Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দর: মামলা-বদলি প্রত্যাহার চান শ্রমিকেরা, আবারও আন্দোলনের শঙ্কা

আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭: ৫৭
চট্টগ্রাম বন্দর: মামলা-বদলি প্রত্যাহার চান শ্রমিকেরা, আবারও আন্দোলনের শঙ্কা
ফাইল ছবি

আমদানি কাঁচামাল ও পণ্য চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে সম্প্রতি চলা আন্দোলনের কারণে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা ও বদলির বিষয় সুরাহা না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন শ্রমিকনেতারা। এতে করে বন্দর নিয়ে আবারও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বন্দরের কাজে গতি ফেরাতে ওই বৈঠকে বেশ কিছু নির্দেশনা দেন তিনি। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, সেখানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি আমিরুল হক ২৪ ঘণ্টায় পণ্য খালাসের ব্যবস্থার দাবি জানান। এ সময় কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন পণ্যের নমুনা পরীক্ষাসহ নানা কারণে একাংশ আমদানি পণ্যের শুল্কায়নে সময় লাগে বলে জানান। সব দিক বিবেচনা করে মন্ত্রী চার দিনের মধ্যে শুল্কায়নের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন।

এদিকে পবিত্র রমজানে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং নিত্যপণ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার একটি ‘স্ট্র্যাটেজিক মিটিং’ করে। এই বৈঠকের পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে। একই দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা আরেকটি বৈঠক করেন। এই বৈঠক থেকে ‘যেকোনো মূল্যে বন্দর সচল রাখার’ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে শিপিং এজেন্ট, কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, বেসরকারি অপডক মালিক সমিতি, ফ্রেইট ফরোয়াড়ার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বন্দর ব্যবহারকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এসব নিয়ে কথা হয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকনের সঙ্গে। তিনি বলেন, সবাই চায় বন্দর সচল রাখতে। তবে বন্দরের শ্রমিকদের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দিয়ে বন্দর সচল রাখা যাবে? তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মোংলা-পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে, বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে—এসব প্রত্যাহার করা না হলে আবারও আন্দোলনে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। গতকাল বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন; কিন্তু বাস্তবায়ন দেখছি না।’

এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে বন্দরের এনসিটি টার্মিনাল বিদেশিদের ইজারা দেওয়াকে কেন্দ্র করে কর্মবিরতিতে যান শ্রমিকেরা। পরে ২ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ১৫ শ্রমিককে বিভিন্ন বন্দরে বদলি করা হয়। এরপর আন্দোলন আরও জোরদার করা হয়। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বন্দর কর্তৃপক্ষও এরপর কঠোর অবস্থান নেয়। শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলাও করা হয়। তবে জাতীয় নির্বাচন ও রোজা উপলক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। শ্রমিক সংগঠন সূত্র জানিয়েছে, তারা আবারও আন্দোলনে যেতে পারে।

বন্দরের শ্রমিকদের মামলা ও বদলি নিয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুকও কোনো মন্তব্য করেননি।

পোর্ট ইউজার্স ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক চেম্বার সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের গতি বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের সমস্যাগুলো সমাধান করা হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত