Ajker Patrika

ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আটকে দিল ভারত

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৬, ২২: ২১
ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী আটকে দিল ভারত
ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের অন্তিম সময়ের অডিও সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। ছবি: সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত পাঁচ বছরের ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রাজাবের মর্মান্তিক কাহিনি নিয়ে নির্মিত অস্কার মনোনীত চলচ্চিত্র ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’ ভারতে প্রদর্শনে বাধা দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড। রাজনৈতিক স্পর্শকাতরতার অজুহাতে চলচ্চিত্রটির মুক্তি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চলচ্চিত্রটির ভারতীয় পরিবেশক।

পরিচালক কাউথার বেন হানিয়ার এই চলচ্চিত্রটি গত সেপ্টেম্বরে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর ২০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে দর্শকদের অভিবাদন পেয়েছিল এবং সেখানে ‘সিলভার লায়ন’ পুরস্কারও জয় করে। তবে ভারতে ছবিটির মুক্তি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

চলচ্চিত্রটির ভারতীয় পরিবেশক সংস্থা ‘জয় বিরাত্রা এন্টারটেইনমেন্টে’র প্রধান মনোজ নন্দওয়ানা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ভ্যারাইটি’কে জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্রের জন্য জমা দিয়েছিলেন। অস্কার অনুষ্ঠানের আগে ৬ মার্চ এটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেন্সর বোর্ডের একজন সদস্য তাঁকে জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেলে ‘ভারত-ইসরায়েল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে’।

নন্দওয়ানা এই যুক্তির বিরোধিতা করে বলেন, ‘ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এতটাই মজবুত যে একটি চলচ্চিত্রের কারণে তা ভেঙে যাবে—এমনটা ভাবা বোকামি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি ও ফ্রান্সের মতো অনেক দেশেই ছবিটি মুক্তি পেয়েছে—যাদের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারতে তবুও এটি সেন্সর করতে চাওয়া হচ্ছে।’

এই সেন্সরশিপের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা ও সংসদ সদস্য শশী থারুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করে বলেন, ‘একটি গণতন্ত্রে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হলো আমাদের সমাজের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিফলন। এর সঙ্গে সরকারের সঙ্গে সরকারের (জি টু জি) সম্পর্কের কোনো সম্পর্ক নেই।’

থারুর আরও যোগ করেন, ‘বিদেশি কোনো দেশ ক্ষুব্ধ হতে পারে—এই আশঙ্কায় চলচ্চিত্র বা বই নিষিদ্ধ করার এই সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এটি একটি পরিপক্ব গণতন্ত্রের জন্য একেবারেই অশোভন ও অনুপযুক্ত।’

চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য হলো পাঁচ বছরের ছোট্ট শিশু হিন্দ রাজাব, যে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার মুখে একটি গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েছিল। গাড়ির ভেতরে থাকা তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ততক্ষণে নিহত হয়েছিলেন। উদ্ধারের আকুতি জানিয়ে হিন্দ রাজাবের সেই অডিও রেকর্ড বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। দীর্ঘ ১২ দিন পর ওই গাড়ির ভেতর থেকে হিন্দের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে উদ্ধার করতে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্সের দুই প্যারামেডিকও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অধীনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি পাওয়ায় এই রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে হয়তো সেন্সর বোর্ড ছবিটি আটকে দিয়েছে। তবে এটিই প্রথম নয়; গত বছরও ভারতের বর্ণপ্রথা ও ধর্মীয় রাজনীতি নিয়ে নির্মিত অস্কার-শর্টলিস্টেড চলচ্চিত্র ‘সন্তোষ’ একইভাবে সেন্সর বোর্ডের বাধার মুখে পড়েছিল, যদিও ছবিটি নির্মাণের সময় সরকারের সব ধরনের অনুমোদন ও প্রণোদনা নেওয়া হয়েছিল।

এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত