
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী রানা তাবাসসুম। তিনি প্রতিটি সেমিস্টারে সিজিপিএ-৪ এর মধ্যে ৪ পেয়েছেন। অসাধারণ একাডেমিক ফলের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়টির ১৭তম সমাবর্তনে তিনি পেয়েছেন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক। সমাবর্তনে বিদায়ী ভাষণ দেওয়ার সুযোগও আসে তাঁর হাতে।
‘ও’ লেভেল এবং ‘এ’ লেভেলে অসাধারণ ফল নিয়ে ব্র্যাকে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিকে অসাধারণ ফলের কারণে প্রথম সেমিস্টারে ব্র্যাক তাঁকে ফুল স্কলারশিপ দিয়েছিল। ব্র্যাকে স্কলারশিপ নবায়ন হয় বিগত সেমিস্টারের সিজিপিএর ভিত্তিতে। তিনি প্রতিটি সেমিস্টারে জিপিএ-৪ ধরে রাখতে পেরেছিলেন। ফলে সব কটি সেমিস্টার তিনি ফুল স্কলারশিপে শেষ করেছেন।
রানা তাবাসসুম বলেন, ‘ব্র্যাকে পড়তে হলে প্রতিটি কুইজ, মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষার জন্য সমান মনোযোগী হতে হয়। কোনো কোর্সে ৯০ শতাংশের নিচে নম্বর পাওয়ার সুযোগ নেই।’ এমন কঠিন টার্গেট নিয়েই তিনি প্রতিটি সেমিস্টার পার করেছেন।
তাবাসসুম মনে করেন, তাঁর সাফল্যের বড় অংশজুড়ে রয়েছে পরিবারের অবদান। বাবা একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার; চাকরির কারণে সংসারে অনেক সময় অনুপস্থিত থাকতেন। তাঁর মা সামলেছেন সংসারের সবকিছু। বড় মেয়ে হিসেবে তাবাসসুমেরও ছিল দায়িত্ব; বিশেষ করে মাকে সহযোগিতা করা। ‘মা আমাকে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছেন’ বলেন তাবাসসুম। পাশাপাশি ফার্মাসি স্কুলের শিক্ষকদের অবদানও তাঁর সাফল্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই তাবাসসুমের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শুরু হয় করোনার মধ্যে। সে সময় বিশ্বজুড়ে মৃত্যু আর অনিশ্চয়তার মাঝেও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছেন। তাবাসসুম বলেন, ‘ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় তখন শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল। সারা দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হয়েছে। সবাই শিক্ষকদের সহানুভূতি পেয়েছে। সব মিলিয়ে এই অভিজ্ঞতা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।’
ছোটবেলায় তাঁর স্বপ্ন ছিল জীববিজ্ঞানী হওয়ার। জীববিজ্ঞানের প্রতি মোহ থেকে পরে আগ্রহ জন্মায় ওষুধ কীভাবে কাজ করে, কোন ওষুধ কী ফল দেয়—এসব জানার প্রতি। সেই আগ্রহই তাঁকে ফার্মাসিতে নিয়ে এসেছে বলে জানান তিনি।
অনেকে জানেন না, ক্লাস সিক্সে একবার অকৃতকার্য হয়েছিলেন তাবাসসুম। সেই ব্যর্থতার স্মৃতি তাঁকে শিখিয়েছে ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস আর স্থিরতা। তিনি মনে করেন, সেই একবারের ব্যর্থতাই তাঁকে ভবিষ্যতে সাফল্যের জন্য আরও প্রস্তুত করে দিয়েছে।

গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে বর্তমানে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করছেন তাবাসসুম; পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের নিয়েও তাঁর ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশে ফার্মাসিস্টদের চাকরির সুযোগ বাড়লেও আরও উন্নতির জায়গা রয়েছে; বিশেষ করে চিকিৎসাব্যবস্থায় প্রতিটি হাসপাতালে ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দেওয়া হলে রোগী সেবায় আরও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
স্নাতকজুড়ে তিনি নিজেকে শুধু পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ রাখেননি; ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ফার্মা সোসাইটিতে (বিইউপিএস) এইচআর ডিপার্টমেন্টের কো-ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করেছেন। এ ছাড়া মেন্টরস কোচিং সেন্টারে ইংরেজি প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বিভিন্ন বয়সের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শেখানো ছিল তাঁর অন্যতম অভিজ্ঞতা।
ফার্মাসি নিয়ে পড়তে আগ্রহীদের তাবাসসুম বলেন, ‘ফার্মাসি খুব সম্মানজনক একটি পেশা, যদিও অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। চাপ না নিয়ে উপভোগ করে পড়তে পারলে এই জার্নিটা অসাধারণ। বিষয়গুলোকে মুখস্থ না করে বুঝে পড়তে হবে। তবেই এই জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। কারণ, পঠিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

চলতি মাসের মধ্যেই নতুন কারিকুলাম (পাঠ্যক্রম) কমিটি গঠন ও সদস্য নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ রোববার মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে...
২০ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জের আর পি সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ ক্লাবের উদ্বোধন ও নতুন কমিটির সদস্যদের বরণ অনুষ্ঠান সম্প্রতি ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুইজ প্রতিযোগিতা ও পাবলিক স্পিকিং পর্বে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
১ দিন আগে
বিশ্বের প্রথম সারির সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম দিকেই রয়েছে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি)। বহু নোবেলজয়ী, বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান থেকে। এলিট এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অনেক শিক্ষার্থীরই জীবনের একটি দুর্লভ সুযোগ।
১ দিন আগে
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইউজিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্বগ্রহণ করেছেন অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। ১৪তম চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি তার দায়িত্বগ্রহণের দেড় বছর পূর্ণ করেছেন। দায়িত্বগ্রণের পর থেকে দেশের উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে বেশকিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
১ দিন আগে