিও ব্যবহার করা হয়েছে।
৩ দিন আগে