Ajker Patrika

নৈশপ্রহরীদের বেঁধে ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
নৈশপ্রহরীদের বেঁধে ডাকাতি: আন্তজেলা ডাকাত দলের ৫ সদস্য গ্রেপ্তার
আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার দুটি প্রতিষ্ঠানে নৈশপ্রহরীদের বেঁধে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। সোমবার আদালতের মাধ্যমে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা গ্রামের সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২), তাঁর ছেলে হৃদয় হাসান (২৬), শাহজাদপুর উপজেলার বাওসাগরি (বাসামারা) গ্রামের সুজন (৩১), নাটোরের সিংড়া উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১) এবং এনায়েতপুরের গোপরেখী পশ্চিমপাড়া গ্রামের ইমদাদুল হক (৪৩)।

পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং ২০২৬ সালের ২৭ মে উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামের ফেন্সি মিল্ক অ্যান্ড অ্যাগ্রো ফ্যাক্টরিতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনার তদন্তে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসব ঘটনায় দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও ট্রান্সফরমারে ব্যবহৃত তামার তার এবং বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

কামারখন্দ থানা-পুলিশের তথ্যমতে, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের নামে কেনা ছোট পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতেন। পরে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ নিয়ে যেতেন।

কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী বলেন, “শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে রোববার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।”

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সাদেক আলীর বিরুদ্ধে পাঁচটি, হৃদয় হাসানের বিরুদ্ধে সাতটি, সুজনের বিরুদ্ধে ১৩টি, ইমদাদুল হকের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার মধ্যে ডাকাতি, চুরি, ডাকাতির চেষ্টা এবং অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, হৃদয়, সুজন ও ইমদাদুল এর আগে নাটোর সুগার মিল, মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ, গোদাগাড়ী এবং ধামরাই এলাকায় সংঘটিত ডাকাতির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তারা আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওসি হাশমত আলী বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে সাদেক আলী কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নাটোর সুগার মিল, মোহনপুরের কেশরহাট কোল্ড স্টোরেজ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকার একটি পলিথিন কারখানায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত ও অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত