
জুনের সেন্ট পিটার্সবার্গে রাত নামে না। ঘড়িতে রাত ১১টা, অথচ আকাশে তখনো গোধূলির আলো। নেভা নদীর জলে ছড়িয়ে পড়ে সোনালি আভা। মানুষের কোলাহল থামে না, শহর জেগে থাকে এক অনন্য আলোয়। এই ‘সাদা রাতের’ শহরেই বসেছিল ২০২৬ সালের সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক ফোরাম (এসপিআইইএফ)।
গত ৩১ মে ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলাম রাশিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গের উদ্দেশে। ‘নিউ জেনারেশন’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি একাডেমিক প্রতিনিধিদল
এই ফোরামে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। তাঁরা হলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সৈয়দ রায়হান উল ইসলাম এবং ড. মো. আবদুল কবিল খান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মো. তওহিদ বিন শাফি এবং সাকিব আসাদ খান এবং ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ থেকে আমি ড. বারেক কায়সার। ৭ দিনের এই সফর ছিল দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বকে কাছ থেকে দেখার এক বিরল অভিজ্ঞতা।
এবারের ফোরামে ১৪২টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। সশরীরে উপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। অস্থির ও বিভক্ত এক বিশ্বে কীভাবে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়—এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করেই ছিল আলোচনা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধিদলও এই ফোরামে অংশ নেয়। জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রিয়ার মতো পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি ব্রিকসভুক্ত দেশ, সৌদি আরব ও গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিরাও একই আলোচনার টেবিলে ছিলেন। এতে স্পষ্ট হয়েছে, আদর্শিক বিভাজনের চেয়ে বাস্তবসম্মত সংলাপের প্রয়োজনীয়তা এখন আগের চেয়ে বেশি। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বাস্তবসম্মত সংলাপই স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ’। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
বর্তমান বিশ্ব একসঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত বৈষম্য এবং ভূরাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি। এসব সমস্যার কোনোটি এককভাবে কোনো দেশের নয়, আবার সমাধানও এককভাবে সম্ভব নয়। ফোরামের বিভিন্ন অধিবেশনে বারবার উঠে এসেছে একটি বার্তা—টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে হলে সহযোগিতার বিকল্প নেই।
রাশিয়া-পশ্চিমা টানাপোড়েনের প্রভাব বাংলাদেশের মতো দেশও অনুভব করেছে। গম আমদানি, সারের দাম এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে জটিলতা তার উদাহরণ। অথচ এসব দ্বন্দ্বে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যক্ষ ভূমিকা নেই। তাই বিকল্প আর্থিক নিষ্পত্তিব্যবস্থা, স্থানীয় মুদ্রায় বাণিজ্য এবং সরবরাহব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণ নিয়ে আলোচনাগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাশিয়া সফরের সময় দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক হয়। আলোচনা হয় উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থী বিনিময় নিয়ে। রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ডলার। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট শিগগির জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমবাজার, ওষুধ এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার আলোচনা হয়েছে। ফোরামের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়; কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও শিল্প উৎপাদনে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। রাশিয়া, চীন, ভারত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলো জাতীয় পর্যায়ে এআই কৌশল বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে? দেশে এখন ১২ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সক্রিয় দেশ। কিন্তু এই বিশাল ডিজিটাল উপস্থিতিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের শক্তিতে রূপান্তর করতে আমরা কতটা সফল? ফোরামে অংশ নিয়ে উপলব্ধি করেছি, যেসব দেশ ডিজিটাল রূপান্তরকে গুরুত্ব দিয়েছে, তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করছে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে, স্বাস্থ্যসেবা সহজ করতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে। অন্যদিকে পিছিয়ে থাকা দেশগুলো আরও পিছিয়ে পড়ছে। প্রযুক্তিগত ব্যবধান দিন দিন বাড়ছে।
তবে ফোরামের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ছিল অন্য জায়গায়। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ, ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অবস্থান—সবকিছুর পরও তাঁরা একই ছাদের নিচে বসে কথা বলেছেন। মতভেদ ছিল, কিন্তু সংলাপ বন্ধ হয়নি। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু সুরক্ষা, খাদ্যনিরাপত্তা এবং প্রযুক্তির ন্যায্য বণ্টনের মতো বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে শুধু ঘোষণাপত্র যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আন্তরিক সহযোগিতা। সেখানে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোরও সমান কণ্ঠস্বর থাকা জরুরি।
এআই যদি শুধু ধনী দেশগুলোর সম্পদ হয়ে থাকে, তবে বৈষম্য বাড়বে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যদি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ থাকে, তবে গণতন্ত্র দুর্বল হবে। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যদি সংলাপের বদলে বিভাজনের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তাহলে সমাজ আরও খণ্ডিত হবে।
বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল যুগের সবচেয়ে বড় শক্তি। তারা বৈশ্বিক বাজারে কাজ করছে, নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছে এবং নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ এবং উদ্ভাবনের সুযোগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি ও ৬৭টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পাঁচটি ও নৌবাহিনী পরিচালিত একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সেনা ও নৌবাহিনী পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) অধিভুক্ত। এ ছাড়া ঢাকায় আর্মড ফোর্সেস মেডিকেল
৯ ঘণ্টা আগে
শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
১৩ ঘণ্টা আগে
দেশের শিক্ষা খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে রেকর্ড বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান বা ‘লার্নিং আউটকাম’ এখনও আশানুরূপ পর্যায়ে পৌঁছেনি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
১৪ ঘণ্টা আগে
ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এই বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে আয়োজিত হচ্ছে। এবারের আসরে রেকর্ডসংখ্যক ৪৮টি দল এবং ১০৪ ম্যাচের এই বিশ্বকাপ ঘিরে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
১৭ ঘণ্টা আগে