
‘পাইলট খোঁজার নামে মার্কিন বাহিনী ইরানে প্রবেশ’-এর দৃশ্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে, ইরানের ভেতরে প্রবেশ করে নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন দাবি দ্রুতই ব্যবহারকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।
এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)। ইউটিউবে ভিডিও আছে এখানে।

‘MD.jowel 001’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ৫ এপ্রিল সকার ১০টা ৪২ মিনিটে আলোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। আলোচিত দাবিতে এটিই সম্ভাব্য প্রথম পোস্ট এবং সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ওই পেজে শেয়ার করা ভিডিওটি ৭ এপ্রিল সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৬৩ লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে ১ লাখ ২০ হাজার রিয়েকশন ও ১ লাখ ১ হাজার কমেন্ট রয়েছে। এ ছাড়া পোস্টটি ২৫ হাজারের ভেশি শেয়ার করা হয়েছে। ভাইরাল পোস্টের কমেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবহারকারী ভিডিওটি সত্য মনে করেছেন।

আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওর শিরোনামে বাংলায় লেখা রয়েছে—‘নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে ইরানের সীমান্ত এলাকায় মার্কিন কমান্ডো বাহিনী প্রবেশ’। তবে ভিডিওটিতে কোনো সূত্র বা প্রেক্ষাপট উল্লেখ করা হয়নি।
১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে সারিবদ্ধভাবে কিছু সেনা সদস্যকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। এ ছাড়া ভিডিওতে বাংলা ভাষায় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘পাইলটকে উদ্ধারের নামে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সীমানা দিয়ে মার্কিন বাহিনী ঢুকে পড়েছে। বন্ধুরা, কী হতে যাচ্ছে তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে? যুদ্ধের পরিধি আরও ব্যাপক আকার ধারণ করছে। নজর রাখুন মধ্যপ্রাচ্যে।’
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে অনুসন্ধানে নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনীর অভিযানের প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া গেলেও অভিযানের কোনো ছবি বা ভিডিও পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটির কয়েকটি দৃশ্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ‘Zafar Khan’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পোস্ট করা একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ভাইরাল ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

এ ছাড়া ‘Måj Älî Jûtt’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ মার্চ এবং ‘saleh.salahuddin7’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ মার্চ একই ভিডিও পোস্ট করা হয়।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে সিএনএন আরবির একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৫ এপ্রিল প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ৯ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে মার্কিন স্থলবাহিনী ইরানের সীমান্তে প্রবেশ করেছে। তবে সিএনএন-এর ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি মূলত বর্তমান সামরিক পরিস্থিতির কোনো ফুটেজ নয়, বরং এটি অন্তত গত জানুয়ারি মাস থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভিডিওটির মূল ও দীর্ঘ সংস্করণটিতে দেখা যায়, সৈন্যরা যখন এলাকাটি অতিক্রম করছে, তখন পাশে কিছু শিশু ক্রিকেট খেলছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি থেকে সচেতনভাবে ক্রিকেট খেলার অংশটি কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে যাতে এটিকে যুদ্ধের ময়দান বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। ভিডিওটির ভৌগোলিক অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এটি ইরানের কোনো এলাকা নয়, বরং পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের কোনো দৃশ্য।
উল্লেখ্য, ৩ এপ্রিল ইরান একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করলে একজন ক্রু নিখোঁজ হন। পরে সেই ক্রুকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে। সেই ক্রুকে উদ্ধারের দাবি করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত দুটি বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
‘পাইলট খোঁজার নামে মার্কিন বাহিনী ইরানে প্রবেশ করেছে’—এমন দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুরোনো।

‘ইসরায়েলের পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর উপর হামলা’ ক্যাপশনে Nizam Uddin নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে আলোচিত দাবিতে ৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
অবশেষে একটা সুখবর পেলো আওয়ামী লীগ, ৬০ দিনের মধ্যে ফিরতে চলেছে আওয়ামী লীগ, ভারত ছেড়ে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
১ দিন আগে
নরসিংদীর মাদরাসাতুল আবরার আল আরাবিয়া মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলম এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীর মন্তব্য দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই পেজ থেকে আলাদা আলাদা ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে।
২ দিন আগে