স্বপ্না রেজা
ছোটবেলায় হাসির কমিকস, গল্প পড়তে কিংবা ছবি দেখতে মনটা ব্যাকুল থাকত। বয়সের একটা সময় এসে হুমায়ূন আহমেদ, মমতাজ উদদীন ও আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকতাম; বিশেষ করে সেই নাটকগুলো যদি ঈদের বিশেষ আয়োজন হিসেবে দর্শকদের সামনে আসত। মন খুলে হাসতে পারার একটা কৌশল থাকত নাটকে ও নাট্যকারদের লেখায়। অদ্ভুত সব বিষয় অথচ বড় বাস্তব এমন সব ঘটনাকে তাঁরা এমনভাবে লেখনীর মাধ্যমে, নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করতেন যে দারুণ ভালো লাগা নিয়ে না হেসে পারা যেত না। প্রাণ খুলে হাসতে পারার অদ্ভুত সব নাটক আর তার সংলাপ। সেই সঙ্গে চির সত্য বিষয়গুলো যা সচরাচর মানুষ মনে করে না, ভুলেও বলে না, সেই সব চোখের সামনে ভেসে উঠত। বিনোদনের সীমায় কীভাবে দর্শক-শ্রোতা বিলীন হতো, নাটকগুলো ছিল তার এক একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ।
টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি হয়েছিল কিছু কমেডিয়ান ক্যারেক্টার। টেলি সামাদ, আনিস, হাসমত ছিলেন তেমনই বাংলাদেশের প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা। পর্দার পাশাপাশি লোকমুখে সেই নাম উচ্চারিত হওয়ামাত্রই ভক্তরা হেসে উঠতেন। আর বিদেশি ছবির মধ্যে আছে থ্রি স্টুজেস, মিস্টার বিন কিংবা চার্লি চ্যাপলিন। বাচ্চাদের পাশাপাশি বড়দের হাসির খোরাক জোগায় এমন সব ছবি। যা হোক, মানবজীবনকে বেঁচে থাকার জন্য নানান সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জীবন-জীবিকার কঠিন সময় ও সংঘাত পেরিয়ে মানুষ তার গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, পৌঁছায়। জীবনের সফলতার স্বাদ পেয়ে যায় কেউ কেউ। কেউবা ব্যর্থতার ভারে ম্লান হয়, বিপন্ন হয়। সুখ আর দুঃখের এমন অবস্থায় বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে হাসির, যা কান্নার ভার কমায়, হালকা করে। মানসিক শান্তির বন্ধ জানালা খুলে দেয়। প্রমাণিত সত্য, হাসি ভালো থাকার এক অন্যতম চর্চা। হৃদ্যন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র ভালো থাকে। হাসতে পারার মধ্য দিয়ে ভেতরের জমে থাকা দুঃখ-কষ্ট বেরিয়ে আসে। নিখাদ হাসি, নির্মল হাসি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ওষুধের চেয়েও মূল্যবান ও রাসায়নিক বিষমুক্ত।
এখনকার সত্য অবশ্য অন্য খানে, অন্যভাবে। আর সেটা হলো, মানুষ এখন ওই সব নাটক বা চলচ্চিত্র দেখে হাসে না। মূলত ওই সব দেখে হাসার সৌভাগ্য এখন আর হয় না। মানুষের হাসি তাই এখন নিখাদ বা নির্মলও হয় না। মানুষ এখন হাসে অন্য কারণে, যে কারণটা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা জানেন এবং সবাই এক তাল-লয়ে হাসেন। কতটা অযৌক্তিক বা ভুল বলা হবে যে সবাই এখন এক কাতারে হাসেন কতিপয় মন্ত্রী-মিনিস্টারের কথায় এবং তাঁদের আচরণে। কী বলতে কী বলে ফেলেন, কী বললে কী মানে দাঁড়িয়ে যায়, সেই সব না হিসাব কষে তাঁরা যা বলেন, তাতেই জাতি-মনে হাসির উদ্রেক জাগে। যদিও এই হাসি অত্যন্ত কষ্টের, হতাশার। এমন ঘটনা কিন্তু কম নয়।
সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর আত্মীয়ের বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়া নিয়ে মন্ত্রীর কথায় হাসির উদ্রেক যেমন হয়েছে, তেমনি ঘটেছে বিস্ময়কর হতাশার একটি নির্লজ্জ ঘটনা। উল্লেখ করা হয়েছে, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। কারণ ছিল ৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাগামী আন্তনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে তিন যাত্রী বিনা টিকিটে এসি কেবিনের সিট দখল করেছিলেন। কর্তব্যরত টিটিই শফিকুল ইসলাম তাঁদের টিকিট দেখতে চাইলে তাঁরা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে জানান। মন্ত্রীর আত্মীয় তাই বিষয়টি শফিকুল ইসলাম পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। কর্মকর্তা সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে টিকিট কাটার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী টিটিই ওই তিন যাত্রীকে এসির টিকিটের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০ টাকা নিয়ে জরিমানাসহ সুলভ শ্রেণির নন-এসি কোচে দেন। ব্যস, ঘটনা জটিল আকার ধারণ করে বসল। রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে কথা। ছেড়ে দেবে টিটিইকে, তা কী হয়! মোটেও তা নয়। ওই তিন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনে লিখিত কোনো অভিযোগ না করে ঢাকায় পৌঁছে টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ করে বসলেন। শফিকুল ইসলামের দুঃসাহস (!) দেখে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতেই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের আদেশ দিলেন। ডিসিওর নিজের চাকরি তো রক্ষা করতে হবে। জানা গেল তাঁরা ছিলেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়। সরকারি চাকুরেদের অনেকেই মনে করেন যে মন্ত্রীদের স্ত্রীদের আছে আধা মন্ত্রিত্ব। অনেকটা নিজস্ব নিয়মে তাঁরা এ ধরনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। চলনে, বলনে, ভাবে ও ক্ষমতা প্রয়োগে অনেকটা তেমনই দেখায় বলে অনেকেই তা মনে করতে বাধ্য হন। অনেকেই কৌতুক করে বলেন, মন্ত্রীর পিএস, এপিএসদের কেউ কেউ ম্যাডামের দায়িত্ব পালনেই সদা ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের খুশি করে চলেন। এটা নতুন নয়, বহু পুরোনো সংস্কৃতি। যা-ই হোক, পত্রিকায় প্রকাশিত একঝলক সংবাদে বলা হলো, রেলমন্ত্রী বলেছেন যে তাঁর বিয়ের বয়স মাত্র নয় মাস, তাই তিনি তাঁর আত্মীয়দের চিনতে পারেননি। ঠিকই তো বিয়ের মাত্র নয় মাসে কি নতুন আত্মীয়দের চেনা যায়? মোটেও যায় না। আবার পরিবার বড় হলে তো কোনো কথাই নেই। মন্ত্রিত্বের ব্যস্ততা, রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার পর নতুন কুটুমকে চেনার সময় থাকে না। মন্ত্রী মহোদয় যদি সত্যি এভাবে কথাটা বলে থাকেন, তাহলে বলতেই হয় যে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ার ঘটনাটি তাঁর কথায় রম্যরচনায় পরিণত হয়েছে। জনগণ হেসেছে অতীতের মতো। অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, চিনতে পারলে কী হতো, আর না চিনতে পারায় কী হলো। খেটে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে যখন দেখা যায় ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় ট্রেনের টিকিটের জন্য রাতের পর রাত কমলাপুর রেলস্টেশনের মেঝেতে শুয়ে-বসে অপেক্ষমাণ থাকছেন, তখন এ-জাতীয় কথায় হতাশার মাঝে হাসি বেরিয়ে আসে, যা মোটেও নির্মল হাসি নয়। সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পেলে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো তাঁদের মুখে হাসি ফোটে, এই হাসি কিন্তু সেই হাসি নয়, এই হাসি বড় নির্মল, সুখের। এমন পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রীর নব্য আত্মীয়ের বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে।
একজন রসিক মানুষ বলছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় মন্ত্রীদের জন্য একটি শুভ মন্ত্রণালয়। এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের শুভ পরিণয়ের সম্ভাবনা থাকে। যা-ই হোক, ঘটনা নিয়ে সরকারের ভেতর অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, কথিত আত্মীয়দের রেলমন্ত্রীর না চেনার তথ্য সঠিক। তিনি আরও বলেন, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন নয়। বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়ার ঘটনা নতুন বা এই প্রথম নয়; বরং এমন পরিচয় দিয়ে মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিকদের অনেক আত্মীয়স্বজন অনেক ধরনের সুবিধা ভোগে এগিয়ে আছেন, এগিয়ে থাকছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে মন্ত্রীর চেয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনই বেশি ক্ষমতাধর, তাঁরাই মন্ত্রণালয় চালান।
পরিশেষে বলব, অহেতুক হাসির খোরাক না পাক জনগণ। মন্ত্রীরা সেই বিষয়ে অধিক সতর্ক হবেন আশা করি। তাঁদের সহধর্মিণীরা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত না পৌঁছান, অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত দেওয়ার অতি-আধুনিকতা না দেখান। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে তাঁদের দায়িত্ব সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগতভাবে এবং নির্ভয়ে পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি যেন প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে।
ছোটবেলায় হাসির কমিকস, গল্প পড়তে কিংবা ছবি দেখতে মনটা ব্যাকুল থাকত। বয়সের একটা সময় এসে হুমায়ূন আহমেদ, মমতাজ উদদীন ও আমজাদ হোসেনের লেখা নাটক দেখার জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকতাম; বিশেষ করে সেই নাটকগুলো যদি ঈদের বিশেষ আয়োজন হিসেবে দর্শকদের সামনে আসত। মন খুলে হাসতে পারার একটা কৌশল থাকত নাটকে ও নাট্যকারদের লেখায়। অদ্ভুত সব বিষয় অথচ বড় বাস্তব এমন সব ঘটনাকে তাঁরা এমনভাবে লেখনীর মাধ্যমে, নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করতেন যে দারুণ ভালো লাগা নিয়ে না হেসে পারা যেত না। প্রাণ খুলে হাসতে পারার অদ্ভুত সব নাটক আর তার সংলাপ। সেই সঙ্গে চির সত্য বিষয়গুলো যা সচরাচর মানুষ মনে করে না, ভুলেও বলে না, সেই সব চোখের সামনে ভেসে উঠত। বিনোদনের সীমায় কীভাবে দর্শক-শ্রোতা বিলীন হতো, নাটকগুলো ছিল তার এক একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ।
টিভি নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি হয়েছিল কিছু কমেডিয়ান ক্যারেক্টার। টেলি সামাদ, আনিস, হাসমত ছিলেন তেমনই বাংলাদেশের প্রখ্যাত কৌতুক অভিনেতা। পর্দার পাশাপাশি লোকমুখে সেই নাম উচ্চারিত হওয়ামাত্রই ভক্তরা হেসে উঠতেন। আর বিদেশি ছবির মধ্যে আছে থ্রি স্টুজেস, মিস্টার বিন কিংবা চার্লি চ্যাপলিন। বাচ্চাদের পাশাপাশি বড়দের হাসির খোরাক জোগায় এমন সব ছবি। যা হোক, মানবজীবনকে বেঁচে থাকার জন্য নানান সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। জীবন-জীবিকার কঠিন সময় ও সংঘাত পেরিয়ে মানুষ তার গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করে, পৌঁছায়। জীবনের সফলতার স্বাদ পেয়ে যায় কেউ কেউ। কেউবা ব্যর্থতার ভারে ম্লান হয়, বিপন্ন হয়। সুখ আর দুঃখের এমন অবস্থায় বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে হাসির, যা কান্নার ভার কমায়, হালকা করে। মানসিক শান্তির বন্ধ জানালা খুলে দেয়। প্রমাণিত সত্য, হাসি ভালো থাকার এক অন্যতম চর্চা। হৃদ্যন্ত্র, শ্বাসতন্ত্র ভালো থাকে। হাসতে পারার মধ্য দিয়ে ভেতরের জমে থাকা দুঃখ-কষ্ট বেরিয়ে আসে। নিখাদ হাসি, নির্মল হাসি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ওষুধের চেয়েও মূল্যবান ও রাসায়নিক বিষমুক্ত।
এখনকার সত্য অবশ্য অন্য খানে, অন্যভাবে। আর সেটা হলো, মানুষ এখন ওই সব নাটক বা চলচ্চিত্র দেখে হাসে না। মূলত ওই সব দেখে হাসার সৌভাগ্য এখন আর হয় না। মানুষের হাসি তাই এখন নিখাদ বা নির্মলও হয় না। মানুষ এখন হাসে অন্য কারণে, যে কারণটা শিশু থেকে শুরু করে বয়স্করা জানেন এবং সবাই এক তাল-লয়ে হাসেন। কতটা অযৌক্তিক বা ভুল বলা হবে যে সবাই এখন এক কাতারে হাসেন কতিপয় মন্ত্রী-মিনিস্টারের কথায় এবং তাঁদের আচরণে। কী বলতে কী বলে ফেলেন, কী বললে কী মানে দাঁড়িয়ে যায়, সেই সব না হিসাব কষে তাঁরা যা বলেন, তাতেই জাতি-মনে হাসির উদ্রেক জাগে। যদিও এই হাসি অত্যন্ত কষ্টের, হতাশার। এমন ঘটনা কিন্তু কম নয়।
সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর আত্মীয়ের বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়া নিয়ে মন্ত্রীর কথায় হাসির উদ্রেক যেমন হয়েছে, তেমনি ঘটেছে বিস্ময়কর হতাশার একটি নির্লজ্জ ঘটনা। উল্লেখ করা হয়েছে, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক শফিকুল ইসলামকে বরখাস্ত করা হয়। কারণ ছিল ৫ মে বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকাগামী আন্তনগর সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে ঈশ্বরদী রেল জংশন থেকে তিন যাত্রী বিনা টিকিটে এসি কেবিনের সিট দখল করেছিলেন। কর্তব্যরত টিটিই শফিকুল ইসলাম তাঁদের টিকিট দেখতে চাইলে তাঁরা রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে জানান। মন্ত্রীর আত্মীয় তাই বিষয়টি শফিকুল ইসলাম পাকশী বিভাগীয় রেলের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেন। কর্মকর্তা সর্বনিম্ন ভাড়া নিয়ে টিকিট কাটার পরামর্শ দেন। পরামর্শ অনুযায়ী টিটিই ওই তিন যাত্রীকে এসির টিকিটের পরিবর্তে ১ হাজার ৫০ টাকা নিয়ে জরিমানাসহ সুলভ শ্রেণির নন-এসি কোচে দেন। ব্যস, ঘটনা জটিল আকার ধারণ করে বসল। রেলমন্ত্রীর আত্মীয় বলে কথা। ছেড়ে দেবে টিটিইকে, তা কী হয়! মোটেও তা নয়। ওই তিন যাত্রী তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেনে লিখিত কোনো অভিযোগ না করে ঢাকায় পৌঁছে টিটিই শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগ করে বসলেন। শফিকুল ইসলামের দুঃসাহস (!) দেখে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার রাতেই শফিকুল ইসলামকে বরখাস্তের আদেশ দিলেন। ডিসিওর নিজের চাকরি তো রক্ষা করতে হবে। জানা গেল তাঁরা ছিলেন রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর আত্মীয়। সরকারি চাকুরেদের অনেকেই মনে করেন যে মন্ত্রীদের স্ত্রীদের আছে আধা মন্ত্রিত্ব। অনেকটা নিজস্ব নিয়মে তাঁরা এ ধরনের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। চলনে, বলনে, ভাবে ও ক্ষমতা প্রয়োগে অনেকটা তেমনই দেখায় বলে অনেকেই তা মনে করতে বাধ্য হন। অনেকেই কৌতুক করে বলেন, মন্ত্রীর পিএস, এপিএসদের কেউ কেউ ম্যাডামের দায়িত্ব পালনেই সদা ব্যস্ত থাকেন। তাঁদের খুশি করে চলেন। এটা নতুন নয়, বহু পুরোনো সংস্কৃতি। যা-ই হোক, পত্রিকায় প্রকাশিত একঝলক সংবাদে বলা হলো, রেলমন্ত্রী বলেছেন যে তাঁর বিয়ের বয়স মাত্র নয় মাস, তাই তিনি তাঁর আত্মীয়দের চিনতে পারেননি। ঠিকই তো বিয়ের মাত্র নয় মাসে কি নতুন আত্মীয়দের চেনা যায়? মোটেও যায় না। আবার পরিবার বড় হলে তো কোনো কথাই নেই। মন্ত্রিত্বের ব্যস্ততা, রাজনৈতিক কর্মতৎপরতার পর নতুন কুটুমকে চেনার সময় থাকে না। মন্ত্রী মহোদয় যদি সত্যি এভাবে কথাটা বলে থাকেন, তাহলে বলতেই হয় যে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ার ঘটনাটি তাঁর কথায় রম্যরচনায় পরিণত হয়েছে। জনগণ হেসেছে অতীতের মতো। অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, চিনতে পারলে কী হতো, আর না চিনতে পারায় কী হলো। খেটে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা মানুষগুলোকে যখন দেখা যায় ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় ট্রেনের টিকিটের জন্য রাতের পর রাত কমলাপুর রেলস্টেশনের মেঝেতে শুয়ে-বসে অপেক্ষমাণ থাকছেন, তখন এ-জাতীয় কথায় হতাশার মাঝে হাসি বেরিয়ে আসে, যা মোটেও নির্মল হাসি নয়। সাধারণ যাত্রীরা টিকিট পেলে হাতে চাঁদ পাওয়ার মতো তাঁদের মুখে হাসি ফোটে, এই হাসি কিন্তু সেই হাসি নয়, এই হাসি বড় নির্মল, সুখের। এমন পরিস্থিতিতে রেলমন্ত্রীর নব্য আত্মীয়ের বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে।
একজন রসিক মানুষ বলছিলেন, রেলপথ মন্ত্রণালয় মন্ত্রীদের জন্য একটি শুভ মন্ত্রণালয়। এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদের শুভ পরিণয়ের সম্ভাবনা থাকে। যা-ই হোক, ঘটনা নিয়ে সরকারের ভেতর অনেকেই বিব্রত হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, কথিত আত্মীয়দের রেলমন্ত্রীর না চেনার তথ্য সঠিক। তিনি আরও বলেন, রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর কথায় টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করা সমীচীন নয়। বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে বসে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দেওয়ার ঘটনা নতুন বা এই প্রথম নয়; বরং এমন পরিচয় দিয়ে মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিকদের অনেক আত্মীয়স্বজন অনেক ধরনের সুবিধা ভোগে এগিয়ে আছেন, এগিয়ে থাকছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যে মন্ত্রীর চেয়ে তাঁর আত্মীয়স্বজনই বেশি ক্ষমতাধর, তাঁরাই মন্ত্রণালয় চালান।
পরিশেষে বলব, অহেতুক হাসির খোরাক না পাক জনগণ। মন্ত্রীরা সেই বিষয়ে অধিক সতর্ক হবেন আশা করি। তাঁদের সহধর্মিণীরা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত না পৌঁছান, অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত দেওয়ার অতি-আধুনিকতা না দেখান। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা যাতে তাঁদের দায়িত্ব সুষ্ঠু ও ন্যায়সংগতভাবে এবং নির্ভয়ে পালন করতে পারেন, সে বিষয়টি যেন প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে।
‘দুই দিন আগেই বাড়ি থেকে পাথরঘাটায় চলে এসেছি। এখন পুরোনো জাল সেলাই করছি। এক সপ্তাহের বাজারও করে এনেছি। আজ বিকেলে সাগর মোহনায় যাব, গভীর রাত থেকে জাল ফেলব।’ কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদরের বাইনচটকী এলাকার জেলে হোসেন আলী। গতকাল বুধবার সকালে বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কথা হয় তাঁর...
১২ জুন ২০২৫ভারতের স্থলবন্দর নিষেধাজ্ঞার পর সীমান্তে আটকে থাকা তৈরি পোশাক, খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ট্রাকগুলো ফেরত আনছেন রপ্তানিকারকেরা। তবে যেসব ট্রাক বন্দরে ঢুকে গিয়েছিল, সেগুলো ভারতে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে।
১৯ মে ২০২৫আধুনিক যুগের সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর একটি হচ্ছে গৌতম বুদ্ধের দেহাবশেষের সঙ্গে সম্পর্কিত ঐতিহাসিক রত্নসম্ভার। গতকাল বুধবার হংকংয়ে বিখ্যাত আর্ট নিলাম কোম্পানি সাদাবি’স-এর এক নিলামে এগুলো তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
০৮ মে ২০২৫পাকিস্তানে ভারতের হামলার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চীনও এই হামলাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছে। উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘও। উত্তেজনা যেন আরও না বাড়ে, সে জন্য দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ। এদিকে ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করেছে...
০৮ মে ২০২৫