‘দিন কায়েমের শপথ নিন, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’ শীর্ষক একটি মিউজিক ভিডিওতে শাকিব খানের উপস্থিতি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। ‘জামাতের ভাইরাল গানে শাকিব খান’ এমন শিরোনামে ইউটিউবে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে।
ইউটিউবে ভিডিওটি আছে (এখানে) (আর্কাইভ)।
Saan24 নামের ইউটিউবে চ্যানেল থেকে প্রচারিত ভিডিওটি আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা পর্যন্ত ২ লাখ ৫৪ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। রিয়েকশন পড়েছে ৩ হাজার।
অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকা ফ্যাক্টচেক টিম। ভিডিও পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।
প্রথমেই লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রচারিত ভিডিওটির শুরুতে বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল যমুনা টিভির লোগো দেখা গেলেও কয়েক সেকেন্ড পর তা আর দেখা যায় না। এ ছাড়া ভিডিওতে একই ডায়াসে দুই ব্যক্তির সামনে বুমের দুটি স্তূপ দেখা যায়। দুটি স্তূপেরই আকার, আকৃতি ও বুমগুলো একই।
দ্বিতীয়ত, লক্ষণীয় বিষয় হলো ভিডিওটির বেশ কিছু ফুটেজে বক্তব্যরত জামায়াত আমিরের পাশে শাকিব খানকে দেখা যায়। কখনও তিনি আমিরের দিকে তাকিয়ে আছেন, কখনও তর্জনি উঁচিয়ে আমিরকে অনুকরণ করছেন।
ভিডিওতে জামায়াত আমিরকে বক্তব্য দিতে দেখা গেলেও অডিওতে কথা নেই। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন ডায়াসের সামনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার ফুটেজ রয়েছে। সেগুলোতেও বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে। যেমন, একটি দৃশ্যে দেখা যায়, সমাবেশে জনতার দিকে পেছনে ফিরে আমির বক্তব্য দিচ্ছেন। রাজনৈতিক সমাবেশে অবশ্যই জনতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার কথা। আরও দেখা যায়, আমিরের সামনে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের পোশাকের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের ইউনিফর্মের কোনো মিল নেই; বরং তা ভারতের পুলিশের পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। একই সঙ্গে একাধিক ফুটেজে আমির ও শাকিব খানের চেহারায়ও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এ ছাড়া আমিরের পেছনে নাড়ানো পতাকাগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি নির্বাচনী সমাবেশে প্রদর্শিত পতাকার মিল নেই। গানের কথার সঙ্গে সাবটাইটেলের মিল নেই, ডায়াসে লেখা কথাগুলোও স্বাভাবিক নয়।
ভিডিওর একাধিক অংশে ট্রেনের দৃশ্য রয়েছে। কোথাও দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তরুণীদের হাস্যোজ্জ্বল ছবি, কোথাও নাচের দৃশ্য, কোথাও নারী-পুরুষের সম্মিলিত নৃত্য, আবার কোথাও দাঁড়িয়ে পতাকা নাড়ানোর দৃশ্য দেখা যায়, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া কয়েকটি ফুটেজে উল্টোভাবে রোমান হরফে দাঁড়িপাল্লা লেখা, গাড়িতে ভিন্ন দেশের আদলে তৈরি পতাকা, আমির ও সাকিবের চেহারায় অস্বাভাবিক আলোকপাত এবং সমাবেশের দৃশ্য ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করে।
এ ছাড়া অনুসন্ধানে জামায়াতের নির্বাচনী গানটিতে শাকিব খানের উপস্থিতি নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আজকের পত্রিকা ফ্যাক্টচেক টিম এআই কন্টেন্ট শনাক্তকারী প্লাটফর্ম হাইভ মডারেশন (Hive Moderation)-এর সাহায্য নেয়। পরীক্ষায় দেখা যায় যে এই ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।

সর্বশেষ ভিডিওর বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহৃত ফুটেজ, শরীরের ভঙ্গি, দৌড়াদৌড়ি, ভিডিওতে ব্যবহৃত ছবি স্বাভাবিক নয়। এ ছাড়া উপস্থিত দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং পারিপার্শ্বিক দৃশ্যও বাস্তব না, অনেকটা অ্যানিমেটেড। সার্বিক দিক বিবেচনায় এটি স্পস্ট যে, জামায়াতের ভাইরাল গানে শাকিব খান দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।

‘শুধুমাত্র শিবিরকে ভালো লাগার কারণে যদি আমায় ছাত্রদল থেকে বহিষ্কারও করে, তাতেও আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সর্বদা ইনসাফের পক্ষে’—শেখ তানভীর বারী হামিমের নামে এমন মন্তব্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েমের নামে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের পরিণতি সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুরাদ হাসান—এর মতো হবে। ফটোকার্ডটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা হয়ে
১৫ ঘণ্টা আগে
‘বাংলাদেশে টিকটক প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার’—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মাহবুব আনামের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রচারিত ফটোকার্ডটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
২ দিন আগে
চলচ্চিত্রে ধূমপানের দৃশ্য থাকলে জাতীয় পুরস্কার নয়—এমন দাবিতে জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠের লোগো সংবলিত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন লেখক ও অ্যাকটিভিস্ট ফাহাম আবদুস সালাম, তাসলিমা নাসরিনসহ অনেকে।
৩ দিন আগে