
করোনাভাইরাসের বুস্টার ডোজ নেওয়ার সময় ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর পাশে বসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনের একটি ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
নেট দুনিয়ায় অ্যাডভান্স সার্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেখা যায়, ছবিটি পোস্ট করে অসংখ্য ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করছেন, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের টিকা নেওয়া উপলক্ষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই ঘটনাস্থলে গেছেন। যে ছবিটি ব্যবহার করা হচ্ছে, তার নিচে ক্যাপশনে সোর্স হিসেবে ‘যুগান্তর’ উল্লেখ করা আছে। অর্থাৎ, দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যাক্টচেক
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতিতে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, গত ১০ জানুয়ারি দৈনিক যুগান্তরের তৃতীয় পাতায় ‘করোনা বাড়লেও লকডাউনের চিন্তা নেই—পররাষ্ট্রমন্ত্রী’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
যুগান্তরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে কি-ওয়ার্ড নিয়ে আরও অনুসন্ধান করলে ঢাকা পোস্ট, বাংলানিউজ২৪সহ মূলধারার আরও বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের অংশ হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
গত ৯ জানুয়ারি রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট হাসপাতালে বিদেশি কূটনীতিকদের টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। উদ্বোধনের প্রথম দিন ভারত, ব্রাজিল, ভ্যাটিকান সিটি, মালয়েশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার টিকা গ্রহণ করেন। কূটনীতিকদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও সেদিন করোনা টিকার বুস্টার ডোজ গ্রহণ করেন।
কেবলমাত্র ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর টিকা গ্রহণকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ড. আব্দুল মোমেনের পাশে উপস্থিত থাকার ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় এবং এর সঙ্গে মনগড়া ক্যাপশন যোগ করায় ফেসবুকের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
সিদ্ধান্ত
ফেসবুকে টিকা গ্রহণকালে ভারতীয় হাইকমিশনারের ও তাঁর সঙ্গে থাকা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর যে ছবি ছড়িয়েছে, সেটি ঢাকায় অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিকদের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনের অংশ। এদিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেও বুস্টার ডোজ নেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম বা যেকোনো মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ছবি, ভিডিও বা তথ্য বিভ্রান্তিকর মনে হলে, তার স্ক্রিনশট বা লিংক কিংবা সে সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আমাদের ই-মেইল করুন। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা— factcheck@ajkerpatrika.com
আরও পড়ুন ফ্যাক্টচেক:

‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
২১ ঘণ্টা আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১ দিন আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
৩ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
৩ দিন আগে