Ajker Patrika

জুমের ধান কাটার ধুম

বদরুল ইসলাম মাসুদ, বান্দরবান
আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১২: ২২
জুমের ধান কাটার ধুম

বান্দরবানের পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে জুমের জমিতে ধান পেকে সোনালি রং ধারণ করেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী-পুরুষেরা এখন দলবেঁধে ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার জুমের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি অধিদপ্তর।

বান্দরবানে নাইক্ষ্যংছড়ি ছাড়া বাকি ৬ উপজেলায় বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস জুমের ফসল। জুমে উৎপাদিত ধান নিজেদের সারা বছরের জন্য রেখে অবশিষ্টটা বাজারে বিক্রি করে পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন তাঁরা।

বান্দরবানের সেপ্রু মৌজার হেডম্যান মংথোয়াই ম্রয় জানান, প্রতিবছর এপ্রিল মাসের শেষের দিকে জুমে চাষের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বীজ বপনের পর প্রায় ৩-৪ মাস পরিচর্যার পর সেপ্টেম্বরের শেষদিক থেকে জুমের ধান কাটা শুরু হয়। নভেম্বর পর্যন্ত এই ধান কাটা চলে।

মংথোয়াই ম্রয় বলেন, চাষের সময় পাড়ার লোকজন জুম পাহাড়ে গিয়ে বসতি গড়ে তোলেন। তবে কাছে হলে বাড়িতে থেকেই যাতায়াত করে জুমচাষ করেন। ফসল তোলার সময় আবারও জুমচাষের কাছে অস্থায়ী মাচাং ঘর বানিয়ে থাকেন। ফসল তুলে ফেরেন।

সরেজমিন বান্দরবান-চিম্বুক সড়কের গ্যৎশিমনিপাড়া, সাত মাইল, নয় মাইল, বারো মাইল, টংকাবতীর চিনিপাড়া, রঞ্জুপাড়া, হেডম্যানপাড়া, যামিনীপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে পাহাড়ে জুমের জমির ধান পেকে আছে। জুমিয়ারা সেখানে ফসল কাটছেন। বিশেষ করে নারীরা ধান কাটেন, আর পুরুষেরা সেগুলো বহন করে এক স্থানে জড়ো করেন। পরে উভয় মিলে ধান মাড়াই করেন।

বান্দরবান সদর উপজেলার ওই সব এলাকা ম্রো জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত। তাই সেখানে ম্রো জনগোষ্ঠীর লোকজন জুমচাষ করেন বলে জানা গেছে। সদর উপজেলার নয় মাইল নামক এলাকার জুমচাষি পাইরেং ম্রো বলেন, বাংলা মাসের হিসেবেই সাধারণত জুমের ফসল চাষাবাদ করা হয়। শীত মৌসুমের পৌষ-মাঘ (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) মাসে জুমের জমির জঙ্গল-আগাছা পুড়িয়ে পরিষ্কার করেন। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-মে) মাসে জুমের জমিতে গর্ত করে ধান, ভুট্টা, কুমড়া, মারফা, পাহাড়ি তুল, গাঁদা ফুল, মেশতা (টক গাছ) সহ বিভিন্ন ফসল চাষ শুরু করেন। আর কার্তিক-অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) মাসে জুমের ফসল তোলেন।

পাইরেং ম্রো, প্লুকান ম্রো, মিনু ম্রোসহ কয়েকজন জুমিয়া বলেন, সাধারণ এক পাহাড়ে একবার জুমের চাষ করলে পরের বছর সেই পাহাড় আর চাষ করেন না। তবে বর্তমানে মানুষ বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ে কমে গেছে। তাই কেউ কেউ একই পাহাড়ের পরের বছরও চাষ করেন। তবে ফলন কিছুটা কম পাওয়া যায়।

বান্দরবান কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর বান্দরবান জেলায় ৮ হাজার ৯৭৮ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে ধানের আবাদ করা হয়েছে। এ বছর ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৬০ টন। গত বছর ৯ হাজার ২০ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে জুমচাষ করা হয়ে ছিল। গতবার ফল উৎপাদন হয়েছে ১৭ হাজার ১৩৮ টন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক বলেন, এ বছরে এক নাগাড়ে বৃষ্টি না হয়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে জুমের ফলনও ভালো হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ফলন বেশি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত