Ajker Patrika

টাঙ্গাইল: তাঁর কর্মস্থল পানছড়ি চিকিৎসা দেন ধনবাড়ী

  • গাইনি চিকিৎসক থাকার পরও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
  • নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। ফেব্রুয়ারি মাসে দু-এক দিন অফিস করেছেন।
আনোয়ার সাদাৎ ইমরান, টাঙ্গাইল 
টাঙ্গাইল: তাঁর কর্মস্থল পানছড়ি চিকিৎসা দেন ধনবাড়ী

কর্মস্থল খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হলেও সেখানে তাঁকে পাওয়া যায় না। তাঁকে পাওয়া যায় টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে। সিজারিয়ান অপারেশন থেকে শুরু করে সব জটিল অপারেশনে অ্যানেসথেটিস্টের (অবেদনবিদ) দায়িত্ব পালন করে থাকেন তিনি। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে টাকার নেশায় ছুটে বেড়ানো এই চিকিৎসকের নাম মো. তারিকুল ইসলাম তারেক। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে গাইনি বিশেষজ্ঞ থাকার পরও সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এমনকি এসব কারণে গত ২৫ মার্চ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তাতে পাত্তা দেননি তিনি।

ডা. মো. তারিকুল ইসলাম খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) হিসেবে যোগদান করেন ২০২৫ সালের শুরুর দিকে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে যোগদান করায় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের অধিকতর সেবা নিশ্চিত করার জন্য গাইনি বিশেষজ্ঞের চাহিদা দেন। পরবর্তী সময় পানছড়িতে গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়ন করা হয়। অথচ অ্যানেসথেটিস্ট তারিকুল ইসলাম নানা অজুহাতে দিনের পর দিন সেখানে অনুপস্থিত। তাঁর অনুপস্থিতির কারণে এখনো সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ সেবা নিয়মিত চালু করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডা. তারিকুল ইসলামের আগের কর্মস্থল ছিল টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সেখানে তিনি কাজ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ক্লিনিকে অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করতেন। বিষয়টি চরম পর্যায়ে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ তাঁকে মধুপুর থেকে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যানেসথেটিস্ট হিসেবে বদলি করেন। সেখানে যোগদান করেই তিনি প্রথমে বদলিজনিত ছুটির অজুহাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। এরপর পানছড়ি থেকে মধুপুর এসে বিভিন্ন ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পাশাপাশি অজ্ঞানের ডাক্তার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।

মধুপুরের জামালপুর রোডের ডিজিটাল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক মনিরুজ্জামান জানান, তাঁদের চিকিৎসাসেবা কেন্দ্রে বিভিন্ন অপারেশনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে ডা. তারিকুল ইসলাম অ্যানেসথেটিস্টের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাঁদের ডিজিটাল হাসপাতালেও তিনি প্রায়ই অজ্ঞানের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চৌধুরী আউটডোর ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ডা. জহরলাল চৌধুরীও তাঁদের ক্লিনিকে তারেকের অবেদনবিদ হিসেবে কাজ করার কথা জানান।

এ ব্যাপারে ডা. তারেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি পানছড়িতে অফিস করি। তবে অনেক দূরের পথ তো, তাই মাঝেমধ্যে অনুপস্থিত থাকি। আর মধুপুরে আমার সামাজিকতাও রক্ষা করতে হয়।’ পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ পাননি।

ডা. তারেকের দায়িত্ব অবহেলার ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা অনুতোষ চাকমা বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ১৩ জন চিকিৎসক রয়েছেন। এর মধ্যে ডা. তারিকুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা করছেন। মাসে কয়েক দিন দায়িত্ব পালন করেন। নানা অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। ফেব্রুয়ারি মাসে দু-এক দিন অফিস করেছেন। পরে শোকজ করেছি। তিনি শোকজের জবাব না দিয়েই সিভিল সার্জনের কাছে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানতে পেরেছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জামুকা সংশোধনে বিল পাস, জামায়াতের আপত্তি, এনসিপির সমর্থন

নীরবতার চরম মূল্য: ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেভাবে হারিয়ে গেল উপসাগরীয় অঞ্চলে

কর্মস্থল খাগড়াছড়ির পানছড়ি, চিকিৎসাসেবা দেন টাঙ্গাইলের ক্লিনিকে ক্লিনিকে

‘বিসিবিতে স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে রাশনা ইমামকে’

নির্যাতনে স্ত্রীর আত্মহনন, স্বামী গ্রেপ্তার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত